ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


ভাগ্য

ভাগ্য

জোবায়ের রাজু

আমিশাপাড়া, নোয়াখালী

আমার আশপাশের লোকজনের ধারণা, আমি খুবই সহজ-সরল আর খানিকটা বোকাও। কিন্তু আমি শিওর আমার মতো চালাক জগতে খুব কমই আছে। আমি যদি সহজ-সরল আর বোকাই হতাম, তাহলে এই মহল্লার সবচেয়ে সুন্দরী বালিকা পুষ্পকে মনপ্রাণ দিয়ে বসে থাকতাম না।

পুষ্প মানে ফুল। সে ফুলের মতোই সুন্দর। হাসলে গালে প্রীতি জিনতার মতো টোল পড়ে। এই মেয়েকে জীবনে না পেলে বেঁচে থাকাই আমার বৃথা। কিন্তু মনের অব্যক্ত কথা পুষ্পকে জানানোর মতো পর্যাপ্ত সাহস আমার বুকে নেই। প্রতিদিন ভাবি, আজ পুষ্পকে গিয়ে বলব, ‘ভালোবাসি তোমাকে।’ কিন্তু দ্বিধা আর খানিক নার্ভাসনেসের কারণে এই মহান কাজটি সমাধা করতে পারি না।

দ্বারস্থ হলাম বন্ধু শান্তর। শান্ত আমার কাছের বন্ধু। জীবনের বড় বড় সমস্যার সমাধান ও-ই করেছে। পুষ্পকে ঘিরে আমার অনুভূতি জেনে শান্ত বলল, ‘দ্বিধা কিসের! যা বলে দে, তোমাকে ভালোবাসি।’ শান্তর কথায় আমি সাহস পেলাম।

বিকেলেই একবুক সাহস নিয়ে পুষ্পর সামনে দাঁড়ালাম। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে হাওয়া খাচ্ছিল পুষ্প। তার পাশে গিয়ে বললাম, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ পুষ্প বড় বড় চোখ করে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তারপর বলল, ‘আমার পায়ের জুতাটা কিন্তু নতুন।’

আশ্চর্য। ভালোবাসা নিবেদনের সঙ্গে নতুন জুতার সম্পর্ক কী! পুষ্প মনে হয় আমার কথা বুঝতে পারেনি। আবারও উচ্ছ্বাস গলায় বললাম, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ পুষ্প এবার কড়া গলায় বলল, ‘বলছি না আমার পায়ের জুতাটা কিন্তু নতুন!’

বুঝতে পারলাম এই মেয়ে বধির। কানে শোনে না। বলছি ভালোবাসার কথা, আর সে বলছে নিজের পায়ের নতুন জুতার কথা। নতুন জুতা তো আমার পায়েও আছে। তাই বলে সেটা বলে বেড়াতে হবে! না, এই বধির মেয়েকে বিয়ে করলে বাকি জীবন ঝামেলায় কাটবে।

বন্ধু শান্তর কাছে ফিরে এসে বললাম, ‘পুষ্প যে কানে শোনে না, জানতাম না।’ চোখ কপালে তুলে শান্ত বলল, ‘কানে শোনে না মানে?’ বললাম, ‘পুষ্পকে দুইবার ভালোবাসার কথা বললাম। প্রতিবারই সে বলেছে, আমার পায়ের জুতা কিন্তু নতুন।’ বধির একটা মেয়েকে মন দিয়ে বসে আছি। আমার কথা শোনে শান্ত হো-হো করে হেসে উঠল।

—হাসছিস কেন?

—হাসব না! আরে বোকা, এই নতুন জুতার কথা সে কেন বলেছে, সেটা তোর মতো বোকা বুঝবে না।

—মানে?

—তোর মতো বোকা-হাঁদারামকে পুষ্প ভালোবাসবে না। তাই নতুন জুতার হুমকি দিয়েছে তার সামনে থেকে সরে যেতে। জুতা পেটা যে করেনি, এটাই তোর ভাগ্য।

—কী বলছিস?

—এই পাড়ার মনির ভাইকে চিনিস?

—চিনি।

—কে বেশি স্মার্ট? তুই না মনির ভাই?

—মনির ভাই।

—মনির ভাই সেদিন পুষ্পকে ‘আই লাভ ইউ’ বলার সাথে সাথে পুষ্প মনির ভাইকে জুতা দিয়ে দুই বাড়ি মারল। তোকে তো আর জুতা মারেনি। তোর ভাগ্য ভালো।

—সত্যি মনির ভাইকে পুষ্প জুতা...? তাহলে তো আমার ভাগ্য ভালো।

—হ্যাঁ। বোকা আর হাঁদারামদের ভাগ্য বেশিরভাগ সময়ে ভালোই হয়।

শান্ত হো-হো করে হাসছে। আমিও হাসছি। আমার ভাগ্য ভালো যে পুষ্প মনির ভাইয়ের মতো আমাকে জুতা দিয়ে মারেনি। হা হা হা! আমার ভাগ্য কত ভালো। এই মুহূর্তে ইচ্ছে করছে মনির ভাইকে গিয়ে বলি, ‘ভাইজান, পুষ্প কিন্তু আপনাকে জুতা দিয়ে মারলেও আমাকে মারেনি। আপনার থেকে আমার ভাগ্য বেশি ভালো।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন