ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


অব মাইস অ্যান্ড মেন

অব মাইস অ্যান্ড মেন

সোলেদাদের কয়েক মাইল দক্ষিণে, সালিনাস নদী। পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে গভীর ও সবুজ হয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে। সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার আগে সূর্যালোকে তপ্ত বালুরাশির ওপর দিয়ে এই নদীটি প্রবাহিত হতে হতে সরু হয়ে গেছে, তাই জল খুব উষ্ণ। নদীর একপাশে সোনালি পাদদেশের ঢালগুলি শক্ত এবং পাথুরে গিলিলান পর্বতগুলিতে বক্ররেখা করে বয়ে গেছে, কিন্তু উপত্যকার পাশে জলরাশি বৃক্ষের সঙ্গে মিলিয়ে গেছে। গাছগুলো প্রতি বসন্তে তাজা আর সতেজ হয়ে ওঠে। শীতল এবং সবুজ পাতাগুলি শীতকালে এর ধ্বংসাবশেষ বহন করে। বৃক্ষের নিচে বালির তলদেশে পাতাগুলি গভীরে চলে যায়। পাড়টি এত নরম যে একটা টিকটিকি এর ওপর দিয়ে গেলেও নিচে চলে যাবে। সন্ধ্যাবেলায় বালির ওপর বসার জন্য খরগোশগুলি বেরিয়ে আসে এবং স্যাঁতস্যাঁতে বালুস্তরে রেকুনের পায়ের ছাপ দেখা যায়, মাঝে মাঝে কুকুরের পায়ের ছাপও পড়ে থাকে এখানে। এমনকি রাতের বেলা হরিণ যে পানির খোঁজে এখানে এসেছিল, তার পায়ের ছাপও দেখা যায়!

উইলো এবং সিকামোর বৃক্ষগুলির মধ্য দিয়ে একটি পথ চলে গেছে, যে পথ হেঁটে ছেলেরা সাঁতার কাটার জন্য চলে আসে। জীবন এখানে নীরস ছিল। কিন্তু দুজন মানুষের সঙ্গে এই পথে দেখা হলো এবং তারা ঐ সবুজ নদীর কাছে এল। তারা সেই পথ ধরে হেঁটে চলে এল, এমনকি একজন আর-একজনের পিছনে হেঁটে চলল। দুজনই জিন্সের ট্রাউজার আর কোটপরা ছিল, কোটগুলোর বোতাম ছিল পিতলের। উভইয়েই কালো টুপি পরত এবং উভয়ে তাদের কাঁধে টাইট করে কম্বল ঝুলিয়ে রাখত। প্রথম লোকটি ছোটখাটো এবং চটপটে, চকচকে চোখ এবং তীক্ষ, শক্তিশালী গড়ন, মুখের রং কালো। সংক্ষেপে বলা যায় সে ছোটখাটো, শক্ত হাত, সরু বাহু, পাতলা এবং তীক্ষ নাক। তার পেছনের লোকটি তার বিপরীত, একটি বিশাল মানুষ এবং খুব ধীর গতি, ফ্যাকাশে চোখ, এবং চওড়া ঘাড়।

প্রথম লোকটি পথ ছেড়ে দাঁড়াল যেন কারণ পেছনের লোকটি তার ওপর পড়ে যাবে এমন অবস্থা। সে তার টুপি তুলে নিল, সোয়েটব্যান্ড দিয়ে ঘাম মুছে নিল। পেছনের লোকটি তার গায়ের কম্বল খুলে নিচে নেমে গেল এবং সবুজ নদীর পানি খেতে লাগল। গা ডুবিয়ে দিল ঘোড়ার মতো। ছোট চটপটে লোকটি ভয়ে ভয়ে তার পাশে গেল।

‘লেনি!’ সে তীব্রভাবে বলল। ‘লেনি, ঈশ্বরের দোহাই, নদীর পানি পান করা বন্ধ করো।’ লেনি নাক দিয়ে শব্দ করতে লাগল। ছোট লোকটি তার ঘাড়ের কাছে কাত হলো এবং তার কাঁধে ঝাঁকুনি দিল ‘লেনি তুমি গত রাতের মতো অসুস্থ হবে।’

লেনি তার মাথাটি পানির নিচে ডুবিয়ে দিল। তারপর উঠে দাঁড়াল এবং তার টুপি তার নীল কোটের ওপর দিয়ে পড়ে গেল। ‘ভালো,’ সে বলল, ‘তুমিও পান করো, জর্জ। আচ্ছামতো পান করো।’সে আনন্দে হাসল। জর্জ তার থলেটা নামাল এবং আস্তে করে নদীর ধারে রাখল। ‘আমি শিওর না এই পানি ভালো কি না।’ সে বলল। ‘কিছুটা খারাপ মনে হচ্ছে।’

লেনি তার বড় হাতটি পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে নখগুলো নাড়াল আর পানি লাফিয়ে উঠল। পানির প্রবাহ গোল হয়ে নদীর ধার ছুঁয়ে আবার ফিরে আসল। লেনি তা দেখতে লাগল। বলল, ‘দেখো, জর্জ। আমি কী করেছি দেখো।’ জর্জ নদীর পাশে হাঁটু গেড়ে বসল এবং হাত দিয়ে পানি খেল ‘মন্দ না খেতে,’ জর্জ বলল। ‘কিন্তু নদীটা আসলে প্রবাহমান নয় বলে মনে হচ্ছে , যদিও বদ্ধ নদীর পানি পান করা উচিত নয়।’ সে হতাশ হয়ে বলল। ‘আসলে তৃষ্ণার কাছে থাকলে এসব যুক্তি খাটে না।’ বলে সে তার মুখে জলের ঝাপটা দিল। থুতনির নিচে এবং ঘাড়ে পানি দিয়ে হাত বুলিয়ে নিল। এরপর সে তার টুপি পড়ে নিল, নদী থেকে উঠে দাঁড়াল। লেনিও তাই করল। সে জর্জকে ফলো করছে মনে হলো। জর্জের টুপির মতো নিজের টুপিটাও চোখের কাছে নামিয়ে দিল।

জর্জ পানির দিকে চোখ বড় করে তাকাল। তার চোখের মণি সূর্যের আলোর মতো লাল ছিল।

লেনি ভয়ে জর্জের দিকে তাকাল, ‘জর্জ?’

‘হ্যাঁ, বলো?’

‘আমরা কোথায় যাচ্ছি, জর্জ?’

জর্জ তার টুপিটা টেনে নিল এবং লেনিকে চিত্কার করে বলল, ‘ও তুমি যে ভুলে গেছে? আবার তোমাকে বলতে হবে, অ্যাম আই রাইট? গড! ইউ আর এ ক্রেজি বাস্টার্ড!’

‘আমি ভুলে গেছি, ‘লেনি আস্তে আস্তে বলল। ‘আমি মনে রাখতে চেষ্টা করেছি। খোদার কসম।’ ‘ওকে ওকে আমি আবার বলব। আমার কিছুই করার নেই। এখন আমি সব তোমাকে বলে আমার সময় নষ্ট করব, তুমি ভুলে যাবে, আমি আবার তোমাকে বলব, তাই না?’

‘লেনি বলে, ‘বারবার মনে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। আমার খরগোশের কথা মনে আছে জর্জ। ’

‘জাহান্নামের খরগোশ। তুমি শুধু খরগোশদের মনে রাখতে পেরেছ। ঠিক আছে! এখন শোন মন দিয়ে, আর এখন তোমাকে মনে রাখতে হবে যেন কোনো সমস্যা না হয় এইবার। মনে আছে হাওয়ার্ড স্ট্রিটের গাটার সেটিং আর সেই ব্ল্যাক বোর্ডের কথা?’

লেনির মুখে হাসি ফুট উঠল।’ ও হ্যাঁ মনে পড়েছে , জর্জ! আমার মনে আছে ... কিন্তু ...এরপর আমরা কী করেছিলাম? মনে পড়ছে কয়েকজন মেয়ে এসেছিল আর তুমি বলেছিলে—তুমি বলেছিলে।’

পুরো অনুবাদ উপন্যাস

ইত্তেফাক ঈদসংখ্যায়

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন