ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬
২৯ °সে


ধরা

ধরা

তানভীর আহাম্মেদ

জার্সি বিড়ম্বনা

চায়ের দোকানে দুই বন্ধুর আড্ডা হচ্ছে।

—দোস্ত ব্যবসায় তো দারুণ ধরা খেয়েছি!

—কেন, কী হয়েছে?

—বাংলাদেশের প্রথম জার্সি বের হওয়ার সাথে সাথে সবার আগে বাজারে ছাড়ার জন্য ডুপ্লিকেট করে প্রোডাকশনে পাঁচশটা জার্সি বানাতে দিলাম। এখন তো লাল নাই দেখে ডিজাইন পালটায়ে গেছে। কী একটা লস প্রজেক্ট হলো আমার!

—আরে সমস্যা নাই। সবগুলো রেলগেইটের লাইনম্যানদের ফ্ল্যাগ হিসেবে ইউজ করতে দিয়ে দে। এই নামে তোর কোম্পানির ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি’ পালন হয়ে যাবে।

ফেঁসে যাওয়ার গল্প

আসলাম সাহেব, চাকরির সুবাদে একমাত্র বউকে নিয়ে ঢাকাতে থাকেন। দুজনের সংসার, তবুও ঘরে অশান্তি কম নেই। প্রতিদিনই কিছু না কিছু নিয়ে ঝগড়া হয়ই।

এরপরে ঝগড়া থামে বউয়ের এক কথাতে। যে কথার উত্তর আসলাম সাহেবের কাছে নেই।

‘তোমার দুই টাকারও তো দাম নাই কারো কাছে, ঘরে নেই, বাইরেও নেই, অফিসেও নেই। প্রতিদিনই ফোনে বসের ধমক খেতে শুনি।’

এই কথার পর তিনি আর উত্তরে কিছু বলতে পারেন না, চুপ করে অপমান হজম করে নেন। যদিও পরদিন সকাল হতে হতে সব মিটমাট হয়ে যায়, তবে সন্ধ্যার পর সব আবার যা তা।

তো সেদিন রাতেও বউ আবার এ কথা বললেন। তবে এইবার আসলাম সাহেব চুপ করে থাকলেও মনে মনে ভাবতে লাগলেন—এই অপমান আর না। দুই টাকার দাম খুঁজে তাঁকে বের করতেই হবে। শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলেন কী করে বউয়ের কাছে নিজের দাম দেখানো যায়।

ঘুমানোর আগে অবশ্য আইডিয়া পেয়েও যান তিনি। পরদিন সকাল বেলা বের হবার আগে তিনি বউকে বললেন, ‘আচ্ছা তুমি যে বলো আমার দাম নেই, তা কিন্তু সত্যি না।’

—হয়েছে, কিসের দাম আছে তোমার? সকাল সকাল ঝগড়া কোরো না। যাও অফিসে।

—না শুনো, আজ তোমাকে আমার দাম দেখাব। অন্তত ২০ জন হলেও আমাকে সেলিব্রেটি ভেবে পিছন পিছন ভাই ভাই বলবে।

—আহারে স্বপ্ন! আচ্ছা, এরপর থেকে আমি আর ঝগড়া করব না।

—আচ্ছা বিকালে আমি ফোন দিলে বের হবা তুমি, তৈরি থেকো।

প্ল্যান অনুসারে বিকালে বউকে ফোন করে পাড়ার গলির মুখে নিয়ে আসেন আসলাম ভাই।

—কী ব্যাপার, আমাকে নিয়ে আবার কোথায় যাবা?

—এই তো এই মার্কেটে ঢুকব।

—কেন?

—আমার দাম দেখাব। আমার দাম তো তুমি দেখোনি। দেখবা, ভাইয়া ভাইয়া করে কিভাবে ডাকে।

—আহারে বুদ্ধি, ওকে চলেন, নতুন কী কালেকশন আছে দেখাও যাবে।

এরপর দুজন মিলে মার্কেট ঘুরলেন তারা।

তবে দিন শেষে আসলাম ভাইকে এইবার বউয়ের কাছে বিড়াল হতে হয়েছে।

কারণ বউকে নিয়ে শুরুতেই ঢুকেছেন ল্যাডিস কালেকশনের ফ্লোরে। আর সেখানে প্রবেশ করায় সেলসম্যানরা সব ভাই ভাই না বলে ভাবি/আপু বলে তাঁর বউকে ডাকছে। আর এই রূপ বিশটা ডাকের পর তাঁর বউ তাঁকে বোকা বানিয়ে মার্কেট থেকে বের হয়ে যায়। যদিও, ল্যাডিস ফ্লোরে যাওয়াটা তাঁর বউয়ের তাত্ক্ষণিক বুদ্ধি ছিল!

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন