ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


যত বেশি লোক তত বেশি অর্থনৈতিক উন্নতি!

যত বেশি লোক তত  বেশি অর্থনৈতিক  উন্নতি!

শফিকুর রহমান রয়েল

মানব ইতিহাসের প্রায় পুরোটা জুড়ে ধরিত্রীর লোকসংখ্যা এতটাই ধীরগতিতে বেড়েছে যে, জনবিশারদদের কেউ কেউ এমন কথাও বলেন, বেশিরভাগ জীয়ন্ত থাকলেও বসুন্ধরার খুব একটা সমস্যা তো হতোই না, উপরন্তু স্থিতিশীল পরিস্থিতি অনুভূত হতো! ১ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ, এ সময়টায় আদম সন্তানের সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৬০০ মিলিয়ন। ইংরেজি ১৮০০ সাল নাগাদ টেনেটুনে ছোঁয়া গিয়েছিল ১ বিলিয়নের মাইলফলক। এরপরই ধরায় ঘটে জনস্ফীতি। প্রথমে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে; পরবর্তীতে বাকি ইউরোপের অধিকাংশে এবং ঘটনাক্রমে এশিয়ায়। ১৯২০ সালের শেষদিকে এসে জনসংখ্যা দাঁড়ায় ২ বিলিয়ন। আরো ১ বিলিয়ন বাড়ে ১৯৬০ সালের কাছাকাছি সময়ে এসে। মোট সংখ্যাটা ৪ বিলিয়ন অতিক্রম করে ১৯৭৫ সালে। তারপর থেকে আজঅব্দি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। পৃথিবী নামক একমাত্র বসবাসযোগ্য গ্রহের অধিবাসী এখন ৭.৬ বিলিয়ন।

বেশিরভাগ দুনিয়ার কাছে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত থাকাটা বোধহয় প্রকৃতির বেশিদিন সহ্য হয়নি। সেই বৃদ্ধির ধারা আবারও পালটে যেতে তেমন একটা সময় লাগেনি। অধিকাংশ অঞ্চলই এখন প্রবল ও অকস্মাত্ বৈপরীত্য প্রত্যক্ষ করছে, তা সে জন্মহারেই হোক কিংবা সাকুল্য জনসংখ্যায়। অনেক রাষ্ট্রে জনসংখ্যার দ্রুত সংকুচিত হওয়া প্রতিহত করছে কেবল একটি বিষয়ই, আর সেটি হচ্ছে মৃত্যুহারের নাটকীয় হ্রাস। পৃথিবীর সর্বত্রই মানুষ আগের চেয়ে বেশিদিন বাঁচছে। এই দোলাচলগুলোকে সামলানো যে কোনো সমাজের জন্যেই সহজ নয়। জনতত্ত্ববিদ পল মোরল্যান্ড তার ‘দ্য তিউম্যান টাইড’ গ্রন্থে এক পর্যায়ে লিখেছেন, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও হ্রাস যেখানেই ঘটুক না কেন, এর অভিঘাত তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। এ দুটো ঘটনার ভিত্তিতে রচিত ইতিহাস কদাচিত্ প্রশংসিত। জনসংখ্যাই যে নিয়তি, এ কথা তিনি সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করতেন না। বস্তুত এ প্রবাদবাক্যটি চালু করার ব্যাপারে ভুলক্রমে ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁেক দায়ী করা হয়। একবিংশ শতাব্দীর দ্রুততার সঙ্গে পালটাতে থাকা জনসংখ্যা নিয়ে লেখা গ্রন্থ ‘এম্পটি প্ল্যানেট’-এর দুই রচয়িতা ড্যারেল ব্রিকার ও জন ইবিসটনও জনসংখ্যাকেই নিয়তি মানতে নারাজ। কিন্তু জনসংখ্যা যে নিয়তির অংশ, তা মানতে কারোরই আপত্তি নেই। প্রথমত পশ্চিমের অর্থনৈতিক উত্থানে ভূমিকা রেখেছে জনসংখ্যা আর এখন বাকি বিশ্বে অবদান রাখলেও তা অপ্রশংসিত। মোট জনসংখ্যার নিশ্চলতার সম্ভাব্য পরিণতি সবারই জানা এবং এর ফলেই আসছে অর্থনৈতিক দীনতা। আসছে দশকগুলোকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা জানা সত্ত্বেও জনসংখ্যার সংকোচনকে প্রায় পুরোপুরিভাবেই এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ, প্রথমে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের কথাই ধরা যাক। ১৮৫০ সালে ২৩ মিলিয়ন লোকের বাস ছিল দেশটিতে, যা কি না তখনকার ফ্রান্সের চেয়ে ১৩ মিলিয়ন কম। এখন যুক্তরাষ্ট্রের লোকসংখ্যা ৩৩০ মিলিয়নের কাছাকাছি। ব্রিটিশ, ডাচ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ও ইতালিয়ান জনসংখ্যা মিলেও এর সমান নয়। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তাদের রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহত্ দক্ষ শ্রমশক্তি। বিভিন্ন পরিমাপেও, যেমন এডাল্ট স্কুলিংয়ের মধ্য বছরেও তারা এগিয়ে। সবচেয়ে উচ্চশিক্ষিত জনসংখ্যাও তাদেরই। ভূগোল ও প্রাকৃতিক সম্পদ ছাড়াও জনসংখ্যাগত সহায়কগুলোই ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যে যথেষ্ট যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কেন সর্বশ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে উত্থিত হলো এবং কেনই বা এখন পর্যন্ত সেই স্থানটি তারা ধরে রেখেছে। তথাপি অতীত নৈপুণ্য ভবিষ্যত্ ভালো ফলাফলের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চীন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা সত্ত্বেও আসল মহাশক্তি প্রতিযোগীদের একটি হয়ে গত কয়েক দশক ধরে টিকে থাকার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কি তারা তাদের বিশাল শ্রমশক্তিকে এড়িয়ে যেতে পারবে?

—ব্লুমবার্গ অনুসরণে

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন