ঢাকা সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
২১ °সে

জীবনের গল্প

একজন ফজর আলী আমাদের অনুপ্রেরণা

একজন ফজর আলী  আমাদের অনুপ্রেরণা

দরিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে জয়ী হওয়া একজন মানুষ, যিনি শিক্ষাকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন—তাকে নিয়েই এ লেখা। তিনি একজন শিক্ষক। প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি বিদ্যালয়। অথচ পড়াশোনা করার জন্য কতই না কষ্ট করতে হয়েছে তাকে। বাবা ছিলেন একজন রিকশাচালক। যে সময়ে তার স্কুলে যাবার কথা, সে সময়টায় তাকে জীবিকা নির্বাহের জন্য রিকশা ঠেলতে হয়েছে। তখন পড়ানোর কথা বলে একজন তাকে শহরে নিয়ে যান। এর বিনিময়ে প্রতিদিন একবেলা তার বাজার-সওদা করে দিতে হবে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাকে টয়লেট পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে আরো অনেক কাজ করতে হতো! পড়ানো তো দূরে থাক, তার সব বইখাতা পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলে তারা। এ অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে আসেন তিনি। এ সময় তার বাবার শরীর আরো খারাপ হতে থাকে। একদিন বাবার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে মাকে নিয়ে ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান। কিন্তু নগদ টাকা দিতে না পারায় ওষুধ রেখে দেয় দোকানদার। ওষুধ আর কেনা হয়না। বাবাকেও আর বাঁচানো যায়নি। তিনি যখন উচ্চ মাধ্যমিকে, তখন ফরম ফিলাপের জন্য যাত্রাপালার এক আয়োজকের কাছে টাকা ধার চাইতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন। অবশেষে তারই এক চাচার সহায়তায় ফরম পূরণ হয় এবং উচ্চ ম্যাধমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন!

যার কথা বলছিলাম, তিনি আমাদের চাচা ফজর আলী! তিনি এখন সুপ্রতিষ্ঠিত। গাজীপুরের ভবানীপুরে গড়ে তুলেছেন চাইল্ড কেয়ার নামে একটি বিদ্যালয়। তার বিদ্যালয়ে ৫০ জনেরও অধিক বিনা বেতনে এবং অর্ধেক বেতনে পড়াশোনা করছে। ভবিষ্যতে তিনি শ্রমজীবি শিশুদের পড়াশোনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন চালু করবেন বলে জানান ।

কচি-কাঁচার আসরের বন্ধুদের কাছে গল্পটি তুলে ধরার কারণ হলো—এখন আমাদের এত সংগ্রাম করে পড়াশোনা করতে হয় না, তবুও আমাদের পড়াশোনায় কত অনীহা। প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য ফজর আলী চাচাদের মতো মানুষগুলোর কাছে থাকা, স্পর্শে থাকা আমাদের জন্য জরুরি।

ষষ্ঠ শ্রেণি, মাওনা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়, চকপাড়া, মাওনা, শ্রীপুর, গাজীপুর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন