কুইজার্ডস :সাধারণ জ্ঞান চর্চার অন্যতম প্লাটফর্ম

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

>>  মেহেদী হাসান গালিব

 

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। তখন আমাদের দেশে পড়াশোনাটা ছিল একেবারেই জিপিএ ফাইভকেন্দ্রিক। পরীক্ষার ভালো নম্বর পাওয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল আমাদের জ্ঞান অর্জনের গণ্ডি। সতেচন শিক্ষার্থীরা উপলব্ধি করতে পেরেছেন শুধু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পড়াশোনা করে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য প্রয়োজন গতানুগতিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত সাধারণ জ্ঞানের চর্চা করা। বর্তমানে ব্যক্তিগত পর্যায়ের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও শুরু হয়েছে সাধারণ জ্ঞান চর্চার ধারা। সাধারণ জ্ঞান চর্চার এই প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে যে প্ল্যাটফর্ম, তার নাম ‘কুইজার্ডস’।

কুইজের স্টেজে একজন আরেকজন প্রতিপক্ষ হলেও দীপেশ দেওয়ান ও সাজ্জাদ হোসেন মুকিত ছিলেন একে অপরের বেশ ভালো বন্ধু। দুজনই স্কুল-কলেজে কুইজ ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। এরপর ব্যাচেলর’স পড়তে দীপেশ পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায় আর মুকিত ভারতের ব্যাঙ্গালোরে। ২০১৩ সালে পড়াশোনা শেষ করে তারা ফিরে আসেন দেশে। দেশের তরুণ-তরুণীদের জানার পরিধি বৃদ্ধি করতে ও সাধারণ জ্ঞানের চর্চা দেশের প্রতিটি প্রান্তরে ছড়িয়ে দিতে তারা নতুন কিছু করার কথা ভাবতে থাকেন। আর এই ভাবনা থেকেই ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন কুইজার্ডস ডট কো। পরবর্তীতে ২০১৫-১৬ সালে কুইজার্ডসে যোগ দেন বিশ্বামিত্র চৌধুরী ও মাহফুজ সালেকীন বর্ষণ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একেবারেই নতুন একটি উদ্যোগ হওয়ায় শুরুর দিকে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছিল কুইজার্ডসকে। প্রথমদিকে যেমন খুব একটা সাড়া মেলেনি, তেমনিভাবে অর্থনৈতিক দিকটাও ছিল বেশ চিন্তার একটি বিষয়। নিজের জমানো টাকায় ওয়েবসাইটের খরচ একাই বহন করতেন দীপেশ। এরপর বৃত্তির অর্থ পাওয়া শুরু করলে মুকিতও ওয়েবসাইটের খরচে সহযোগিতা করতে শুরু করেন। এসব প্রতিকূলতার মাঝেও পিছু হটেননি তারা। সংগ্রামের মাঝেও বুনেছেন আগামীর স্বপ্ন। অতঃপর ২০১৬ সালে যখন কুইজার্ডস ‘গ্রিন অ্যান্ড রেড’ আয়োজিত ‘প্রোমোটিং বাংলাদেশ ২০১৬’-তে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সেরা দশটি ওয়েবসাইট ও অ্যাপের তালিকায় জায়গা করে নেয়, তখন থেকেই তাদের পথচলা নতুন করে গতি লাভ করে।

জ্ঞান অর্জনকে আনন্দময় করে তোলাই কুইজার্ডসের মূল লক্ষ্য। এজন্য তারা নিয়মিত বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় বিষয়ে কুইজ, তথ্যমূলক আর্টিকেল ও ইনফোগ্রাফিক নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অফলাইনে বিভিন্ন কুইজ ইভেন্টেও সহযোগিতা করে থাকে কুইজার্ডস। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কুইজার্ডসের সাফল্যের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু অর্জন। ২০১৬ সালে ব্র্যাক মন্থন ডিজিটাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডে বিনোদন ক্যাটাগরিতে স্পেশাল মেনশন অর্জন করে নেয় কুইজার্ডস। এছাড়াও ২০১৭ সালে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে এই প্রতিষ্ঠান। এসব অর্জন যেমন কুইজার্ডসের পথচলাকে করেছে সুগম, তেমনি বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের স্বপ্নের পরিধি। কুইজার্ডস স্বপ্ন দেখে একদিন সাধারণ জ্ঞান চর্চায় বাংলাদেশের সকল তরুণ-তরুণী সাগ্রহে এগিয়ে আসবে এবং আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারবে অজানা অনেক বিষয়। পাশাপাশি আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ডিজিটাল মিডিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের আবির্ভাব ঘটবে বলে আশা রাখে পুরো কুইজার্ডস দল!