ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


এসব দেখি কানার (হাট) শেয়ার বাজার

এসব দেখি কানার (হাট)  শেয়ার বাজার

আমার এক বড়ভাই বহুদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার জন্য। কিন্তু সমস্যা হলো, শেয়ার সম্পর্কে তার বিস্তর আগ্রহ থাকলেও সামান্যতম জ্ঞান নেই। আরো বড় সমস্যা হলো, তার যে জ্ঞান নেই, এটা তিনি বোঝেন না অথবা বুঝতে চান না। বরং মনে করেন এই বিষয়ে তার জ্ঞান একেবারে বুজুর্গ লেভেলের। তাই শেয়ার সম্পর্কে কথা উঠলেই তিনি নানাবিধ অ্যাঙ্গেল থেকে মন্তব্য করতে থাকেন। আর এইসব মন্তব্য পেটের খোরাক না জোগালেও হাসির খোরাক জোগায়। দুয়েকটা উদাহরণ না দিলে পরিস্থিতিটা ঠিক বোঝানো যাবে না।

গতকাল আমি আমার এক বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করছিলাম শেয়ার বাজার নিয়ে। বলছিলাম সূচক পতনের কথা। বড়ভাই পাশ দিয়েই যাচ্ছিলেন। তিনি জোর জবরদস্তি করে আমাদের আলোচনার মধ্যে ঢুকতে চাইলেন।

আমি বললাম, ‘আপনি আপনার কাজে যান ভাই। কারণ, সূচক পতন সম্পর্কে আপনার কোনো জ্ঞান নেই। অযথা কথা বলে নিজের সময় নষ্ট করবেন না, আমাদের সময়ও নষ্ট করবেন না।’

বড়ভাই রেগে গিয়ে বললেন, ‘একদম ফালতু কথা বলবা না। সূচক পতন সম্পর্কে আমার জ্ঞন নেই মানে? অবশ্যই জ্ঞান আছে। তাও নরমাল জ্ঞান না। ব্যাপক জ্ঞান।’

আমি বললাম, ‘তাহলে বলেন তো সূচক জিনিসটা কী?’

বড়ভাই বললেন, ‘আজব তো! সূচক কী, এই সাধারণ জিনিসটাও জানো না? ঠিক আছে, জানো না যখন জেনে নাও। আসলে জানার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই। শোনো, ‘শু’ মানে হলো জুতা, আর চক মানে হলো চক। সূচক পতন মানে হলো জুতা আর চক একসঙ্গে পড়ে যাওয়া। বোঝা গেল?’

আমি দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে নিকটস্থ চেয়ারে বসে পড়লাম। আসলে সূচক পতনের এমন ব্যাখ্যা শোনার পর আর দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। দাঁড়িয়ে থাকা উচিত না। আমি ভেবেছিলাম আমাকে অস্বাভাবিকভাবে বসে পড়তে দেখে বড়ভাই চলে যাবেন। কিন্তু না, তিনি গেলেন না। আরেকটা চেয়ারে আরাম করে বসে পড়লেন এবং শেয়ার নিয়েই কথা জুড়ে দিলেন। বললেন, ‘শেয়ার বাজার সম্পর্কে আমার যা জ্ঞান আছে, তাতে এই ব্যবসা করেই কোটিপতি হয়ে যেতে পারব। তবু শেখার যেহেতু কোনো শেষ নেই, ভাবছি আরো শিখব। আর এই জন্যই আমার এক ছোটভাইয়ের কাছ থেকে তালিম নেব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে ম্যালাদিন ধরেই শেয়ারের সঙ্গে জড়িত।’

আমি বললাম, ‘খুবই ভালো। তা আপনার ভাই শেয়ার ব্যবসা করে লাভটাভ করতে পারছে তো?’

বড়ভাই বললেন, ‘লাভের বিষয়ে অবশ্য তার সঙ্গে কখনো কথা হয়নি। তবে সে যে দৈনিক প্রচুর শেয়ার করে, এটা শুনেছি।’

বড়ভাইয়ের কথা শুনে আমার একটু সন্দেহ লাগল। তাই শুরু করলাম জেরা। আর এই জেরায় বেরিয়ে এলো, তার ছোটভাই দৈনিক প্রচুর শেয়ার করে বলতে ফেসবুকে অন্যের স্ট্যাটাস শেয়ার করে।

আমি কিছুক্ষণ হেসে নিয়ে বললাম, ‘আপনার মাথা থেকে কি শেয়ারের ভূত কখনোই নামবে না?’

আমার প্রশ্নের জবাবে বড় ভাই শেয়ার নিয়ে দারুণ একটা ‘শের’ শুনিয়ে দিলেন। শেরখানা এমন—

যতদিন রবে মাথা আমার

যতদিন রবে হেয়ার,

ততদিন আমি দমে দমে

করব শেয়ার শেয়ার!

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন