ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


আবর্জনাই তার শিল্পসৃষ্টির উপকরণ

আবর্জনাই তার শিল্পসৃষ্টির উপকরণ

>> প্রজন্ম ডেস্ক

শুধু জঞ্জাল থেকে শিল্পসৃষ্টির কাজ করেই সন্তুষ্ট নন পর্তুগালের এক শিল্পী, পরিবেশ দূষণ ও প্রাণিজগতের দুর্দশা সম্পর্কেও সচেতনতা সৃষ্টি করতে চান তিনি। একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে তিনি অনেক মানুষের মনে প্রভাব সৃষ্টি করতে পেরেছেন। পর্তুগিজ শিল্পী আর্তুর বর্দালু বিভিন্ন পশুর আদলে ভাস্কর্য সৃষ্টি করেন। একে ভাস্কর্যের সঙ্গে স্ট্রিট আর্টের মেলবন্ধন বলা চলে। আবর্জনাই এ শিল্পীর শিল্প-উপকরণ। বাস্তব প্রেক্ষাপটে কল্পনির্ভর তাঁর ‘আপসাইক্লিং’ শিল্প। আর্তুর নিজে মনে করেন, ‘প্রাণীদের মাধ্যমে আমরা সহজেই মানুষের অভিব্যক্তির কাছাকাছি রূপ পেতে পারি। জঞ্জালের কারণে প্রকৃতি নষ্ট হচ্ছে, এই গ্রহ ধ্বংসের পথে চলেছে। দূষণ ও জঞ্জালের কারণে যারা এই প্রক্রিয়ার শিকার হচ্ছে, এইসব উপাদান দিয়ে তাদের চিত্র সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

পুরনো পুতুল, গাড়ির টায়ার, মোবাইল ফোন অথবা পাইপ—মানুষ যা কিছু ফেলে দেয়, বর্দালু সে সব শিল্পে পরিণত করেন। জঞ্জাল দিয়ে তৈরি তাঁর ৩০টি ভাস্কর্য প্যারিসের এক সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত হচ্ছে। আর্তুর বর্দালু বলেন, ‘শিল্পকর্মগুলোর মাধ্যমে আমি সবার জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। শুধু হাতে গোনা শিল্পবোদ্ধা নয়, জনসাধারণকেও আমার চিন্তার কাছাকাছি আনতে চেয়েছি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য এটা করেছি। কারণ তারাই তো সবকিছু বদলানোর ক্ষমতা রাখে?’

২০১৪ সালে নিজের শহর লিসবনে তিনি প্রথম ‘বিগ ট্র্যাশ অ্যানিম্যালস’ গড়ে তোলেন। রাজপথ বা জঞ্জালের স্তূপে তিনি সৃষ্টির উপাদান খুঁজে পান। আবর্জনা দিয়ে ভাস্কর্য সৃষ্টি করে প্রাক্তন এই গ্রাফিতি শিল্পী স্ট্রিট আর্ট জগতে দ্রুত খ্যাতি অর্জন করেছেন। রোম, বার্লিন, লন্ডন, তাহিতি অথবা লাস ভেগাস—সব জায়গায় তিনি পরিচিতি পেয়েছেন।

প্যারিসে প্রদর্শনীর জন্য বর্দালু ঠিক সময়ে দুটি নতুন সৃষ্টির কাজ শেষ করেছেন। গ্যালারির খুব কাছেই সে দুটি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ফ্রান্সের রাজধানীতে একক প্রদর্শনীর জন্য এর চেয়ে ভালো বিজ্ঞাপন আর হতে পারে না। প্রায় ৭০০ বর্গমিটার জুড়ে তাঁর সৃষ্টিকর্ম শোভা পাচ্ছে। অনেক দর্শক তা দেখে মুগ্ধ। একজন বলেছেন, ‘সত্যি চমকপ্রদ! আমি কখনো শিল্পের এমন রূপ দেখিনি। খুবই বুদ্ধিমত্তা ও চাতুর্যের সঙ্গে প্লাস্টিক ও জঞ্জাল মিশিয়ে আসল বাস্তবসম্মত প্রাণী সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি আমার অন্যতম প্রিয় শিল্পী।’ আরেকজন বলেন, ‘পরিবেশের ক্ষতি বন্ধ করতে আমরা কী করছি, তিনি মানুষকে সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করতে বাধ্য করছেন।’

‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’ শিরোনামে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বর্দালু জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বোঝাপড়ার প্রতি সচেতন করতে চেয়েছেন। তাঁর কাছে এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। আর্তুর বলেন, ‘২০ বছর পর আজকের শিশুরা ক্ষমতার দায়িত্ব নেবে। আমি যেসব বার্তা পাঠাতে চাইছি, তারা সে সব পেলে হয়তো আমরা আরো ভালো এক পৃথিবীতে থাকতে পারব।’

বর্দালুর ‘বিগ ট্র্যাশ অ্যানিম্যালস’ মনে দাগ কাটে বৈকি। সেই প্রভাব শুধু প্যারিসে প্রদর্শনীর দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন