ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৭ °সে


ফোর্বসের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’তে

দুই বাংলাদেশি তরুণ

দুই বাংলাদেশি তরুণ

নিজেদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বসের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি ২০১৯’-এ জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের দুই তরুণ হুসেইন এম ইলিয়াস ও আব্দুল্লাহ আল মোর্শেদ। পাঠাও-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন এম ইলিয়াস কনজিউমার টেকনোলজি ও বিগ মানি স্টার্টআপ বিভাগে এবং উন্মাদের সহকারী সম্পাদক কার্টুনিস্ট আব্দুল্লাহ আল মোর্শেদ মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং বিভাগে এ সম্মানের অধিকারী হয়েছেন। গত ৪ বছর ধরে ১০টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে অসামান্য অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩০ বছরের কম বয়সী ৩০ তরুণকে নিয়ে তালিকা প্রকাশ করে আসছে মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস। অনলাইনে মনোনীত দুই হাজারেরও বেশি তরুণের তালিকা বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে ফোর্বস থার্টি আন্ডার থার্টি এশিয়ার তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ করে। প্রাথমিকভাবে এদের থেকে ৫০০ জনকে বাছাই করা হয়। এরপর বিচারক ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তাদের নেতৃত্বগুণের প্রদর্শন, সাফল্যের সম্ভাবনা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত ৩০০ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। তাদের নিয়ে লিখেছেন অনিক চৌধুরী তপু

হুসেইন এম ইলিয়াস

বাংলাদেশের তরুণ হুসেইন এম ইলিয়াস ২০১৫ সালে তার বন্ধু সিফাত আদনানকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ রাইড শেয়ারিং এবং খাবার সরবরাহের অ্যাপভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি শহর এবং নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে মোটরসাইকেল ও গাড়ির মাধ্যমে অ্যাপভিত্তিক এই পরিবহণ সেবা প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকায় প্রতিদিনকার জীবনযাত্রায় সাধারণ জনগণ যে সমস্যার (যানজট সমস্যা) মুখোমুখি হয়ে থাকে, তা দূর করতেই পাঠাও-এর মতো সেবা চালু করার প্রয়োজনবোধ করেন উদ্যোক্তারা। যাত্রার শুরুর দিকে অল্প পরিসরে শুধু বন্ধুদের রাইড শেয়ার দেওয়ার কথা চিন্তা করে তারা এটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। লাভজনক হওয়ায় পরে তারা এর সেবার পরিধি সম্প্রসারণ করেছিলেন। মাত্র তিনটি বাইক নিয়ে যখন পথচলা শুরু করেন, তখন তাদের অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। যেমন :এদেশে মোবাইল ইন্টারনেট কয়জন চালায়? এত বাইক পাওয়া যাবে কোথায়? এত প্রশ্নের মাঝেও দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যান তিনি। তার গড়া প্রতিষ্ঠানের বর্তমান আর্থিক মূল্য ১০ কোটি ডলারেরও বেশি। ২০১৫ সালে তিনটি বাইক নিয়ে যাত্রা শুরু করা পাঠাও বর্তমানে কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে ও সেবা দিচ্ছে কয়েক লাখ লোককে।

আব্দুল্লাহ আল মোর্শেদ

বিশ্বে যুদ্ধ আর সহিংসতা না থাকলে কতটা সুন্দর হতে পারত সেটাই কার্টুনের মাঝে গভীরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আব্দুল্লাহ আল মোর্শেদ। মানুষের দুঃখ দুর্দশার ছবিকে সুখে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি তার ‘দি গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ সিরিজে ১১টি ছবি আঁকেন। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে তার চোখের সামনে চলে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিশ্বের নানা প্রান্তের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ-সংঘাতে আক্রান্ত মানুষের হাহাকারের অসংখ্য ছবি। তখনই তিনি চিন্তা করলেন, এসব কান্নাময় ছবিকে কিভাবে হাসিমুখে পরিণত করা যায়। নেতিবাচক ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে চেষ্টা করলেন এগুলোকে বিভিন্নভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার। বোমার আঘাতে সন্তানকে কোলে নিয়ে দৌড় দেওয়ার ছবিটিকে রূপ দিলেন সন্তানকে কোলে নিয়ে হাসিমুখে সবুজ মাঠে দৌড়ে বেড়ানোর। আঁকা শেষে ফেসবুকে আপলোড দিলে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিরিজের প্রথম ছবি। এ ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে শুরু করে বিশ্বের ২৩টি দেশের ৬০টিরও বেশি গণমাধ্যমে তার এই সিরিজ উঠে আসে। এমনকি কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর এক শিক্ষার্থী আগ্রহ প্রকাশ করেন তার এই সিরিজটির ওপর পিএইচডি করার ব্যাপারে। তিনি এই সিরিজের ছবিগুলোর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যেকোনো যুদ্ধ হলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় সাধারণ মানুষ। এ পৃথিবীর কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষই যুদ্ধ চায় না। সবাই চায় সুখে শান্তিতে বসবাস করতে। অর্থ, বিত্ত, ক্ষমতায় থাকে না সুখ; বরং সুখ থাকে সবুজ মাঠে কন্যাকে কোলে নিয়ে বাবার দৌড়ে বেড়ানো, বাবার বুকে ছেলের ঘুম, ভাইবোন মিলে একত্রে খেলা এইসব ছোট ছোট মুহূর্তের মধ্যে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন