ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


যৌথ প্রেম!

যৌথ প্রেম!

ফখরুল ইসলাম কল্প

বিজয় একাত্তর হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বন্ধুর জন্য বন্ধুর ত্যাগের অনেক কাহিনি ইতিহাসে আছে। কেউ বন্ধুকে সম্পত্তি দিয়েছে, কেউ কিডনি দিয়ে গেছে, কিংবা কেউ কেউ প্রাণও দিয়েছে বন্ধুত্বের জন্য! আমার বন্ধু আমাকে যেটা দিয়েছে সেটা একদম বিরল! এরকম ত্যাগের ইতিহাস কোথাও পড়িনি।

তখন ক্লাস এইটে পড়ি। বন্ধুও সেম, তবে অন্য প্রতিষ্ঠানে। বন্ধু ছিল খুব বাকপটু। এ কারণে মেয়েসমাজে ওর বিশেষ কদর লক্ষ করা যেত। সেই বয়সে তার এই দক্ষতা মেয়েসমাজের কাছে আমাদের থেকে তাকে অনেকটা এগিয়ে রেখেছিল। ঘটনা হলো, বন্ধু ওর স্কুলে এক মেয়ের সঙ্গে কথা বলত। যদিও সেই বয়সে আমাদের জন্য কোনো মেয়ের মন পাওয়া কিংবা পাওয়ার চিন্তা করাই কঠিন ছিল। কিন্তু বন্ধুর বাকপটুতার জন্য মেয়েটা পটে যায়। কাহিনি এরকমই চলছিল। হঠাত্ করে একদিন মেয়েটি বন্ধুর কাছে ফোন নম্বর চেয়ে বসে।

তখন এমনিতেই বেশিদিন হয়নি সবাই ফোন ব্যবহার করছে। তার ওপর মফস্বলে তখনো ছেলেবুড়ো সবার হাতে ফোন ওঠেনি। তো বন্ধুর ফোনই ছিল না। নম্বর দেবে কোথা থেকে! কিন্তু এটা তো মেয়ের কাছে স্বীকার করা যায় না। প্রেস্টিজ ইস্যু। আমার তখন ছোটখাটো একটা ফোন ছিল ভাগ্যক্রমে। বন্ধুর কাছে নম্বর ছিল। তো বন্ধু কোনোকিছু না ভেবে আমার নম্বর তার প্রেমিকাকে দিয়ে আসে।

বিকেলে এসেই আমার খোঁজ। অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে বলল, আমি যেন এই হেল্পটা করি। ওর হয়ে ওর প্রেমিকার সাথে কথা বলি। আমার জন্য সেটা মোটেও কষ্টকর কিছু ছিল না। ওই বয়সে প্রেম না করেও প্রেমের এক্সপেরিয়েন্স পাচ্ছিলাম। এখনকার মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো না। দু-চার মিনিট কথা হতো। পরে আমি বন্ধুকে জানিয়ে দিতাম, কী কথা হলো তার প্রেমিকার সঙ্গে। পরে অবশ্য ও ফোন কেনার পর নিজের দায়িত্ব নিজেই পালন করেছে।

সেই বন্ধু কয়েকদিন আগে বিয়ে করেছে। ও হয়তো জানে না কত বড় উদারতার প্রমাণ দিয়ে ফেলেছে। এখন অনেকে যেখানে প্রেমিকার দিকে তাকালেই ভালোমন্দ ভেবে বসে। সেখানে ফোনে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া বিশাল উদারতা। বন্ধু তুই মহান!

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন