ঢাকা সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
২৮ °সে


সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত

সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত

>> হাসিবুল হাসান শান্ত

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনই হচ্ছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। আর যেখানে অনেকেরই গতানুগতিক ধারণা থাকে যে, শেষ বর্ষে এসে একটা ইন্টার্ন বা প্রজেক্ট করতে হবে। কিন্তু সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন ফাতেমাতুল মনীষা। যিনি এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। শিক্ষাজীবনের সঠিক সময়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন নিজের উদ্যমে কিছু করার। যার ফলে প্রতিষ্ঠা পায় সৌন্দর্য শৈলীর ‘পিংক ব্লাশ বিউটি লাউঞ্জ’। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক শেষ করেন মনীষা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হওয়ার আগে থেকেই গোছাতে থাকেন নিজের গড়া বিউটি লাউঞ্জ। ছোটবেলা থেকেই মাকে দেখেছেন কিভাবে এইরকম প্রতিষ্ঠান চালাতে হয়, কর্মীরা সুনিপুণভাবে কিভাবে মানুষকে সাজিয়ে তোলে। সেই থেকেই চিন্তা করেন এই বিষয়ে নিজের উদ্যোগে কিছু করার। মনীষা সাজতে ও সাজাতে ভালোবাসেন। সেই থেকে চলছে তার বিউটি লাউঞ্জের কাজ। যার মধ্যে হেয়ার রিবাইন্ডিং, হেয়ার স্টাইল, হেয়ার কাটিং, মেকওভার, ফেশিয়াল, স্পাসহ সৌন্দর্যশৈলীর আনুষাঙ্গিক বিষয়ে সেবা দিয়ে থাকেন। ভাবলেন যেহেতু এই বিষয়েই কাজ করছেন, তাই এ নিয়ে পড়াশোনাও করা দরকার। তাই তিনি বিউটি কেয়ার নিয়ে একটি কোর্সও সম্পন্ন করেছে। এরমধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে মেকওভার, টিভি শোতে কাজ করছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন বন্ধুুদের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললে অনেকেই সাড়া দেয়নি তখন। কিন্তু তাই বলে হাল ছাড়েননি। মনীষা মায়ের কাছে থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা আর সম্পূর্ণ নিজের উদ্যমে গড়ে তোলেন পিংক ব্লাশ। তিনি বলেন, ‘সাজতে হলে এখন শুধু বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হয় না। এখন নারীরা অনেক স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য সচেতন। বর্তমান বাজারে এইরকম সেবার চাহিদা অনেক।’ আর নিজের ফাইনাল প্রজেক্ট পেপারও জমা দেন তার এই পিংক ব্লাশের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে। মনীষা মনে করেন, যদিও আমাদের দেশে পার্লার বিষয়টিকে একটু বাঁকা চোখে দেখে মানুষ অথবা এটা দিয়ে যে কিছু করা যাবে তাও মানতে নারাজ অনেকে। আর প্রথম অবস্থায় অনেকেই আশ্বস্ত হতে পারতেন না মনীষার ওপর যে, তিনি পারবেন কি না। কিন্তু সেই সময় পাশে ছিল তার পরিবারের সহযোগিতা আর অনুপ্রেরণা। আজ যখন সেইসব লোকজন দুই বছর পরে এখন তাকে দেখছে বলছে এইটা ছিল মনীষার একটি সেরা সিদ্ধান্ত।

বর্তমানে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং সেবাসমূহের চিত্র তুলে ধরছেন। এতে করে শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরে থেকেও অনেক গ্রাহক আসছেন তার এখান থেকে সেবা নিতে। তিনি মনে করেন, ছাত্রজীবনে থাকা অবস্থায় কিছু একটা করা উচিত। কারণ যখন আশপাশের বন্ধুরা কেউ কিছু না কিছু করছে, তখন সে নিজে হতাশায় ভুগবে। তাই যদি নিজে কিছু করা যায় তখন স্নাতক শেষে আর চাকরির জন্য ঘুরতে হয় না, বরং অন্যদের চাকরি দেওয়া যায়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন