ঢাকা রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬
২৮ °সে

ঈদ যাত্রা কাহাকে বলে?

ঈদ যাত্রা কাহাকে বলে?

ইকবাল খন্দকার

মার এক ছোটভাই ঈদের ম্যালা দিন আগেই দিওয়ানা হয়ে যায় বাড়ি যাওয়ার জন্য। কেন? নাড়ির টানে? জি না। নারীর টানে। এই বিষয়ে আর বিস্তারিত না বললাম। বরং তার বাড়ি যাত্রা নিয়ে বিস্তারিত বলা যাক। যেহেতু তার বাড়ি একদম সীমান্ত এলাকায়, যেতে হয় দূরপাল্লার বাসে বা ট্রেনে, তাই সে টিকিট কাটা নিয়ে পড়ে মহাঝামেলায়। একবার সে টিকিট কাটতে গেছে। গিয়ে দেখে বিরাট লাইন। কোনো একসময় লাইন ছোট হয়ে আসবে, টিকিট পাওয়া যাবে—এই আশায় ছোটভাই দাঁড়িয়ে যায় লাইনে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ছোটভাইয়ের অবস্থা যখন প্রায় নাজেহাল, তখন পরিচিত একজনের সঙ্গে দেখা।

সে তাকে বলল, ‘কীরে, তোর অবস্থা এত খারাপ হলো কবে থেকে?’

প্রশ্ন শুনে ছোটভাই তো অবাক। বলল, ‘বাসের টিকিট কাটবো, এখানে অবস্থা খারাপের কী দেখলেন? কেন, আপনি কি মনে করেছিলেন আমি বাসে বা ট্রেনে বাড়ি না গিয়ে হেলিকপ্টারে বাড়ি যাই?’

ওই লোক বলল, ‘আরে না, এইরকম মনে করব কেন? আসলে আপনি যে রিলিফের মাল খাওয়ার পর্যায়ে চলে গেছেন, মানে আপনার আর্থিক অবস্থায় যে এত ধস নেমেছে, বুঝতে পারিনি।’

ছোট ভাইয়ের এবার টনক নড়ল। সে হালকা তদন্ত করে জানতে পারল, সে টিকিটের লাইন মনে করে যে লাইনে দাঁড়িয়েছে, সেটি আসলে রিলিফের মালের লাইন।

আমার এক প্রতিবেশী প্রতিবছরই ঈদে বাড়ি যান। আর যান হচ্ছে গিয়ে লঞ্চ দিয়ে। যেহেতু প্রতিবছরই ঈদের সময় লঞ্চডুবি হয়, তাই প্রতিবেশীর মনে একটা আতঙ্ক কাজ করে। আর এই আতঙ্ক থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সাঁতারটা খুব ভালোভাবে শিখবেন। ব্যস, ভর্তি হয়ে গেলেন সুইমিংপুলওয়ালা একটা জিমে। কিন্তু দুদিন যেতে না যেতেই তাকে বহিষ্কার করা হলো জিম থেকে। প্রতিবেশীর তো বেজায় মন খারাপ।

আমি তাঁকে আড়ালে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হয়েছে বলেন তো! আপনাকে জিম থেকে কেন বহিষ্কার করল? আপনি কোনো আকাম করেছিলেন নাকি?’

প্রতিবেশী বললেন, ‘নারে ভাই, আকাম-টাকাম করিনি। সামান্য একটা সন্দেহ থেকে তারা আমাকে বহিষ্কার করেছে।’

আমি অবাক হলাম, ‘সন্দেহ! কিসের সন্দেহ?’

প্রতিবেশী বললেন, ‘না, মানে সম্প্রতি আমার ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে তো! তারা সন্দেহ করছে, যদি আমি বারবার পানি থেকে ওঠার আলসেমিতে পানিতেই কর্ম সেরে ফেলি!’

যাই হোক, এই ঠুনকো কারণে প্রতিবেশীর লঞ্চ ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রস্তুতির বারোটা বেজে গেল। এর পরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন, হেলিকপ্টারে বাড়ি যাবেন। ঈদের সময় এমনিতেই বেশিরভাগ লোকজন গ্রামের বাড়িতে থাকে। এর মধ্যে কেউ যদি হেলিকপ্টার দিয়ে বাড়িতে যায়, তাহলে তার ইমেজ শতগুণে বেড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। এই লোভ থেকেই প্রতিবেশী একটা টিকিটও কেটে ফেললেন। কিন্তু তিনি যখন ব্যাগ গোছাতে যাবেন, তখন লেগে গেল হুড়োহুড়ি। হুড়োহুড়িটা হাসির। কেন? এত হাসি কেন? হাসির কারণ হচ্ছে, হেলিকপ্টার ধানক্ষেতে আছড়ে পড়লে যাতে আত্মরক্ষা করতে পারেন, এই জন্য তিনি প্যারাসুট ভরছিলেন ব্যাগে। বোতলজাত প্যারাসুট। মানে প্যারাসুট নারিকেল তেল।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৫ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন