ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
৩২ °সে

রায়ানার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

রায়ানার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক

রায়ানা হোসেন। পড়াশুনো করেছেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার অ্যান্ড ভিজ্যুয়াল স্টাডিজ বিভাগ থেকে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার ডিগ্রি অজর্ন করেন। বিদেশে পড়াশুনা শেষ করে নিজ দেশে কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন এই তরম্নণী। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইশো। যেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য জিনিসগুলোর গতানুগতিক ডিজাইনে পরিবর্তন এনে আধুনিক জীবনযাপনের সাথে তাল রেখেই নতুনত্ব নিয়ে আসে ডেকো ইশো গ্রম্নপের অনলাইন ভিত্তিক ফার্নিচার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইশো (আইএসএইচও)।

বাড়ি ও অফিসের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে অত্যাধুনিক সব ডিজাইনের ফার্নিচার উপহার দিতে প্রথমে অনলাইন ভিত্তিক কার্যক্রম শুরম্ন করেন। পরবর্তীতে গ্রাহকদের জনপ্রিয়তায় সাড়া দিয়ে নতুন করে অফলাইন শো-রম্নম চালু করেছেন।

আর্কিটেকচার অ্যান্ড ভিজ্যুয়াল স্টাডিজ বিভাগ থেকে পড়াশুনা তার ফার্নিচার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইশোর ক্ষেত্রে সহযোগী ভূমিকা রেখেছে কী না এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়ানা হোসেন বলেন, আমার শিক্ষার ফলেই এ বিষয়গুলো সর্ম্পকে সচেতন হতে পেরেছি। সেই সচেতনতা থেকেই জনগণের বাসার ফাঁকা জায়গাগুলো ব্যবহার করার জন্য আমি প্রথমে এ ধারণাটি নিয়ে আসি। তবে নতুন ডিজাইন তৈরি করার ক্ষেত্রে আমার শিক্ষা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমি মনে করি একটি বড় মাপের শহুরে নকশা করার সময় বা নকশা করার আগে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন যেমন-পরিবেশ, ইতিহাস, রাজনীতি, জনসংখ্যা, অর্থনীতি ইত্যাদি।

রায়ানা বলেন, আমি যখন ফার্নিচারের ডিজাইন করি তখন এসব দর্শনের একটা প্রভাব ফেলে। সবসময় চিন্ত্মা করি মানুষ কিভাবে ফার্নিচারের সংস্পর্শে আসে-কিভাবে আসবাবপত্র এই স্থানের সাথে যোগাযোগ করে, কিভাবে সবচেয়ে দক্ষ উপায়ে আসবাবপত্র ব্যবহার করা যায়। সেসব চিন্ত্মা থেকেই আমি ফার্নিচারের ডিজাইন করি। এছাড়াও ইশোর ডিজাইনগুলো খুব ইউনিক, এমন নয় যে বাংলাদেশের মানুষ তা দেখতে দেখতে অভ্যসত্ম। নতুন সব ডিজাইনের অনুপ্রেরণা কোথা থেকে আসে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পণ্যগুলো নকশা করা হয় ইন-হাউস ডিজাইন স্টুডিওতে। প্রযুক্তির প্রতি ফোকাস করেই আমোদের পণ্য তৈরি করা হয়। শতরঞ্জি প্রজেক্ট, স্মার্ট চার্জিং টেবিল এর বাইরে আমরা শীঘ্রই সৌর বাতি ছাড়বো। এগুলোই অন্যান্য আসবাবপত্রের থেকে আমাদের পণ্যের পার্থক্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা ফার্নিচারের ডিজাইনে নতুন কিছু আবিষ্কার নিয়ে আসার চেষ্টা করি। দীর্ঘদিন যাবত্ আমরা নান্দনিক ডিজাইনের সব ফার্নিচার নিয়ে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। অনলাইনে গ্রাহকপ্রিয়তা এবং গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্ত্মা করে আমরা নতুন করে অফলাইন শো-রম্নম চালু করেছি। এখন থেকে গ্রাহকরা শো-রম্নমে এসে তাদের পছন্দ মতো ফার্নিচার দেখে ক্রয় করতে পারবে। ইশোর ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ভবিষ্যতে আরও স্টোর খোলার পরিকল্পনা করব। তবে, আমাদের ফোকাস এই মুহুর্তে আমাদের বিতরণ নেটওয়ার্কের দক্ষতার দিকে এবং আমরা আমাদের ই-বাণিজ্য পোর্টাল আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছি। দেশের নতুন নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নারীরা আর পিছিয়ে নেই। সেই কথা মনে রেখেই আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। চলার পথে অনেক বাধা আসবে সেগুলো পেরিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। কোন কাজকে ছোট না ভেবে কাজ শুরম্ন করতে হবে। মানুষ এখন প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে সেই দিকটি বিবেচনা করে নতুন উদ্যোক্তা হতে হবে। আমি আশা করবো যেসব নারীরা নতুন উদ্যোক্তা হতে চান তাদের জন্য অনলাইন পস্ন্যাটফর্ম অনেক বড় একটি সুযোগ। এদিকে কাজের ফাঁকে ফাঁকে সময় পেলেই রায়ানা হোসেন চলে যান ভ্রমণে। অবসর সময়ে ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকাসহ নানান দেশে। নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসার ভাবনায় ভ্রমণের সময়ও তিনি নকশা ও বিভিন্ন দেশের স্থাপত্যের উপর বেশি নজর রাখেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৩ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন