ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩১ °সে


শুধু জিপিএ প্রজন্ম নয় চাই মূল্যবোধসম্পন্ন মেধাবী মানবসম্পদ

শুধু জিপিএ প্রজন্ম নয় চাই মূল্যবোধসম্পন্ন মেধাবী মানবসম্পদ

পড়াশোনা মানে বাধ্য হয়ে ঠেকে শিখছি, তা নয়; বরং দেখে শিখছি, বুঝে শিখছি, এটাই প্রকৃত শিক্ষা। বর্তমান প্রজন্ম যতটা না শিখতে চায়, তার চেয়ে বেশি চায় জিততে। আমাদের স্কুল, কলেজ, শিক্ষক, কোচিং সেন্টার ও বাবা-মায়েরা মিলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলেছে জিপিএ-৫ পাওয়াকে। শিক্ষার্থী কিছু শিখুক বা না শিখুক, জিপিএ-৫ পেলেই সবাই খুশি। ফলে গৌণ থেকে যাচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানার্জনের আকাঙ্ক্ষা। বরাবরের মতো এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পর ভালো মানের কলেজে ভর্তির চিন্তা চেপে বসে শিক্ষার্থীদের ওপর। এই ভর্তি প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে আমাদের এবারের আয়োজনে নিজেদের ভাবনার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন নীতি নির্ধারক, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকবৃন্দ। সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার

গ্রন্থনা সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার

শিক্ষা মানে শুধু পরীক্ষায় জিপিএ-৫

বা সার্টিফিকেট অর্জন করা নয়

ডা. দীপু মনি

মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষার বিষয়টা শুধু পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কিংবা সার্টিফিকেট অর্জন করা নয়। শেখার মধ্য দিয়ে কোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা, যেকোনো সমস্যাকে মোকাবিলা করা ও গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণের ক্ষমতা অর্জন, মানবিকতা, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম—সবকিছুই শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। এমনকি কমিউনিকেশন স্কিলের মতো বিভিন্ন সফট স্কিল ও হার্ড স্কিলও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ এই বিষয়গুলো অর্জনের চেয়ে আমরা এখনকার প্রেক্ষাপটে দেখছি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কেবল জিপিএ-৫ নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছেন। পুঁথিগত পড়াশোনা ছাড়াও সামগ্রিক জ্ঞান অর্জন করার শিক্ষা গুরুত্ব পাচ্ছে না। আর প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানের বাইরে অন্যান্য জ্ঞান মূল্যায়নের সুযোগ কম। তাই আমরা এই বিষয়টিতে জোর দিয়ে ধীরে ধীরে মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনছি। এছাড়া নিত্যনতুন বিভিন্ন আয়োজন, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সহশিক্ষা কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, যেটি তাদের জ্ঞানকে পরিশীলিত করছে।

আগেকার প্রেক্ষাপটের সঙ্গে এখনকার প্রেক্ষাপট তুলনা করে অনেকে বলেন, আমাদের সময় শিক্ষকদের সবাই অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ছিলেন না, কিন্তু বাংলা-ইংরেজি দুই ভাষাতেই তাঁদের অসাধারণ দখল ছিল। আবার এখন অনেক শিক্ষক মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েও যথেষ্ট দখল রাখতে পারছেন না। আগে যাঁরা শিক্ষকতায় আসত, তাঁরা শিক্ষকতাকে মহান ব্রত ভাবত। অথচ অনেকে এখন শিক্ষকতাকে স্রেফ অন্য পাঁচটা চাকরির মতো ভাবে। আগেকার শিক্ষার্থীদের পড়ার ধরনের সঙ্গে এখনকার শিক্ষার্থীদের পার্থক্য অনেক। শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া সহজ কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে এখন আগের মতো ভর্তিযুদ্ধ নেই। যেহেতু পুরো বিষয়টা অনলাইনে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তাই একজন শিক্ষার্থী চাইলেই যেকোনো কলেজে ভর্তি হতে পারে না, তাকে বেশকিছু অপশন মাথায় রাখতে হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি ঝোঁক সবসময়ই লক্ষ করা যায়। মনে রাখা দরকার, সচরাচর যেগুলোকে ভালো প্রতিষ্ঠান বলা হয়, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মশৃঙ্খলা, পাঠদানে ভিন্নতা ও ভালো ফলাফলের কারণে সুনাম অর্জন করেছে বলেই সেগুলোকে আমরা ভালো বলছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, একজন শিক্ষার্থী যদি পরিশ্রমী হয়, আন্তরিকতার সঙ্গে পড়াশোনা করে, তবে তার পক্ষে যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই ভালো করা সম্ভব। প্রতিবছরই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়াসহ নানাবিধ সাফল্যের কথা শুনতে পাই আমরা। কাজেই জিপিএ-৫ এবং ভালো প্রতিষ্ঠানের নামের পেছনে না ছুটে আমাদেরকে লক্ষ্য স্থির করে প্রকৃত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দিতে হবে। মানবসম্পদ ও মেধাবী প্রজন্ম হিসেবে গড়ে ওঠার যাত্রায় ফলাফল ও প্রতিষ্ঠানের দিক দিয়ে জেতার চেয়ে শেখাটা অনেক বেশি জরুরি।

দেশপ্রেম ধারণ করে মেধাবী ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে

মো. আলমগীর

সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ,

শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ভালো মানুষ গড়ে তোলা এবং দক্ষতা তৈরি করা। একজন মানুষের জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, সেইসঙ্গে প্রয়োজন মানবিক গুণাবলি অর্জন। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পাই, আমাদের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কেবল ভালো ফলাফল বা জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার দিকেই ধাবিত হচ্ছেন। মানবিক গুণাবলি ও দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি গৌণ হয়ে পড়েছে। আমরা বিভিন্ন উন্নত দেশের চেয়ে আর্থসামাজিক দিক দিয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছি, ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা হয়তো মনে করেন, ভালো ফলাফল করলে দেশের বাইরে চলে যাওয়া যাবে। এ কারণে তারা ভালো জিপিএ অর্জন করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন। বর্তমানে শিক্ষকতাকে শুধু চাকরি ভেবে অনেকে নির্দিষ্ট বিষয় পড়ানোর বাইরে বাড়তি কিছুতে মনোযোগ দিতে চান না। তবে মানের দিক দিয়ে আমাদের শিক্ষকদের ঘাটতি আছে বলে আমি মনে করি না, কারণ প্রাথমিকেও এখন অসংখ্য মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষক আছেন, যেমনটা আগে ছিল না। হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ে তো উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক আছেনই। এই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে ভিন্নতা আনা যেতে পারে, শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে তাদের আরো উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। তবে আমরা দেখছি, প্রচুর ছেলেমেয়ে বিএ-এমএ ডিগ্রি নিলেও নিজেদের কর্মোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারছে না। কর্মমুখী শিক্ষার চেয়ে সাধারণ শিক্ষা গ্রহণের প্রবণতাই এক্ষেত্রে দায়ী। এসএসসি পাসের পর একজন শিক্ষার্থী সরাসরি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে ভালো কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে, চাইলে বিদেশেও যেতে পারে। অথচ আমরা ভাবি, ডিপ্লোমা পেছনের সারির বিষয়। সেই ভাবনা থেকে সবাই স্নাতক হতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়। কারিগরি শিক্ষা বাদ দিয়ে সাধারণ পড়াশোনা করার পর কাজ না পেয়ে বড় একটা অংশ বেকারত্বে ভোগে। তবে সরকার কারিগরি শিক্ষায় আকৃষ্ট করতে আন্তরিকতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্কুল পর্যায়ের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গেও কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সম্প্রতি যে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পাস করল, তাদের বলব, শুধু জিপিএ-৫ এবং ভালো কলেজে ভর্তির পেছনে না দৌড়ে এখন থেকেই কারিগরি শিক্ষার কথাও ভাবতে হবে। কারণ বিশ্বে এখন এটির কোনো বিকল্প নেই। দেশ ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি পেশায় ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। এ শিক্ষা তৈরি করে মানবসম্পদ। পাশাপাশি দেশপ্রেম ধারণ করে মেধাবী ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

জিপিএ-৫ নির্ভর পড়াশোনায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যার্থীর বদলে পরীক্ষার্থী হয়ে গেছে

প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি যে, এখনকার জিপিএ-৫ নির্ভর প্রতিযোগিতামূলক পড়ালেখার যে প্রচলন রয়েছে, তাতে শিক্ষার্থীরা যে বিদ্যার্থী, তা থেকে বের হয়ে কেবল পরীক্ষার্থী হয়ে গেছে। পড়াশোনার উদ্দেশ্য যে কেবল সার্টিফিকেট অর্জন নয়, প্রকৃত বিদ্যা অর্জন, সেই সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হয়ে গেছি। পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া এবং ভালো জিপিএর ঘরে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ইঁদুর দৌড়ে ব্যস্ত। অভিভাবকেরা মনে করেন, জিপিএ-৫ না পেলে সন্তানের জীবনটাই শেষ হয়ে যাবে। এই তীব্র চাপের আরেক ভয়াবহ উদাহরণ হলো, আজকাল সন্তানের ভালো জিপিএ পাওয়ার ব্যবস্থা করতে অভিভাবকেরা পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁস হলো কি না খোঁজ রাখে। বিভিন্নভাবে তারা প্রশ্ন খোঁজে, পরে তা সন্তানের হাতে তুলে দেয়। এটি শিক্ষার্থীর মননকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমরা বলেছিলাম, গ্রেডিং সিস্টেম থাকতে পারে, কিন্তু জিপি-৫-এর গুরুত্ব কমাতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকবে না, শুধু শিক্ষকেরা মূল্যায়ন করবেন। এটা খুবই সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। নিচের ক্লাসগুলোতে পরীক্ষায় গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষার্থীদের তাদের নিজের সঙ্গে পরিচয় করানোর পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধসহ অন্যান্য বিষয় শেখাতে হবে। কেবল মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় তা লিখে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও জোর দিতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। সে জায়গায় শিক্ষক হলেন শিক্ষার মেরুদণ্ড। অথচ এখন শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহীদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। মেধাবীরা এই পেশায় আসতে আগ্রহী নন। শিক্ষার মান বাড়াতে হলে মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি হলো যথাযথ শিক্ষক প্রশিক্ষণ। শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রাথমিক শিক্ষার পর্যায়ে। সেখানে ভালো শিক্ষক থাকতে হবে। এবার মাধ্যমিক সম্পন্ন করা যে ছেলেমেয়েরা কলেজে ভর্তি হবে, তাদের এখন থেকেই নিজেদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা ভাবতে হবে। যদিও অনলাইনের মাধ্যমে গ্রেড দেখে কলেজে ভর্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তবু যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে এমন প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে, যেটি সবদিক দিয়ে মানসম্পন্ন। নিজে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের দিকে নজর দিতে হবে।

মূল্যায়ন ও প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতির দুর্বলতায় অনেকেই সহজে জিপিএ-৫ পাচ্ছে

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ

কম্পিউটার বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

যেখানেই মূল্যায়ন প্রচলিত আছে, সেখানেই মাপকাঠি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। যাঁরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁরাও মূল্যায়নের আশাতেই কাজ করেছেন। সুতরাং পুরস্কার ও মূল্যায়নের বিষয়টি এলেই সেখানে মাপকাঠি ও প্রতিযোগিতা থাকবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পেয়ে জিততে চায়, এতে আমি দোষের কিছু দেখি না। তবে প্রশ্ন উঠছে, তারা শেখার চেয়ে দৌড়াচ্ছে জেতার পেছনে। আমি দোষ দেখি তাঁদের, আমরা যাঁরা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। একজন শিক্ষার্থী যথেষ্ট গভীরতা অর্জন না করা সত্ত্বেও মূল্যায়ন পদ্ধতির দুর্বলতার কারণে জিপিএ-৫ পাচ্ছে। এই জিপিএ-৫ তাদের সাময়িক সাফল্য এনে দিলেও পরে তা কাজে লাগছে না, কারণ তারা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে। কেবল মূল্যায়ন নয়, আমাদের প্রশ্ন প্রণয়নেও দুর্বলতা রয়েছে। আমাদের সময় বেশি নম্বর পাওয়ার প্রতিযোগিতায় প্রচুর পড়াশোনা করতে হতো। এখন যেমন জিপিএ-৫-এর পেছনে ইঁদুর দৌড়, তেমনটা আমাদের সময়ও ছিল, তবে এখন গভীরতা কমে গেছে। এর দায়টাও আমাদেরই নিতে হবে, কারণ আমরা পুরো শিক্ষাব্যবস্থাটাকে এমন জায়গায় নিয়ে এসেছি, যেখানে ন্যূনতম পড়াশোনা করেই পাস করা যায়। হাতেগোনা কিছু শিক্ষার্থী প্রকৃত জ্ঞানটুকু অর্জন করে এবং পরবর্তীকালে ভালো ফলাফল করে, কিন্তু বাকিরা থেকে যাচ্ছে অন্ধকারে। জিপিএ-৫ পাওয়ার আশায় নোট, সাজেশন আর প্রাইভেট পড়ার পেছনে ছোটাছুটি করছে। আমাদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের কথা বিবেচনা করতে হবে, বিশ্বের কথা ভেবে অন্যদের সাপেক্ষে নিজেদের অগ্রগতির কথা ভাবতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করতে হবে। কেবল বইয়ের পড়াশোনা নয়, এর বাইরে বিশ্বকে জানতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে হলে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে সুযোগসুবিধা বাড়াতে হবে। অনলাইনের মাধ্যমে কলেজে ভর্তি নির্বাচন একটি ভালো প্রক্রিয়া। এতে পজিটিভ কো-রিলেশন থাকা জরুরি। পড়াশোনা করলে যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। সেটিই আমাদের মেধাসম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

মৌলিক শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে

ইঞ্জিনিয়ার এম. মোসলেম উদ্দিন

অধ্যক্ষ, অ্যারোনটিক্যাল কলেজ অব বাংলাদেশ

মৌলিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারলে শিক্ষার অবশিষ্ট শাখা-প্রশাখায় অনায়াসেই বিচরণ করা সম্ভব। শিক্ষার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কেবল পাস-ফেল আবদ্ধ নয়, প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করায় বিস্তৃত। ফলে সে আলোকেই আমাদের মৌলিক শিক্ষাকে পুনরায় ঢেলে সাজাতে হবে। কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে পেশাগত বাস্তব শিক্ষার ব্যাপারে আরো বিশদভাবে ভাবতে ও পদক্ষেপ নিতে হবে। আর এই বাস্তবতাকে অনুধাবন করেই আমি উড়োজাহাজ প্রকৌশল শিক্ষার মতো একটি সময়োপযোগী শিক্ষা আমাদের দেশে চালু করার উদ্যোগ নিই এবং ২০০৭ সালে উত্তরায় অ্যারোনটিক্যাল কলেজ অব বাংলাদেশের (এসিবি) কার্যক্রম শুরু করি। এসিবি পিয়ারসন/এডেক্সেল, ইউকের অধীনে বিএসসি ইন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে লেভেল ফাইভ ও লেভেল থ্রি ইন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাঠদান অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করে আসছে। এখানে এনডি ও এইচএনডি কোর্স দুটি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে EASA part-66 এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং লাইসেন্সের সব মডিউল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হাতে কলমের সর্বোন্নত প্রশিক্ষণের জন্য এসিবির আছে পর্যাপ্ত অ্যাভিয়েশন এক্সপার্ট, তথা প্রশিক্ষকসহ ক্যাম্পাসেই ব্যবহারিক ক্লাস উপযোগী সুবিশাল অ্যারোস্পেস ওয়ার্কশপ ও অত্যাধুনিক এভিয়নিক্স ল্যাবসহ অ্যারোপ্লেন, টারবাইন ইঞ্জিন, পিস্টন ইঞ্জিন, কম্পোনেন্টস ও পর্যাপ্ত স্পেয়ার পার্টস। উল্লেখ্য, এসিবি ও বিসমিল্লাহ এয়ারলাইন্সের যৌথ উদোগে নিজস্ব বিশাল আকারের বোয়িং-৭৪৭ ও এইচএস-৭৪৮ উড়োজাহাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের যাবতীয় ব্যবস্থা করেছি আমরা।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বুঝে শুনে শিখতে হবে

মো. ফরিদুর রহমান

অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত), উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ

একসময় দেশে জিপিএ-৫ বলে কিছু ছিল না। পত্রিকায় অল্প কয়েকজন সফল মুখের ছবি ছাপা হতো। বর্তমানে জিপিএ-৫ যেমন একজন শিক্ষার্থীর জন্য স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়, একই সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতার মঞ্চও প্রস্তুত রাখে। আর এই প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই পাঠ্যবই মুখস্থের পাশাপাশি বুঝে শুনে শিখতে হবে। আর এমন কার্যক্রমের জন্যই উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষর্থীরা এখন পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য, শ্রেণিকক্ষের বাইরে অনলাইনে সহপাঠীদের সঙ্গে লেখাপড়া শেয়ার করা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আমাদের অনলাইনসমৃদ্ধ ডিজিটাল লাইব্রেরিতে বসে বিচরণ করছে অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজের সহশিক্ষামূলক ওয়ার্কশপ থেকে মাইক্রোসফটের ক্যারিয়ার ফেস্ট, তথা নাসার গবেষণা কেন্দ্রেও। এখানে সৃজনশীল বহুমুখী সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মেয়েদের জন্য গালর্স গাইড, গার্লস ইন স্কাউট এবং ছেলেদের জন্য কাব ও বয় স্কাউট। কলেজটিতে স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবকদের সমন্বয়ে গঠিত গভর্নিং বডি এবং একঝাঁক মেধাবী শিক্ষক রয়েছে। অত্র ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান এই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি। যার দূরদর্শী বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগে এটি আজ দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে সর্বোচ্চ স্থান অর্জনসহ বছরব্যাপী উপহার দিচ্ছে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কৃতকার্যের হার অত্যন্ত সন্তোষজনক।

সুযোগের অভাবে সম্ভাবনা যেন না হারায়

মিসেস হামিদা আলী

প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাবেক অধ্যক্ষ ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

প্রতিবছর লক্ষ ছেলেমেয়ে ঢাকায় আসে, যারা শুধু ভালো কলেজ-ভার্সিটিতে ভর্তি হতে চায়। যারা সেই সুযোগ পায় না, তারা তাদের মাঝের সম্ভাবনাকেই আসলে আবিষ্কার করতে পারে না। দেশের শতকরা আশি ভাগ ছেলেমেয়ের লক্ষ্য শুধু মুখস্থ করে পরীক্ষায় নম্বর তোলা। আমরা এর স্থায়ী অবসান চাই, চাই সুযোগের অভাবে সম্ভাবনা যেন না হারায়। আর এ লক্ষ্যেই আমাদের কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম এমনভাবে সাজানো, যার ফলে একজন শিক্ষার্থী যদি প্রকৃত অর্থেই চায়, সে প্রস্তুতি নিয়ে চাইলে দেশের যেকোনো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নিজেকে যোগ্য করতে পারবে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবধি, দীর্ঘ ১৬ বছর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে অকৃতকার্য হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। জিপিএ ফাইভের হার প্রতিবছরই ৮০ থেকে ৯০%। গত বছরও গুলশান থানায় ৮৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জনই সাউথপয়েন্টের। তারমধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ১৮ জন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এবং উক্ত বছরেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯ম স্থান লাভ করে। ২০০২ সালে ২০০ ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু করে মাত্র ১৬ বছরের ব্যবধানে প্রায় ১২ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে এই প্রতিষ্ঠানে। বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের এই প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ, বনানী, বারিধারা ও মিরপুর মিলিয়ে মোট ৪টি শাখা থাকলেও গত বছর থেকে উত্তরায় শুরু হওয়া শাখাসহ এর শাখা সংখ্যা দাঁড়াল সর্বমোট ৫টি। মিরপুরে চলতি কলেজ ভর্তি সেশন থেকে স্কুলের পাশাপাশি কলেজ শাখাও খোলা হয়। সমস্যা থাকবেই, তাই বলে সেগুলো তো আর অসাধ্য থেকে যেতে পারে না। আমাদের কলেজের লক্ষ্য সেই অসাধ্যকে সাধ্য করা।

মনুষ্যত্ববোধ তৈরি করা আজকের দিনে সবচেয়ে বেশি জরুরি

এম এ কালাম

প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, গুলশান কমার্স কলেজ এবং প্রতিষ্ঠাতা, কমার্স পাবলিকেশন্স

পড়াশোনা করতে হবে নিজেকে জানার জন্য, সমাজকে বোঝার জন্য, রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালনের জন্য, বিশ্বকে চেনার জন্য। ভালো ফল মানেই ভালো ছাত্র নয়। সাজেশন, মুখস্থ, কিংবা গাইডের ওপর নির্ভর করে পড়ার মাধ্যমে ভালো ফল করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে জানার পরিধি থাকে সীমিত। আর তার ফলাফল কিন্তু দিনশেষে ভয়াবহ! সৃজনশীল মানবিক গুণাবলি অর্জনের শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার ফলস্বরূপ আমাদের শিক্ষার্থীরাই আজ আমাদের ব্র্যান্ড। প্রতিবছরই তারা দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বা সফল ক্যারিয়ারে আসীন হয়ে জানান দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য গাথা। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের মেধাবৃত্তি তালিকায় মেয়েদের মধ্যে ১ম স্থান অর্জন করা এই কলেজের শিক্ষার্থী সালমা আক্তার ঝুমা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রথম বর্ষের অধ্যয়নরত। ঢাকা বোর্ডের মেধাবৃত্তি তালিকায় উক্ত বছর সালমা ছাড়াও গুলশান কমার্স কলেজ থেকে আরো ৬ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ মেধাবৃত্তি অর্জন করে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আমাদের প্রথম ব্যাচ। ওই ব্যাচের মাধ্যমে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করে এবং ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে। আমাদের গড় পাসের হার ৯৮ থেকে ৯৯%। বিশেষ করে প্রত্যেকেরই জিপিএর হার ভর্তিকৃত সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। ২০১২ সালে ৫৫ জন জিপিএ-০৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে এসএসসিতে ছিল মাত্র ৫ জন জিপিএ-৫, ২০১৩ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া ৭০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ ছিল মাত্র ১১ জনের, ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৪ জনের মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-০৫ ছিল মাত্র ৯ জনের। এখানে যে জিপিএ নিয়েই ভর্তি হোক না কেন, প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীই সফলতার সঙ্গে তার কলেজজীবন শেষ করে থাকে।

শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীল হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে

প্রফেসর মো. শফিকুল ইসলাম

অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত), ঢাকা কমার্স কলেজ।

শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় আবদ্ধ করে রাখলে তাদের মধ্যে সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ঘটবে না। তাদের বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নিতে সহায়ক পরিবেশ দিতে হবে। পূর্ণ জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। জিপিএ-৫ পাওয়া মানেই শুধু মেধাবী নয়। শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল হতে হবে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘মুখস্থ করে পরীক্ষা দেওয়া আর নকল করে পরীক্ষা দেওয়া একই কথা।’ তাই ঢাকা কমার্স কলেজ বরাবরই এই বিষয়গুলোয় সচেতন। আর তাই অন্যান্যবারের মতো এবারও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ র্যাঙ্কিং ২০১৭-এ সেরা বেসরকারি কলেজ নির্বাচিত হয়েছে ঢাকা কমার্স কলেজ। একই সঙ্গে ঢাকা অঞ্চলের সেরা ১০টি সরকারি-বেসরকারি কলেজের মধ্যে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক-মডেল কলেজ প্রকল্পের ৫টি কলেজের মধ্যেও প্রথম স্থান অর্জন করেছে এই কলেজ। শুধু এ বছরই নয়, শিক্ষামন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত কলেজ র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচবার এই কলেজ বেসরকারি ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা কলেজ নির্বাচিত হয়েছে। ঢাকা কমার্স কলেজ সৃজনশীল শিক্ষাচর্চার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফলাফল বের করে আনতে সদা সচেষ্ট। ২০১৮ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা কমার্স কলেজ ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় সারা দেশের মধ্যে সেরা ফলাফল অর্জন করে। উক্ত বছর ঢাকা কমার্স কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২২২১ জন। পাসের হার ৯৯.৭৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৩ জন। সে বছর ঢাকা কমার্স কলেজের ফলাফলের সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয়টি ছিল, এসএসসিতে ৩.৬১ থেকে ৪.৮৮ জিপিএ পাওয়া ৭৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায়।

জনসংখ্যাকে শক্তি করেই আমাদের এগোতে হবে

আফরোজা ইয়াসমিন

অধ্যক্ষ, ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজ

প্রত্যেকেই সৃজনশীল, কিন্তু তার বিচ্ছুরণ ঘটানোই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মূল চ্যালেঞ্জ। সবার আগে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। এমন বই প্রণয়ন করতে হবে, যেগুলো তাদের আনন্দ দেবে। সেটা বইয়ের মলাট থেকে শুরু করে লেখা পর্যন্ত। তাদের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, শিক্ষার বিনিয়োগ ঘটাতে হবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী, তাদের সুযোগ দিতে হবে। অনেক বড় বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয় না। সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা জানি আমাদের দেশের যে আয়তন, তা বাড়বে না। প্রাকৃতিক সম্পদ বাড়বে না। কিন্তু আমাদের জনসংখ্যা আরো বাড়বে। এই জনসংখ্যাকে শক্তি করেই আমাদের এগোতে হবে। তাদের শিক্ষিত করতে হবে। দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে দিয়ে আমরা একটি শিক্ষিত জাতি পাব। আগামীতে তাহলে এটাই আমাদের মূল শক্তি হয়ে দাঁড়াবে। নারীদের বিশেষায়িত আমাদের এই কলেজের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন ড. মালিকা আলরাজি ও শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মতো মহিয়সী নারীদের দূরদর্শী চিন্তা ও ত্যাগ। ধানমন্ডির ৫ তলা বিশিষ্ট নিজস্ব বৃহত্ ভবনে অবস্থিত এই কলেজটি যোগ্য পরিচালনা পর্ষদ, অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষক ও আধুনিক শ্রেণিকক্ষের ন্যায় বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। বছরব্যাপী অব্যাহত আছে ফলাফল ক্রমোন্নতি এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্যের হার। এই প্রতিষ্ঠানের বহু ছাত্রী দেশের সরকারি ও বেসরকারি খ্যাতিমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কর্মরত। এখানে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সৃজনশীল পদ্ধতি ও আইটি শিক্ষা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন