যে কারণে আমি আর হতাশ নই

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুহসিন ইরম

 

জীবন নিয়ে আমি খুবই হতাশ ছিলাম। আমি কখনো সঠিক ডিসিশন নিতে পারতাম না। যখন যে কাজে হাত দিয়েছি, সেখানেই উপর্যুপরি ধরা খেয়েছি। সারারাত ধরে যে চ্যাপ্টারে চোখ বুলিয়েছে পরীক্ষায় গিয়ে দেখতাম ওই চ্যাপ্টারগুলো ছাড়া বাকি চ্যাপ্টার থেকে প্রশ্ন এসেছে? পাশাপাশি দু হোটেলের মধ্যে আমি বাছাই করে যে হোটেলে খেতে বসেছি, খাওয়া শেষে ভেজালবিরোধী অভিযানে সে হোটেল অভিযুক্ত হয়ে জরিমানা গুনেছে। আর পাশের অপছন্দ করা হোটেল পেয়ে গেছে পাস মার্ক। রাস্তায় জ্যাম থাকবে ভেবে বাসে না উঠে হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা হয়ে দেখেছি, রাস্তা এতটাই ফাঁকা যে রীতিমতো ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যাবে। ব্যবসায় হাত দিয়েও কখনো সফলতার মুখ দেখতে পারিনি আমি। যখন আলুর দাম বেড়ে যাবে ভেবে মজুদ করেছি, তখনই আলু পানির দরে বিক্রি হতে শুরু করেছে। হতাশ হয়ে ঘুষ দিয়ে একটা চাকরি বহু কষ্টে ম্যানেজ করি, তবে কিছুদিন পর ওই কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর চূড়ান্তভাবে হতাশ হয়ে বড়লোকের মেয়ে বিয়ে করতে চাইলে ঘটক বড়লোকের মেয়ের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করে। ভাবলাম, আমার দুঃখের দিন বুঝি শেষ, এবার শ্বশুর আব্বার টাকায় জীবনটা কেটে যাবে বেশ। তবে, বিয়ের পর আবিষ্কার করলাম আমি বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে করেছি ঠিকই, তবে তিনি শরীরের গঠন ও উচ্চতায় বড়লোক, অর্থকড়িতে নন।

জীবন নিয়ে আমি যখন চরম হতাশ হয়ে দিশেহারার মতো রাস্তায় রাস্তায় হিমু হয়ে ঘোরার ডিসিশন ফাইনাল করে ফেলেছি, আনন্দের সংবাদটা তখনই জানতে পারি। আমার হতাশা এখন একটু একটু করে কমতে শুরু করেছে। আমি স্বাভাবিক হচ্ছি। কারণ দুদিন আগেই আমি একটা অ্যান্ড্রয়েড সেট ক্রয় করেছিলাম। কী ভেবে যেন হুয়াওয়ের সেট না কিনে অন্য কোম্পানিরটা কিনেছিলাম। হুয়াওয়ের ওপর গুগলের নিষেধাজ্ঞার খবর জানার পর আমার হতাশা কমতে শুরু করেছে। আমার ডিসিশনও তাহলে মাঝে মাঝে সঠিক হতে পারে। যদিও হুয়াওয়ে ইউজারদের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে অনেকটা সময় লাগবে, তবুও ট্রলপ্রিয় জাতির কোনো ট্রল বা হাসাহাসির কবলে আমাকে পড়তে হচ্ছে না ভাবতেই প্রাণশক্তি ফিরে আসছে। জীবন নিয়ে আমার আর কোনো আক্ষেপ বা হতাশা নেই।

খবর : হুয়াওয়ের অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারে গুগলের বাধা, নতুন মডেলে কিছু অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না।