ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


‘যদি কাজকে সম্মান করেন, কাজ আপনাকে সম্মান করবে’

‘যদি কাজকে সম্মান করেন,  কাজ আপনাকে সম্মান করবে’

—সাজ্জাদ হোসাইন রনি

সাজ্জাদ হোসাইন রনি দীর্ঘদিন ধরে এদের ব্র্যান্ড-মার্কেটিংয়ে নিজের জায়গাটা ধরে রেখেছেন স্বকীয়তার সঙ্গে। বর্তমানে মেঘনা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্টিজের সিনিয়র ম্যানেজার-ব্র্যান্ড এবং ক্যাটাগরি হেড হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। তার সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন বেনজির আবরার

বেড়ে ওঠার গল্প

যদিও আমার দেশের বাড়ি ময়মনসিংহ, কিন্তু আমার জন্ম হয়েছে পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম। এর পেছনে কারণ হলো বাবার সরকারি চাকরি। সেই সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ানো হয়েছে। আর বাবার বদলির কারণে স্কুল লাইফটা কেটেছে বিভিন্ন স্কুলে। খেলাধুলা, আড্ডা, ঘুরাঘুরি, এসবের মধ্যেই কেটেছে শৈশব। আর পড়াশোনায় বরাবরই ছিলাম ফাঁকিবাজ। এসএসসি পাস করি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে আর এইচএসসি ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে।

ক্যারিয়ার শুরু যেভাবে

জীবনে আর দশজনের মতোই আমার বাবা চাইতেন আমি যেন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হই। কারণ আমার বাবা ছিলেন একজন প্রকৌশলী। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো সায়েন্স আমার একদমই ভালো লাগত না। আমার ইচ্ছা ছিল, বিজনেস স্টাডিজ নিয়ে পড়ার আর অ্যাকাউন্টিংয়ের কোনো প্রফেশনে জব করার। এসএসসি, এইচএসসির রেজাল্ট খুব ভালো না হওয়ায় সরকারি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্স পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে ভর্তি হই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে। পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পাওয়ার জেদটি আমার দীর্ঘদিন ছিল। তবে মনে মনে সবসময় সেই স্বপ্ন লালিত ছিল, অ্যাকাউন্টিং প্রফেশনে জব করব। কিন্তু হঠাত্ নিজের মাঝে অনুভব করলাম, আমি যা করছি, তা কি ঠিক করছি? আমি কী চাই আসলে? এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকলাম। অবশেষে মনে হলো যে, আই লাভ চেইঞ্জ, তো সেই চেইঞ্জ অ্যান্ড ডিফারেন্সের উত্তরে মার্কেটিং প্রফেশনে আসা। ২০১০ সালে বিবিএ’র ফাস্ট সেমিস্টারে একটি সার্কুলার পাই। ইএমএস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড এইচডিএ সেলস এন্ড মার্কেটিংয়ে অ্যাপ্লাই করি। চাকরিটা পেয়ে যাই। যার সেলারি ছিল মাত্র ৭০০০ টাকা।

ক্যারিয়ার যেভাবে ব্র্যান্ডে মোড় নিল

২০১০ সালে ইএমএস ইন্টারন্যাশনালে জব হওয়ার প্রথম ৬ মাস আমি শুধু সেলসটাই দেখতাম। হঠাত্ করে কোম্পানির মার্কেটিংয়ের দায়িত্বটা পেলাম। পরে ২০১২ সালে এমটি ব্র্যান্ড হিসেবে কল্লোল গ্রুপ অব কোম্পানিতে চাকরি হয়। সেখান থেকে ব্র্যান্ডের পথে চলা শুরু হয়, চাকরি জীবনে বিভিন্ন ভালো ভালো ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে, বিভিন্ন ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজের সুযোগ হয়েছে। যেমন :এমামী বাংলাদেশ, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ প্রভৃতি। বর্তমানে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আছি।

ব্র্যান্ড মার্কেটিংয়ের নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ

বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের জন্য আমার পরামর্শ হলো, আপনারা আপনাদের লক্ষ্যটাকে আগে ঠিক করুন। নিজের লক্ষ্য ঠিক করার জন্য অন্যর দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। ‘থ্রি ইডিয়ট’ মুভির ভাষায় বললে, ‘সেটাতে ক্যারিয়ার গড়ো, যেটাতে তোমার ট্যালেন্ট আছে।’ কাজের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। ডেডিকেশন থাকতে হবে। আর কখনোই কোনো কাজকে ছোট করে দেখা যাবে না। মনে রাখতে হবে, যদি কাজকে সম্মান করেন, কাজও আপনাকে সম্মান করবে।

ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা

অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারব, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমানে চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন অর্গানাইজেশন এবং ফোরামের সঙ্গে আছি। স্টুডেন্টদের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। দেশের অনেক ভালো ভালো মেধাবী সুযোগের অভাবে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। যার ফলে এই দেশ হারাচ্ছে সম্ভাবনাকে। আবার এমনও আছে, যারা সঠিক গাইডলাইনের অভাবে নিজেদের হতাশার চাদরে ঢেকে ফেলছে। তাদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখি, যেন একটা সুন্দর দেশ গড়ে তোলা যায়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন