ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
২৩ °সে


পতাকা হাতে ১২৫ দেশে বিশ্বজয়ী পরিব্রাজক নাজমুন নাহার

পতাকা হাতে ১২৫ দেশে বিশ্বজয়ী পরিব্রাজক নাজমুন নাহার

পুরুষতান্ত্রিকতার শিকার হয়ে আজও এদেশের অনেক নারী পুরো জীবন ঘরের চার দেয়ালের ভিতর কাটাতে বাধ্য হন। তবে আশার কথা হলো, ধীরে ধীরে এই অবরোধ হার মানছে নারীশক্তির কাছে। তারই এক দৃষ্টান্ত নাজমুন নাহার। বাংলাদেশি এই নারী এখনো পর্যন্ত লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন বিশ্বের ১২৫টি দেশে! এদেশের কোনো মানুষ এই প্রথম এতগুলো দেশ ভ্রমণ করেছেন। নাজমুন নাহার ১২৫তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেছেন নাইজেরিয়া। তিনি একা একাই পৃথিবীর এতগুলো দেশ ভ্রমণ করেছেন। কখনো সাহারার মরুভূমি, কখনো বিপদসঙ্কুল আফ্রিকান জঙ্গল, আবার কখনোবা সমুদ্রের তলদেশেও গিয়েছেন। নাজমুন নাহার বেশিরভাগ দেশই ভ্রমণ করেছেন সড়কপথে। এ তালিকায় রয়েছে পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিটি দেশ! এছাড়াও তিনি সড়কপথে সফর করেছেন ইউরোপ ও এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ।

২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার প্রথম বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়। সে সময় তিনি ভারতের ভুপালের পাঁচমারিতে যান। এটিই তার জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ! বিশ্বের ৮০টি দেশের ছেলেমেয়ের সামনে তখন তিনি প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই থেকে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার বিশ্ব যাত্রার শুরু। তিনি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে টানা ৩৫টি দেশে ঘুরেছেন। এই ধারাবাহিকতায় ৯৩তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেছেন নিউজিল্যান্ড। ২০১৮ সালে তিনি ৩২টি দেশ সফর করেছেন। ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ঘুরেছেন পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার ১২টি দেশ। ২০১৮ সালের ১ জুন নাজমুন এক শ দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে! তিনি বাংলাদেশের পতাকা হাতে জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী লিভিংস্টোন শহরে অবস্থিত পৃথিবীর বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের ব্রিজের ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে জিম্বাবুয়েতে পৌঁছান! ইতিহাসে তার শততম দেশ ভ্রমণের সাক্ষী হয়ে রইল ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। যে জলপ্রপাতটির অর্ধেক বহমান জাম্বিয়ায়, বাকি অর্ধেক বহমান রয়েছে জিম্বাবুয়েতে। এরপর ২০১৮ সালের অক্টোবরে ১১০তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেন মধ্যে এশিয়ার ইরান। সম্প্রতি ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সড়ক পথে ঘুরেছেন পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশ। এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাহারা মরুভূমি ও উত্তর আটলান্টিকের পাশ ঘেঁষা দেশগুলোর নাম। নাজমুন নাহারের জন্ম ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। পাঁচ বোন, তিন ভাইয়ের মধ্যে নাজমুন সবার ছোট। স্কুুল-কলেজের পাট চুকিয়ে তিনি পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপর সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। ভ্রমণের প্রতি আগ্রহের উত্স নিয়ে নাজমুন নাহার বলেন, ‘ছোটবেলায় বাড়ির পাশের মাঠে পাখি ধরতে চাইলেই পাখি উড়ে যেত আকাশে। তখন মনে হতো আমিও যদি এভাবে উড়তে পারতাম। তখন থেকেই ইচ্ছা, যদি বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারতাম। ছোট থেকেই মানচিত্র দেখলে তাকিয়ে থাকতাম। কোন দেশের সঙ্গে কোন দেশ লেগে আছে তা দেখতাম। কোথাকার মুদ্রার নাম কী, রাজধানী কোনটা—এগুলো দেখে দেখে ভিতরে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতো যে, একদিন বিশ্বভ্রমণে যাব। সেই ইচ্ছাই আজকে আমাকে এখানে নিয়ে আসছে।’ পৃথিবীর ইতিহাসে নাজমুনের মতো এমন নারী বিরল, যিনি এক দেশ থেকে আরেক দেশে হাজার হাজার মাইল বাই রোডে একা একা ভ্রমণ করছেন নিজ দেশের পতাকা হাতে। বুকে তার লাল-সবুজের শিহরণ, দু চোখে তার বিশ্ব, তিনি আমাদের লাল-সবুজের পতাকাকন্যা নাজমুন নাহার। একজন নারী হিসেবে একাই শতাধিক স্বাধীন দেশে ঘুরে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার এই কীর্তিকে সম্মাননা দিয়েছেন জাম্বিয়া সরকারের গভর্নর হ্যারিয়েট কায়েন। জাম্বিয়া সরকারের গভর্নরের কাছ থেকে পেয়েছেন ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ উপাধি। বিশ্বজয়ী পরিব্রাজক এই বাঙালি নারীর স্বীকৃতি এসেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। ‘জাম্বিয়া ডেইলি মেইল’-এর বিশেষ ক্রোড়পত্রে ২০১৮ সালের ৩ জুন প্রকাশিত হয়েছে নাজমুন নাহারকে নিয়ে একটি ফিচার স্টোরি। খ্যাতনামা সাংবাদিক মার্গারেট সামুলেলা তার লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন নাজমুনের জীবনদর্শন, বাংলাদেশের পতাকার সম্মান, ভ্রমণ মাইলফলকের কাহিনি ও মোটিভেশনাল কার্যক্রমের কথা!

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন