ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩১ °সে


গ্রীষ্মেও চাই ঝলমলে চুল

গ্রীষ্মেও চাই  ঝলমলে চুল

বইছে গ্রীষ্মের বৈরী হাওয়া। বাইরে বের হলে রেহাই নেই রোদের প্রখরতা থেকে। আর সূর্যের উত্তাপটা যেন ছড়ায় একেবারে শিরোদেশকে উদ্দেশ্য করেই। ঘেমেনেয়ে চুলের চিটচিটে অবস্থা হয়। এ থেকে মাথায় খুশকি হওয়া, চুল নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়া, চুল পড়ার মতো সমস্যার সঙ্গে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। এ সমস্যার সমাধান কী? উত্তর জানাচ্ছেন নওশীন শর্মিলী

গরমের এই শুরুতেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে লাইফ স্টাইলের ওপর। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চুলের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ত্বক ও চুল, সর্বোপরি আমাদের স্বাভাবিক সৌন্দর্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির কারণে চুল হয়ে পড়ে শুষ্ক, প্রাণহীন ও ভঙ্গুর। এই সমস্যাগুলো হয় যেসব কারণে; তার মধ্যে রয়েছে মাথার ত্বকে ঘাম জমে থাকা, সূর্যের অত্যধিক তাপ এবং তার প্রভাবে বিভিন্ন প্রসাধনীতে থাকা উপাদানগুলোর রাসায়নিক বিক্রিয়া। ঘাম ও ধুলাবালির কারণে চুলের গোড়ায় ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের উপদ্রব তৈরি হতে পারে। তাই এ সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো চুল পরিচ্ছন্ন রাখা। প্রয়োজনে প্রতিদিন চুল শ্যাম্পু করতে হবে। শ্যাম্পু করলে চুলের ক্ষতি হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। শ্যাম্পুর কাজ হলো চুলে জমে থাকা ময়লা পরিচ্ছন্ন করা। আবার খুশকির জন্য চুল পড়ছে, এ ধারণাও ভুল। বরং গরমে চুল ঘেমে গেলে চুলের গোড়ায় চুলকানো ও চুল টানার কারণে গোড়া নরম হয়ে চুল পড়তে থাকে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে। এর পাশাপাশি ঘামের সমস্যা কমাতে উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা, গরম আবহাওয়া যথাসম্ভব পরিহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। গরমের সময় গরম চা, গরম কফি, বেশি ঝাল খাবারও পরিহার করতে হবে। এ সময়ে চাই চুলের জন্য বিশেষ কিছু পরিচর্যা।

l গরমের দিনে গরম এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে চাইলে ঘাম এড়িয়ে চলা সম্ভব হতে পারে। বাতাস চলাচল করে এ রকম জায়গা দিয়ে চলাফেরা করলে ঘাম কম হয়।

l চুলের গোড়া ঘেমে গেলে বাইরে থেকে ঘরে ফিরে পাখার ঠাণ্ডা বাতাসে চুলটা শুকিয়ে নিতে হবে। কোনোভাবেই ঘামে ভেজা চুল বেঁধে রাখা যাবে না। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং চুল পড়া বাড়ে।

l ধুলাবালি ও ঘামের কারণে চুল নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে প্রয়োজনে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে শ্যাম্পু করার পর চুলের গোড়ায় যেন বাড়তি শ্যাম্পু না লেগে থাকে।

l যাদের খুশকির প্রবণতা বেশি, তারা খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে এর আগে মাথায় ত্বকে তেল দিয়ে মালিশ করে নিন। এটি আপনাকে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের সুফল দেবে।

l যাদের চুল খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহারে নিষ্প্রাণ হয়ে যায়, তারা খুশকিনাশক তেল ব্যবহার করতে পারেন। এরপর আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

l চুলের পরিচর্যার জন্য টক দই, মেহেদি পাতা, মেথি গুঁড়া ও কাগজি লেবুর কয়েক ফোঁটা রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এটি চুলে ৩০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। টক দই করবে ময়েশ্চারাইজারের কাজ। মেথি গুঁড়া খুশকি দূর করবে এবং চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়াবে কাগজি লেবুর রস। এভাবে মাসে অন্তত একদিন যত্ন নিন।

l চুল দিন দিন নিষ্প্রাণ হয়ে যাচ্ছে, এমন মনে হলে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। যা পারলারে গিয়ে করতে পারবেন। আর ঘরে বসে করতে চাইলে ডিমের সাদা অংশ, পাকা কলা, টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে লাগাতে পারেন।

l চুল পড়া কমাতে আমলকির রস ও ক্যাস্টর অয়েল চুলের গোড়ায় মালিশ করুন। এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

l চুল শুকাতে বা ঘাম শুকাতে হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস পরিহার করুন। প্রখর রোদে বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করুন।

মডেল লাক্সতারকা নাজিফা তুশি

ছবি মোহসীন আহমেদ কাওছার

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন