ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৯ °সে


উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশ শ্রীলঙ্কা

উচ্চ-মধ্য  আয়ের দেশ  শ্রীলঙ্কা

তবু ক্রমান্বয়ে

বাড়ছে বাজেট

ঘাটতি

শফিকুর রহমান রয়েল

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর চেয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য বরাবরই একটু ভালো। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে প্রথমে তারাই নাম লিখিয়েছে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশের তালিকায়। নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ থেকে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশে রূপ নিতে তাদের সময় লেগে গেছে অবশ্য একটু বেশিই, প্রায় ২০ বছর। তবে স্বনির্ভরতার বিচারে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির বর্তমান অবস্থাটা কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ। ঘাটতিবিহীন বাজেট তারা শেষবারের মতো পেশ করতে পেরেছিল ১৯৫৫ সালে। ১৯১৮-১৯ অর্থবছরে দেশটির বাজেট ঘাটতি ৫.৫ শতাংশ। অনেক সমালোচকের দৃষ্টিতে ২১ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কা ধীরগতিতে হলেও উত্পাদনভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দৃঢ়ভাবেই সরে গিয়ে খাদ্যসহ কিছু অতি জরুরি সামগ্রীর জন্য গুটিকয়েক দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যে কারণে তাদের টেকসই উন্নয়ন আজ যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ।

ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনকস্থানে অবস্থান করায় শ্রীলঙ্কায় বৃহত্ সব প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারে ভারত ও চীন রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ঐ দুই দেশের বাদ-প্রতিবাদের মধ্যে যা ঘটছে, তার ফলাফল হলো কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে পর্যাপ্ত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ঘটছে না। সমালোচকরা বলছেন, শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি প্রকৃতপক্ষে এগানোর বদলে পেছাচ্ছে। অতিদক্ষ লোকেরা চলে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ছেড়ে। মাত্র ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষুদ্র অর্থনীতির এ দেশটির অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার মূল্য মাত্র ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে শ্রীলঙ্কার পণ্যের বহির্চাহিদা দেশটির মধ্য মেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য খুবই জরুরি। নিম্ন উত্পাদনশীলতা, দৃঢ় নীতির অভাব ও বাস্তবায়নের বাধা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের ফলশ্রুতিতে রপ্তানি বাজারে ক্রমাগতই প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। যে কারণে বহির্খাতের নৈপুণ্য বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাটা তাদের জন্য আজ অত্যন্ত জরুরি। শ্রীলঙ্কার মোট বাণিজ্য ঘাটতির ৪০ শতাংশই ভারতের সঙ্গে।

যথারীতি উচ্চ আমদানি ব্যয়ের প্রতিফলন ঘটিয়ে ২০১৮ সালেও শ্রীলঙ্কার বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রবল। এর কারণ ঘাটতে গিয়ে অনেকে সুশাসনের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন। ক্রমবর্ধিষ্ণু আমদানি ব্যয় গত বছর গিয়ে ঠেকেছিল ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। উচ্চ-মধ্য আয়ের গৌরবের আসনে বসা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাংক নির্দেশিত বিভিন্ন সূচক অনুসারে শ্রীলঙ্কার মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশই দরিদ্র। গত বছর মাথাপিছু জিডিপি ছিল ২২,১৯৫ মার্কিন ডলার, যেটি সিঙ্গাপুরের ছিল ৮৭,৮৩২ মার্কিন ডলার (ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুসারে)। ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৬.৯ বিলিয়ন ডলার, সে জায়গায় আগামী পাঁচ বছরে ঋণ ফেরত দেওয়া বাবদই গুণতে হবে ১৫.৫ বিলিয়ন ডলার।

—ডেইলি মিরর অনুসরণে

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন