ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


লুঙ্গিম্যান

লুঙ্গিম্যান

সকালবেলায় ঘুম ভাঙতেই দেখা গেল—লুঙ্গি নাই। নাই মানে, নাই। একেবারে গায়েব। যেন ভোজবাতির মতো উধাও হয়ে গেছে পরনের লুঙ্গিখানা। লুঙ্গি তো গেছেই, সঙ্গে করে মানসম্মানও নিয়ে গেছে কি না কে জানে!

লুঙ্গি-শোকে কতক্ষণ ঝিম মেরে বসে রইল ছোটকু। শীতকাল হলেও একটা কথা ছিল। লুঙ্গি গায়েব হলেও, শেষ ভরসা হিসেবে লেপ-কম্বল কিছু একটা থাকত। এখন গরমের দিনে শরীরের সঙ্গে যেখানে লুঙ্গি রাখাই দায়, সেখানে খোদ লুঙ্গিখানাই যদি নাই হয়ে যায়!

ছোটকু ভাবতে লাগল—রুমে কি কেউ এসেছিল? না এলেই বাঁচোয়া। কিন্তু রুমে কেউ না এলে লুঙ্গিখানা গেল কই! হয়তো কোমর থেকে আলগা হয়ে হেঁটে নিজেই কোথাও সটকে পড়েছে!

‘কেউ কি রুমে এসেছিল?’ প্রশ্নটা আবারও নিজেকে করল সে। লজ্জায় কুঁকড়ে যাওয়ার দশা। ‘না, আরও কিছুক্ষণ রুমে বসে থাকতে হবে। বুঝতে হবে ঘরের মানুষের হাবভাব, তারপর বাইরে বেরুনো যাবে,’ মনে মনে বলল সে।

একটু পরেই মা হাঁক ছাড়লেন, ‘জামশেদ, নাস্তা খেয়ে যা। আর কতকাল ওভাবে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে পড়ে পড়ে ঘুমুবি।’

‘গায়ে হাওয়া লাগানো’ শুনে হিরুর ছোটকু যেন আঁতকে উঠল। গায়ে একমাত্র হাওয়া লাগে তখনই, যখন সমস্ত শরীর উদোম থাকে! তার মানে কি মা... আর কিছু ভাবতে পারল না সে। দ্রুত প্যান্ট পরে নাস্তার টেবিলে এসে বসল। ভাগ্যিস, এই মুহূর্তে সেখানে মা ছাড়া আর কেউ নেই! নাহলে কি আর নাস্তাটা গলা দিয়ে ভেতরে ঢুকত!

‘তুই কি লুঙ্গি পরে ঘুমোসনি?’ মায়ের এই প্রশ্ন শুনে লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করল ছোটকুর। ‘তার মানে মা নিশ্চিত দেখে ফেলেছে!’ বিড়বিড় করে বলল সে।

‘তোকে কতবার বলেছি—রাতে লুঙ্গি পরে ঘুমা, শুনিস না... প্যান্ট পরে (ঘুমিয়ে) কী যে মজাটা পাস!’

‘হিরু কই মা?’ হিরু গতকাল নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছে। সকালবেলায় তার উপস্থিতি নজরে না পড়ায় প্রসঙ্গ ঘোরাতে জানতে চাইল ছোটকু।

‘দাদা-নাতি হাওয়া খেতে গেছে!’

‘নাস্তা না করে হাওয়া খাওয়ার কী দরকার পড়ল দুজনের?’

‘হিরু ঠিক করেছে, ও এখন থেকে লুঙ্গি পরবে। লুঙ্গি বাঙালির জাতীয় পোশাক। সেটার অবমূল্যায়ন হতে দেবে না। তাই দাদার সাথে লুঙ্গি পরে বেরিয়েছে। পুরো পাড়া একবার টহল দিয়ে তবেই আসবে।’

‘লুঙ্গি!’ ছোটকুর গলা দিয়ে আর কোনো শব্দ বের হতে চাইল না। ভাবল সে—হিরু লুঙ্গি পেল কোথায়? তার মানে, সাতসকালে তার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার মূল কালপ্রিট হিরু ভিন্ন অন্য কেউ হতেই পারে না। ‘এখন আবার সেটাকে গায়ে চাপিয়ে হাওয়া খেয়ে বেরুনো! আসুক না আজ বাড়িতে, চাবকে পিঠের ছাল তুলে নেব।’

একটু ধাতস্ত হয়ে সে মায়ের কাছে জানতে চাইলো, ‘বাবাও কি তবে লুঙ্গি পরে বেরিয়েছেন?’

‘বালইষাট! তোর বাবাকে লুঙ্গি পরতে দেখেছিস কখনো?’

সত্যিই তো, কোনো এক আজব কারণে ছোটকুর বাপ লুঙ্গি না পরে পায়জামা পরেন। অবশ্য পায়জামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঞ্জাবি না পরে পরেন শার্ট। অন্যদের ঠিক উল্টোটা আর কী! ছোটকু মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, ‘আজ বাবা এলে তাকে চেপে ধরতে হবে। লুঙ্গি না পরার রহস্যটা জানতেই হবে।’

দুই

হিরুর লুঙ্গি পরে বেরুনোর বিষয়টা ইতোমধ্যে পুরো এলাকায় ঝড় তুলেছে। দাদা হাঁটছেন পায়জামা-শার্ট পরে। আর এ যুগের মডার্ন ছেলে হয়েও তার নাতি হিরু কি না পরে আছে লুঙ্গি! ছেলে-ছোকরারা দলে বেঁধে এসে লুঙ্গিপরা হিরুর সঙ্গে সেলফি তুলল। মেয়েরা বাড়ির দরজা-জানালা দিয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে ঘুরে ঘুরে হিরুকে দেখছিল!

ছেলেপেলেদের সেইসব ছবি সকালভর ফেসবুকে মানুষের টাইমলাইনে ঘুরে বেড়াতে লাগল। মেয়েরা আবার সেখানে দল বেঁধে কমেন্ট করল, ‘বাম থেকে তিন নম্বর লুঙ্গি পরা ভাইয়াটা জোশ!’

কেউ কেউ লিখল, ‘লুঙ্গি পরা ভাইয়াটা সো হট। ক্রাশ খাইছি!’

ছোটকু বিষয়টা খেয়াল করে সিদ্ধান্ত নিল, এখন থেকে নিয়মিত লুঙ্গি পরবে সে। হঠাত্ মনে হলো, সে হয়তো কাল রাতে সত্যি সত্যিই প্যান্ট পরে শুয়েছিল। লুঙ্গিটা বারান্দাতেই আছে। তবে, সেখানে গিয়ে দেখে—কোনো লুঙ্গিই নাই, হাওয়া।

ছোটকু ভেবে পেল না—লুঙ্গিটা এখান থেকেই চুরি গেছে, নাকি তার রুম থেকে!

তিন

বিকেলবেলায় এলাকার রহমত মিয়ার দোকানে গিয়ে বসতেই, লোকটা বিগলিত হাসি হেসে হিরুকে বুকে টেনে নিল। গাঁয়ের একমাত্র লুঙ্গি বিক্রেতা সে! এলাকায় চাপা পেটায়—বিখ্যাত লুঙ্গির ব্র্যান্ড রহমত শাহের সেই রহমত নাকি সে নিজেই! যদিও এতদিন তার লুঙ্গির তেমন একটা বেচা-বিক্রি ছিল না। বুড়োরা নাকি হিরুর দাদাকে দেখে লুঙ্গি ছেড়ে পায়জামা পরায় মনোনিবেশ করেছে। আর জোয়ানরা তো লুঙ্গিই পরে না। অথচ গরমে একমাত্র লুঙ্গিই বিদ্যুত্সাশ্রয়ী এসির কাজ করে। কথাটা সে গতকাল হিরুকে বলেছিল। আর আজই কিনা তার দোকানের সবগুলো লুঙ্গি বিক্রি হয়ে গেছে! অনেকে লুঙ্গি পেতে অগ্রীম টাকা দিয়ে নাম লিখিয়ে গেছে!

‘হিরু ভাই, তুমি তো কামাল করে দিয়েছ! কালকে অভয় দিলা, আর আজকেই যেন মন্ত্রবলে দোকানের সমস্ত লুঙ্গি বিক্রি হয়ে গেছে! ক্যামনে কী!’

‘ও কিছু না।’ হিরু যেন মাছি খেদাল।

‘বলো, তুমি উপহার হিসেবে কতগুলো লুঙ্গি চাও।’

‘তোমার এইসব ভেজাল লুঙ্গি আমি নেব কেন!’

‘তোমাকে খাঁটি রহমত শাহ লুঙ্গিই এনে দেব। তোমার সাথে কি আর দুই নম্বরি করতে পারি!’

চার

হিরু না চাইলেও রহমত মিয়া তার দাদার বাড়িতে একগাদা লুঙ্গি পাঠিয়ে দিল। লুঙ্গি দেখে ছোটকু শ্লেষভরা কণ্ঠে বলল, ‘মানুষ ছ্যাঁকা খেলে ব্যাঁকা হয়। তুই কি লুঙ্গি দিয়ে আত্মহত্যা করার জন্য এত্তগুলো লুঙ্গি আনিয়েছিস?’

‘নিজের লুঙ্গির হুঁশ থাকে না! আবার এসেছে অন্যের লুঙ্গির খবর নিতে!’

হিরুর কথা শুনে ছোটকু আবারও লজ্জায় কুঁকড়ে উঠল। দ্বিতীয়বারের মতো মনে শঙ্কা জাগল তার, ‘সত্যিই কি রাতে পরনে কিছু ছিল? নাহলে হিরুটা এমন কথা বলছে কেন!’

‘ছোটকু, তোর লুঙ্গির মতো একটা লুঙ্গি আজ দেখলাম কেরামত চোরার পরনে।’

ছোটকু মনে মনে বলল, ‘কী ভাবছ—আমি কিছুই বুঝি না! সবই তোমার চালাকি। লুঙ্গিটা তুমিই চুরি করে নুরাকে গিফট করেছ!’

এমন সময় পাড়ার একদল ছেলেপেলে এসে বলল, ‘হিরু ভাই, একটা গুরুত্বপূর্ণ আলাপ ছিল, সময় হবে কি?’

‘হিরুর সাথে আবার কী আলাপ!’ ছোটকু বিস্মিত হলো। সে ভেবেই পেল না হিরু এদের চেনে না। তারা প্রত্যেকেই ঢাকার কোনো না কোনো ভার্সিটিতে পড়ে। তারাই বা হিরুকে চিনল কী করে? কী কারণে হিরুর শরণাপন্ন হবে? তাও আবার তাকে রেখে!

হিরু তাদের নিয়ে বাড়ির বাইরে গেলে ছোটকু আড়াল থেকে কান পাতল, তারা হিরুর সঙ্গে কী এমন গুরুত্বপূর্ণ আলাপ করে তা জানার প্রচণ্ড রকমের কৌতূহল থেকেই!

‘হিরু ভাই, আপনার লুঙ্গি কাহিনি তো পুরাই হিট। মেয়েগুলো...! সে যাকগে, এবার আমরা পুরো বিষয়টাকে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

‘বেশ তো। দাও ছড়িয়ে।’

‘কিন্তু চাইলেও তো সব সম্ভব নয়। সবকিছু একটা সঠিক ওয়েতে করলেই না ভাইরাল হওয়া সম্ভব। সেজন্যই আমরা আপনার কাছে এসেছি। আপনার বুদ্ধিমতো কাজ করতে চাই।’

‘তোমরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে দলবেঁধে লুঙ্গি পরে শো-ডাউন করতে পার। এখন তো ব্যাঙের ছাতার মতোই অনলাইন মিডিয়া গজিয়ে উঠেছে। দু-চারটা মিডিয়া নিজে থেকেই নিউজ করবে। ভাইরাল হতে সময় লাগবে না। তবে...’

‘তবে কী বস?’

‘তোমাদের লুঙ্গিগুলো সাবধানে রেখো। লুঙ্গি পরার হিড়িক পড়লে তখন কিন্তু তোমাদের হলের গণরুমের ছোটভাইয়েরা লুঙ্গিকে নিজের ভেবে নিয়ে যেতে পারে, এমনকি সেই লুঙ্গি পরে তোমাদের সামনে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতেও কার্পণ্য করবে না!’

পাঁচ

আঁড়িপেতে হিরুর পরামর্শ শুনলেও ছোটকু সে সম্পর্কে হিরুর কাছে কোনো প্রশ্ন করতে পারল না। তাহলেই যে তার আড়িপাতার বিষয়টা ফাঁস হয়ে যাবে!

হিরু ঘরে ঢোকার আগেই সে লুঙ্গি পরে নিল। ছোটকুকে লুঙ্গি পরা অবস্থায় দেখে হিরু বারকয়েক চোখ বড় বড় তাকাল।

ছোটকু স্মিত হেসে বলল, ‘শুনলাম তুই নাকি আমাকে কপি করছিস?’

‘কাকুকে কপি করা দোষের কী!’

‘আমার মেধাস্বত্ব মেরে দিস না আবার! জানিসই তো তুই এখানে আসার আগেই আমি এলাকায় লুঙ্গি পরার চল শুরু করেছি। এরমধ্যে এলাকার পোলাপান আমার লুঙ্গি পরাকে আদর্শ হিসেবে নিয়েছে। আজ জানতে পারলাম, কাল থেকে ওরাও নাকি লুঙ্গি পরবে। এভাবে শহর-নগর সর্বত্র লুঙ্গিকে ছড়িয়ে দিতে চাই আমি। বলতে পারিস এটা আমার একটা বিশেষ আন্দোলন—লুঙ্গি আন্দোলন!’

হিরু হেসে বলল, ‘লুঙ্গিতে কিছু নকশা করে বিশেষত্ব আনতে পার। যেমন :পকেট। তাহলে মানিব্যাগ কিংবা মোবাইল রাখতে পারবা।’

‘টিটকারি মারছিস?’

‘আরেকটা কথা—লুঙ্গিতে পায়জামার মতো করে ফিতা বাঁধার ব্যবস্থা করবা। বাতাসে লুঙ্গি উড়ে গেলে কিন্তু সাড়ে সর্বনাশ!’

ছোটকু নিজেকে ধিক্কার দিল। এই কথাগুলো আজ সকালে সে হিরুকে শোনাতে পারত, উল্টো কিনা তাকেই শুনতে হচ্ছে।

ছয়

পরদিন সকালবেলায় হিরুর দাদা লুঙ্গি পরে হিরুর রুমে এসে উপস্থিত হলেন। হিরুর ঘুম ভাঙিয়ে বললেন, ‘চলো, দাদুভাই, দুজনে আজ লুঙ্গি পরে পুরো গাঁ চক্কর মারব।’

হিরু বলল, ‘তোমার সাবেক প্রেমিকা কি পটল তুলেছেন?’

দাদা অবাক হয়ে বললেন, ‘সে তো সেই কবেই স্বর্গগমন করেছে, দাদুভাই। যদিও যেভাবে আমাকে ধোঁকা দিয়েছিল, তাতে নরকপ্রাপ্তিই তার জন্য যোগ্য ছিল।’ একটুক্ষণ থেমে তিনি বললেন, ‘হঠাত্ আমার প্রেমিকা নিয়ে গবেষণা কেন দাদুভাই? ব্যাপারটা জানলেই বা কী করে? কারোর কাছে তো কখনো স্বীকারও করিনি...!’

হিরু বিড় বিড় করে বলল, ‘তাহলে কি কোনো শত্রুর ভয়ে এতকাল লুঙ্গি না পরে পায়জামা পরে ছিলে? কিন্তু লুঙ্গি পরায় শত্রুর কী আসে যায়! ঘটনাটা খুলে বলো তো দাদু।’

‘কোন ঘটনা?’ হিরুর দাদা এবারে এড়িয়ে যেতে চাইলেন।

হিরু স্মিত হেসে বলল, ‘রহস্যটা কিছুক্ষণের মাঝেই জানতে পারব। আজ কে কে এলাকায় নেই, তা জানলেই হবে। কিন্তু তুমি নিজে থেকে খুলে না বললে, তখন কিন্তু সবাইকে বলে দিব। এমনকি তোমার ওই সাবেক প্রেমিকার কথাও গোপন থাকবে না!’

দাদা হিরুর হাত চেপে ধরে বললেন, ‘আর সবার থেকে গোপন রাখলেও তোমার কাছে কি গোপন করা যায়, দাদু ভাই। বেশ, বলছি, শোনো...’ বারকয়েক ঢোঁক গিলে বলতে শুরু করলেন তিনি, ‘তখন যৌবন কাল। কাঁচা বয়েস। হুটহাট পাগলামো করে বসি। আমার এক বন্ধু ছিল, বারেক নাম। একদিন কী মনে করে হঠাত্ খেলার মাঠে ওর লুঙ্গি ধরে দিলাম এক টান। তারপরর অবস্থা তো বুঝোই! আমার সাথে অনেকদিন কথা বলেনি। তারপর হঠাত্ শুরু হলো আমার সাথে ওর আলগা পিরিতি। একটু সন্দেহই হলো। ব্যাপারটা শানুর সাথে শেয়ার করলাম।’

‘দাদু, এই শানুটা কে?’

দাদা জিভ কামড়ে ধরে বললেন, ‘ইয়ে মানে... আমার সেই এক্স গার্লফ্রেন্ডের নাম ছিল—শানু।’

‘এক্স-গার্লফ্রেন্ড!’ হিরু কথাটা আওড়ালো বার কয়েক।

দাদু বিগলিত হাসি হেসে বললেন, ‘ওই যে... এ যুগের ছেলে-ছোকরার দল তো এখন কথাটা সাধারণের পর্যায়ে নিয়ে গ্যাছে। আমাদের সময় এই শব্দের অস্তিত্বই ছিল না। আমিই সর্বপ্রথম শব্দটার প্রচলন করি। যদিও লোকজন সেসব কথা জানে না। আচ্ছা যা বলছিলাম...’ আবারও কথার খেই ধরলেন তিনি। ‘শানুই বুদ্ধি দিল—লুঙ্গি বিসর্জন দিয়ে পায়জামা পরতে। তখন অন্যান্য সময় লুঙ্গি পরলেও, তার সাথে দেখা করতে গেলে পায়জামাই পরতাম কি না! প্রথম প্রথম শানুর কথায় গুরুত্ব দিইনি। একদিন পরীক্ষা করার জন্য লুঙ্গির নিচে পায়জামা পরে থ্রি-কোয়ার্টার এর মতো করে (ভাঁজ করে হাঁটু পর্যন্ত তুলে) বারেকের কাছে গেলাম। বেচারা ওঁত পেতে ছিল। সুযোগ পেয়েই দিল এক টান। তারপরেই হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। কিন্তু, আমি সেদিন ভালোভাবেই বুঝতে পারলাম—এটা তার শেষ চেষ্টা নয়। সুযোগ পেলে আবারো টান মারবে। তাই লুঙ্গি ছেড়ে স্থায়ীভাবে পায়জামা ধরলাম। আজ সকালে শুনলাম—বারেক শহরে গেছে। আসতে দু-একদিন সময় লাগবে। তাই এত বছর বাদে সাহস করে আবারও লুঙ্গি পরলাম। আহা! লুঙ্গিতে যে কী আরাম, তা কি অন্য কিছুতে মেলে?’

সাত

ইদানীং ঢাকায় হুটহাট ঝড় শুরু হচ্ছে। তার থেকেও বড় ঝড় সৃষ্টি করেছে হিরুর ছোটকু। ছোটকু ঢাকায় এসে লুঙ্গি ভিন্ন কিছু পরতেই চাইছে না। বিকেলে ছোটকু বাইরে বেরুনোর সময় হিরু তাকে সাবধান করে দিয়েছিল, ‘ঝড়ে লুঙ্গি উড়ে যেতে পারে!’

ছোটকু তখন হেসে বলেছিল, ‘সমস্য নাই, সিস্টেম জানা আছে।’

কিছুক্ষণ আগে ঝড় শুরু হয়েছে। ছোটকুটা এখন কোথায় আছে কে জানে! হিরু আনমনে ফেসবুকে ঢুকে পেজ স্ক্রল করছিল। হঠাত্ দেখে, মানুষজনের পোস্ট—ঢাকার আকাশে আজ লুঙ্গিম্যানের দেখা মিলেছে!

কয়েকজন ভিডিও ছেড়েছে। সুপারম্যানের মতোই এই লুঙ্গিম্যান শরীরে কাপর (লুঙ্গি) জড়িয়ে আছে। লুঙ্গি বাতাসে উড়ছে। সেই সঙ্গে উড়ে চলেছে বাংলাদেশের সুপারহিরো—লুঙ্গিম্যান!

হিরুর ছোটকু!

হিরুর বুঝতে বাকি রইল না ছোটকু লুঙ্গি পরেছিল বটে, কিন্তু সেটাকে (ফিতা দিয়ে) শক্ত করে কোমরের সঙ্গে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা করেছিল, যাতে বাতাসে উড়ে না যায়। কিন্তু আজ ঝড়ের বেগ এতটাই বেশি ছিল যে, ঝড় লুঙ্গির সঙ্গে সঙ্গে হিরুর ছোটকুকেও উড়িয়ে নিয়ে যায়! g

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন