ঢাকা শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
৩১ °সে


কাকাতুয়ার বাবা

কাকাতুয়ার বাবা

একাত্তরের মার্চের গনগনে আগুনঝরা প্রথম দিনের সন্ধ্যা নেমে এল, আমার পাপিয়া আপু বাড়ি ফিরল না। এমনকি ছেলেদেরও বাড়ি থেকে বেরোনো যাবে না—এমন একটা নিষেধাজ্ঞা জারিই ছিল। আমার বোনদের বেলায় আব্বু আরো কঠোর ছিলেন। স্বাভাবিক সময়েই ফিরতে দশ-পনের মিনিট দেরি হলে এক ডজন প্রশ্নের জবাব দিতে হতো। কেন দেরি? সাথে কে ছিল? এ ছিল কমন প্রশ্ন।

পাপিয়া আপু বলত, এই তো কথা বলতে বলতে একটু দেরি হয়ে গেল।

কিসের এত কথা? কার সাথে?

অর্গানিক কেমেস্ট্রি আব্বু। মিলির সাথে, আমাদের ফার্স্ট গার্ল। আমাকে একটু বুঝিয়ে দিচ্ছিল।

সময় খারাপ। সাবধান, আর যেন দেরি না হয়।

আচ্ছা আব্বু, আর দেরি হবে না।

স্বাভাবিক সময়েই পাপিয়া আপু কোনো এক অসুস্থ বান্ধবীকে দেখতে যাবার কথা বলে বের হয়ে আছরের নামাজের পরপর বাড়ি এসে হাজির হলো।

আব্বু বললেন, আমি কিন্তু পাপিয়ার পায়ে শিকল দিতে বাধ্য হবো।

আম্মু সবসময়ই আব্বুর কপি-ক্যাট। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তার কথারই পুনরাবৃত্তি করেন।

বললেন, চন্দনার আব্বু ঠিকই বলেছেন, পাপিয়ার পায়ে লোহার শিকল পরাতে হবে।

আব্বুর কোনো কথার এতটুকু প্রতিবাদ করার ক্ষমতা ও সাহস আম্মুর নেই। তার বড় কারণ আমাদের এই ভাড়াবাড়ি ছাড়া আম্মুর দাঁড়াবার আর কোনো জায়গা নেই। কখনো ছিলও না। আব্বু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্টে চাকরি করার সময় মানিকগঞ্জের একটি এতিমখানা থেকে চৌদ্দ কি সাড়ে চৌদ্দ বছর বয়সী রাহেলা বেগমকে বিয়ে করে সরাসরি ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে সাবলেট হিসেবে ওঠেন। তখন বিয়ের জন্য আঠার বছর হতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। কাবিনে দুজনেরই স্থায়ী ঠিকানার ঘরে আমার দাদার ঠিকানা বসানো হয়েছে।

চন্দনার জন্ম সবার আগে, সেজন্য আমার আব্বু ও আম্মুর পরিচিতি চন্দনার বাবা ও মা হিসেবে। চন্দনার পর ময়না। ময়নার পর পাপিয়া। ছেলে আর হবে না এই ভয় ছিল দুজনের। আমার জন্ম এই ভয়টা কাটিয়ে দিলো। আমার নাম হাসান মাহমুদ। ডাকনাম বাবু, একাত্তরে আমার বয়স সতের বছর। পাপিয়ার সাড়ে আঠার। একাত্তরে আমার বয়সী ছেলেরা মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, কিন্তু টাকা-পয়সার জন্যই হোক কি পাকিস্তানকে ভালোবাসার জন্যই হোক, কেউ কেউ রাজাকারের খাতায়ও নাম লিখিয়েছে।

তখন আমি এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ও অঙ্কে ফেল করে পড়াশোনা থেকে চিরবিদায় নেবার পাঁয়তারা করছি।

আমার ঠিক পরেরটা হাসান মোরশেদ, ডাক নাম তপু। আমি ক্লাস এইটেও ফেল করার কারণে পরপর দু’বছর একই ক্লাসে পড়ি, ফলে তপু ছোট ভাই হলেও আমার ক্লাসমেট হয়ে যায় এবং এসএসসি পরীক্ষায় সায়েন্স গ্রুপ থেকে ফার্স্ট ডিভিশন পায়। আমাদের স্কুল থেকে মাত্র চার জন ফার্স্ট ডিভিশন পেয়েছে, তপু তাদের একজন। তবু তপুর খ্যাতি অন্য তিন জনের চেয়ে বেশি কারণ, সে স্কুল ফুটবল টিমের গোলকিপার। তারচেয়ে বড় পরিচয়—তপু স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কৌতুক পরিবেশন করে থাকে। সবাই তাকে ডাকে জোকার তপু। শেষ পর্যন্ত তপু জোকার হবে না, ডাক্তার হবে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছে।

তপুর পর আর আমদের একটি ভাই হাসান জামান, ডাক নাম লেবু। লেবু ক্লাস এইটে। ছাত্র আমার চেয়ে ভালো কিন্তু তপুর মতো এতটা ভালো নয়।

এখানেই শেষ নয়। আর একটা বোন আছে। পাখির নামের তালিকা ঘেঁটে তার নাম রাখা হয়েছে শালিক।

শালিক নামটা আমার বড় বোনরা পছন্দ করেনি। আম্মুকে বলেছে। আম্মু বলেছেন, তিনি তার মেয়ের নাম ডাহুক রাখবেন না লক্ষ্মীপেঁচা রাখবেন এটা তার ব্যাপার। এখানে তোমাদের কথা খাটবে না।

পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়ার সাথে আমাদেরও বিভিন্ন সময় ভাড়া বাসা বদলাতে হয়েছে। এক বছর গজনবী রোড তো পরের বছর শেরশাহ সুরি রোড। সাতষট্টি সালের শুরু থেকে সত্তরের নভেম্বর পর্যন্ত আমরা ছিলাম তাজমহল রোডে নুসরাত আলী চাদরওয়ালার বাড়ির একতলায়। দুই স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে চাদরওয়ালা থাকতেন দোতলায়। তার যথেষ্ট কাঁচা পয়সা। আব্বু সময়মতো ভাড়া দিতে পারতেন না—এ নিয়ে তিনি কখনো বকাঝকা করেননি, বলেছেন, কোনো বাঙালি তার টাকা মেরে খাননি। জীবনে তিন বার মার খেয়েছেন, তিনবারই তার মতো অবাঙ্গালির হাতে। জুম্মা খান নামের তার এক পাকিস্তানি বিজনেস পার্টনার তার পুঁজির পুরোটাই মেরে দিয়ে তাকে পথে বসিয়েছিল। কিন্তু চাদরের ব্যবসায় তিনি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

ঘটনাটা সত্তরের অক্টোবরের। নির্বাচন হবার কথা ছিল, পিছিয়ে ডিসেম্বরের ৭ তারিখে নেওয়া হয়েছে।

নিচতলার পশ্চিমে উত্তর কোণে আমাদের বাথরুম। বাথরুমে একটা ছোট জানালাও ছিল।

আবিষ্কারটা পাপিয়ারই। যখন গোসল করছিল, তার চোখে পড়ে জানালা দিয়ে এক জোড়া চোখ তাকে দেখছে। চিত্কার করে ওঠে। জানালার কপাট খুলে তাকিয়ে দেখে তানভির দার দৌঁড়ে পালাচ্ছে। এটা একটা বড় ইস্যু হয়ে গেল। আব্বু পারেন তো এটাকে বিশ্বসংবাদে পরিণত করে তানভির দারের ফাঁসির দাবি করেন।

বাড়িওয়ালা নুসরাত আলী চাদরওয়ালা অভিযোগ শুনে সত্যমিথ্যে যাচাইয়ের কথা না বলে সোজাসুজি বললেন, এর চেয়ে বড় অপরাধ আর হতে পারে না।

তত্ক্ষণাত্ নিজের পায়ের একপাটি চামড়ার চটি খুলে নিজের দু’গালে দু’বার মেরে আব্বুকে বললেন, ভাইজান, আপনিও আমার গালে জুতো মারুন। তানভিরের মতো এমন একটা ছেলের আব্বা হয়ে আমি খুব শর্মিন্দা আছি। আমি আপনার কাছে মাফ চাই, আমি মা পাপিয়ার কাছেও মাফ চেয়ে নেব।

তিনি যেভাবে বিনা তর্কে অপরাধ মেনে নিয়ে তানভিরের বাবা হবার খেসারত দিতে নিজের গালে চটি মারলেন, আমরা সবাই তাতে বিব্রত হলাম। আব্বুও বললেন, ছেলেকে ডেকে ধমক দিলেই তো ঝামেলা মিটে যেত।

তিনি বললেন তা হতে পারে। আমার পূর্বপুরুষ লক্ষেৗর হযরত ওয়ারিশ আলী শাহ। তিনি শিখিয়েছেন কারো পিতার সাথে অন্যায় করলে তার ওয়ারিশদের কাছ থেকে মাফ নিতে হবে, কারো সন্তানের অন্যায় কিছু করলে তার পিতামাতার কাছ থেকে ক্ষমা মঞ্জুর করিয়ে নিতে হবে। খুনের মামালায় ফেসে গিয়ে আমার পিতা বিহারের মুজাফফরপুরে হিজরত করেন, কিন্তু সাতচল্লিশের দাঙ্গায় প্রাণের ভয়ে তিনি চলে আসেন পূর্ব বাংলায়। এখানকার মানুষ ভালো, বিদেশি বলে দূর দূর করেনি।

তার পূর্বপুরুষ যে লক্ষেৗর হযরত বাবা ওয়ারিশ আলী শাহ সে কথা বাড়ি ভাড়া নেবার সময়ও শুনেছি। তার নাড়ির টান করাচিতে নয়, বিহারের মুজাফফরপুরেও নয়, তার টান লক্ষেৗর দিকে।

সে রাতে নুসরাত আলী চাদরওয়ালা ও তার বোরকাপরা প্রথম স্ত্রী কুড়ি কি একুশ বছর বয়সী অত্যন্ত সুদর্শন তানভির দারকে নিয়ে নিচতলায় এলেন। দরজা আমিই খুলি। তিনি আব্বু-আম্মু ও পাপিয়াকে ডাকতে বললেন। পাপিয়া সামনে আসতে চায়নি। তবুও বাড়িওয়ালার কাতর ডাকে সামনে না এসে পারল না। তিনি নিজের পা থেকে চটি খুলে পাপিয়ার হাতে দিয়ে বললেন, আওর মারো তানভির কো গালে মারো।

পাপিয়া থ হয়ে থাকে। তিনি আবার বলেন, তানভিরের আম্মাজানকে নিয়ে এসেছি। তুমি তার পেটে একটা চটি জুতো মারো। এই পেটে তানভিরের মতো একটা বদছেলেকে ধরেছে। আর একবার যদি এমন কিছু শুনি আমি ছয় ইঞ্চি গজাল গরম করে তানভিরের চোখে ঢুকিয়ে দেবো। বেআব্রু অবস্থার মেয়েমানুষের দিকে তাকানো সবচেয়ে বড় অপরাধ।

তিনি পাপিয়ার ওপর রীতিমতো জোরজবরদস্তি শুরু করেন, মারো, হারামজাদার গালে চটি মারো।

তানভির ফ্যালফ্যাল করে পাপিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। নুসরাত আলীর চটি হাতে নিয়ে পাপিয়া হঠাত্ কেঁদে ফেলে। আমাদের সকলকে অবাক করে, মাফ কিজিয়ে মুঝে মাফ কিজিয়ে, বলতে বলতে তানভিরও হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে।

আব্বুই সামাল দেন। তানভিরকে বলেন, যা হবার হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য সাবধান হয়ে যাও।

তানভির আব্বুর পা ধরে ক্ষমা চায়।

আব্বু নুসরাত আলীকে একটি হুমকিও দেন। নুসরাত সাহেব, একবার ইলেকশনটা হতে দিন। আমাদের শেখ সাহেব পাকিস্তানের প্রাইম মিনিস্টার হচ্ছেন। দিন কিন্তু পাল্টে যাচ্ছে।

তারপর চুদুর বুদুর-এর মতো একটি বাজে শব্দ যোগ করে বললেন, বেশি চুদুর বুদুর করলে কিন্তু সব নন-বেঙ্গলি ঘাড় ধরে বের করে দেবেন। শেখ সাহেবকে চেনেন না। তার ভয়ে ইয়াহিয়া প্যান্ট ভিজিয়ে দেয়। খবর নিয়ে দেখুন।

তা পাকিস্তানিদের করবেন, আমরা লক্ষেৗর খান্দান।

আরো একবার মাফ চেয়ে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের পুত্র তানভির দার যখন একতলা থেকে বেরিয়ে যায় তখন রাত সাড়ে দশটা।

আমার আম্মুর মতো অনুগত নারীও সেদিন আব্বুকে বলেন, আপনি বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন। উঁকি দিয়ে কি এমন দেখেছে, এতে পাপিয়ার শরীরে তো আর ফোস্কা পড়েনি। এখন যদি মাওড়া ছেলেরা এসে পাপিয়াকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়, আপনি ঠেকাতে পারবেন?

আব্বু বিড়বিড় করে বললেন, এত সহজ নয়। আমি কি শালার মাওড়ার বাচ্চাদের ছেড়ে দেবো নাকি?

আমরা লক্ষেৗর কি গুজরাটের, কলিকাতার কি বিহারের, বালুচ কি পাঞ্জাবি, পাঠান কি সিন্ধি নির্বিশেষে উর্দু, হিন্দি, মৈথিলি কি পশতুভাষীদের মাওড়া বলি।

সে রাতে চন্দনা আপু বলল, সবকিছুতেই আব্বুর বাড়াবাড়ি।

চন্দনা বিবাহিত। বিবাহিত মানুষ মুখের ওপর কিছু বলতেই পারে। চন্দনার পেট ফুলে ফুটবলের মতো হয়ে গেছে। ভেতরে একটা বাচ্চা আছে। সাড়ে সাত মাস চলছে। চন্দনা বলল, তানভির ইকবাল গুন্ডাকে নিয়ে পাপিয়াকে তুলে নিয়ে যাবে, আর প্রেগন্যান্ট বানিয়ে ছেড়ে যাবে— আব্বু এটা মনে রাখবেন।

চন্দনার হাজব্যান্ড পাকিস্তান এয়ারফোর্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স অফিসার। তেজগাঁও পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা করে এয়ারফোর্সে ঢুকেছে। তার অফিস পশ্চিম পাকিস্তানের সারগোদায়। চন্দনা সেখানেই ছিল। বাচ্চা হবে তা-ই আম্মুর কাছে চলে এসেছে। চন্দনা দেখতে আমার দাদির মতো, সেজন্য আব্বুর বিশেষ প্রিয়। ময়না তো বাড়িতেই থাকে। ময়নার বিয়ে হয়নি, এ পর্যন্ত তিনটি প্রস্তাব দেখাদেখির পর্যায় শেষ হবার পর ভেঙে গেছে। ময়না বোবা এবং বধির, একটি চোখও ট্যারা। কিন্তু ময়নার হাসিটা চমত্কার।

সে রাতে পাপিয়া খুব কেঁদেছে।

পরদিন সকালে অন্তত একঝুড়ি লুচি, পাঁচফোড়ন দেওয়া সবজি এবং লাহোরি হালুয়া দিয়ে গেলেন নুসরাত আলী চাদরওয়ালা। বলেছেন, বাচ্চারা খাবে।

তিনি আমাদের আগেও হালুয়া কাবাব শাহি টুকরা এসব খাইয়েছেন। এবার পাপিয়া মাওড়াদের খাবার মুখেই তুলল না।

আব্বু সকাল দশটা না বাজতেই বাথরুমে ঢুকে এক ফালি টিনের ওপর পেরেক মেরে জানালাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিলেন।

পাপিয়া বলল, আব্বু ঠিক কাজই করেছেন।

আব্বুর অনেক ভালো কাজেরই কোনো স্বীকৃতি নেই। পাপিয়ার কথা শুনে আব্বু খুব খুশি হলো।

আব্বু মুখে যা-ই বলুন, অবাঙালি পাড়ায় থেকে তাদের অপদস্ত করা যে পানিতে নেমে কুমিরের সাথে লড়াই করার মতো এটা বুঝতে দেরি করেননি।

নুসরাত আলীর দেওয়া হালুয়া লুচি খেয়ে নতুন কোনো ভাড়াবাড়ি খুঁজতে বের হলেন এবং নূরজাহান রোডে একই ভাড়ায় এখনকারটার চেয়ে একটা বড় বাড়ি পেয়ে গেলেন। নভেম্বর থেকে খালি হবে। হাতছাড়া হয়ে যাবার ভয়ে কিছু আগাম ভাড়াও দিয়ে এলেন। মূল কারণটা যা-ই হোক, আব্বু নুসরাত আলীকে বললেন, বাড়িটা বড়, তাই যাচ্ছি।

একাত্তরের মার্চে আমরা নূরজাহান রোডের সেই বাড়িতে।

দুই.

এই আসছি বলে বেরিয়েছিল। মার্চের প্রথম দিনের সন্ধ্যা গড়িয়ে গেল। পাপিয়া আপুর খবর নেই। আমরা দুশ্চিন্তায় ডুবে আছি, আম্মু কাঁদতে শুরু করেছেন, আমার পাপিয়া আর বেঁচে নেই।

রাত পৌনে এগার কি এগারটার দিকে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। আমরা ভাবি নিশ্চয়ই পাপিয়া ফিরে এসেছে। কিন্তু দরজা খুলতেই ভেতরে ঢুকলেন তাজমহল রোডের আমাদের সেই পুরনো বাড়িওয়ালা নুসরাত আলী চাদরওয়ালা।

তিনি বেশ ঝাঁঝালো স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, পাপিয়া কোথায়?

আমরা অবাক হই, তিনি এ কথা জিজ্ঞেস করছেন কেন?

তিনি যা বললেন, তার মানে মোটামুটি এরকম যে আপনারা আপনাদের চরিত্রহীন মেয়েটাকে আমাদের তানভির দারের মতো একটা সরল ছেলের পেছনে লেলিয়ে দিয়ে একটা ভয়ঙ্কর সর্বনাশ করেছেন।

আব্বু বললেন, আপনি কী বলছেন চাদরওয়ালা।

তিনি বললেন, যা বলছি তা সহি বাত। এর মধ্যে মিথ্যে কিছু নেই। আজ তানভির দারও বাড়ি ফেরেনি। চুড়িহাট্টা লেন থেকে আমার বড় স্ত্রীর এক আত্মীয় এসে খবর দিয়েছে তানভির দার খাটোমতন একটা মেয়েকে নিয়ে তাদের বাড়িতে উঠেছে। সন্ধ্যায় তারা কাজি অফিসে বিয়ের কাজটাও সেরেছে।

আব্বু ক্ষুব্ধ স্বরে আপনির বদলে তুমি বলে বসলেন, আমি কালই তোমার হারামজাদাটার বিরুদ্ধে অ্যাবডাকশনের মামলা করব। অ্যাবডাকশন বুঝো তো—অপহরণ। তোমাকে আর তোমার দুই স্ত্রীকে অপহরণের সহযোগী হিসেবে মামলায় ফাঁসিয়ে দেবো। দেখি কোন বাবা এসে তোমার জামিন করায়।

আম্মু অন্তত এতটুকু আশ্বস্ত হয় যে পাপিয়া বেঁচে আছে। আব্বুুর কঠোর নির্দেশে আমরা পাপিয়া আপুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি। পাপিয়াও সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য সহসা এগিয়ে আসেনি।

নুসরাত আলী চাদরওয়ালা যাবার সময় বলে যায়, মামলা করে আমার কিছুই ছিঁড়তে পারবেন না, কারণ তানভির দার আমার ছেলে নয়। তানভির দারের বাবা আইয়ুব দার আমার প্রথম স্ত্রীর আগের স্বামী। আইয়ুব দার বেঁচে নেই। সেজন্যই ছেলেটাকে নিজের করে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তানভির দার একটা বদমাশ, ফুটকি দিয়ে নেংটা মেয়ে দেখেছে। নাউযুবিল্লাহ।

তানভির চাদরের ব্যবসায় নামেনি। আত্মীয়দের সাথে মিটফোর্ড থেকে ওষুধ বেচাকেনার ব্যবসা শুরু করেছে।

তানভির দার পলাশি ব্যারাকের কাছে বাড়ি ভাড়া নেয়। ওষুধের ব্যবসায় চাদরের চেয়ে বেশি লাভ। অন্তত পঁচিশটা ফার্মেসিতে ওষুধ সাপ্লাই দেয়। দেড় মাসের মাথায় একটা মোটর বাইকও কিনে ফেলে।

মোহাম্মদপুরে অবাঙ্গালিদের ঔদ্ধত্য বেড়ে গেছে। পঁচিশে মার্চের খুনোখুনিতে তাদের লোকজনও যোগ দিয়েছে। আমরা আর নিরাপদ নই। আমাদের বাড়িওয়ালা তেজগাঁও এয়ারপোর্টে পিআই-এর পুশকার্ট ড্রাইভার ইনতেজার হোসেইন খান বললেন, মোহাম্মদপুর আর আপনাদের জন্য নিরাপদ নয়, যত তাড়াতাড়ি পারেন বাঙালি পাড়ায় চলে যান।

হয়তো পাপিয়ার টানেই আমরা বাসা নিলাম আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের কাছে। এ বাড়িতে আসার চতুর্থ দিন আমার আম্মুর মৃত্যু হয়। অনেক বছর পর আরো একটি সন্তান জন্মের প্রক্রিয়া অনেকদূর এগিয়েছিল। এর মধ্যেই প্রচুর ব্লিডিং হয়, বাচ্চাটা মৃত খালাস হয়। তিন ঘণ্টার মধ্যে আম্মুর দমও বেরিয়ে যায়।

বাইকের পেছনে বসে বমি করতে করতে পাপিয়াও আসে। তানভির দারকেও দেখি। কী যে সুন্দর হয়েছে।

আমি তানভিরকে দুলাভাই বলি না, বলি খান সাহেব।

তিনি হেসে বলেন, জরুর। আমার দাদাজানও খান, তার পিতাও। লক্ষেৗর সাদাকাত আলী খান আমার দাদাজানের পিতা।

পাপিয়াকে বিয়ে করে তানভির দার বাংলা গান শেখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাপিয়ার পছন্দের গানই গাইবে, পাপিয়া সন্তুষ্ট হবে। পাপিয়ার পছন্দ নজরুলগীতি। তানভির দার তাকে গেয়ে শোনায়: মোর প্রিয়া হবে এসো রানি, দেবো খোঁপায় তারার ফুল।

পাপিয়া চামড়ার আস্তরণে ঢাকা তিন ব্যান্ডের ফিলিপস রেডিও কেনে। রেডিওর গান শুনে শুনে তানভির দার গায় : মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর নম নম, নম নম। তানভির বলে মোহাম্মদ রফি বাংলা গান গাইতে পারলে আমিও পারব।

এমন একাত্তরে আমাদের ঘরের মেয়ে পাপিয়া অবাঙ্গালি ছেলে তানভির দারকে বিয়ে করেছে, সুতরাং আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদের শত্রু—আমাদের বুদ্ধিজীবী গোছের একজন আত্মীয় তা বলে বেড়াতে থাকেন। তিনি চন্দনাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। আব্বু রাজি হয়নি। রাগটা এখানেই।

তানভির দার তার মায়ের সাথে একটি গোপন যোগাযোগ রাখলেও তার আর সব আত্মীয়-স্বজন মোহাম্মদপুরের বন্ধুবান্ধব সকলকেই ছেড়েছে।

পাপিয়া যেদিন বাড়ি ছেড়ে চলে গেল সেদিনই বিস্ফোরিত হলো। পার্লামেন্ট বসার কথা ছিল। ইয়াহিয়া তা নাকচ করে দিলেন। ঢাকা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট মাঠে আগুন জ্বলল। তেতে উঠল সমস্ত ঢাকা শহর।

পাপিয়া তানভির দারকে জিজ্ঞেস করল, তুমিও কি ইন্ডিয়া চলে যাবে নাকি?

তানভির বলল, লক্ষেৗতে তো আমার বিবিজান নেই, কেন যাবো? আমি ইস্ট পাকিস্তানেই থাকব। আমার সমস্যা নেই। বাংলা গান শিখেছি। বাঙালিদের সাথে মিশে যাব।

এর মধ্যে একদিন আজিমপুর গোরস্তানের কাছ থেকে আর্মি আমাকে ধরে নিয়ে যায়। নীলক্ষেত ফাঁড়ির কাছে এনে প্যান্ট খোলে যখন দেখে আমারটা খতনা করানো, দু-চারটা রুলারের বাড়ি মেরে চলন্ত জিপ থেকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। আমার প্যান্ট ছিঁড়ে চামড়া ছিলে যায়।

এটা এমন বেশি কিছু নয়, আমার বয়সী যাদের ধরেছে তাদের অনেককে তো মেরেই ফেলেছে।

ডিসেম্বরের চৌদ্দ তারিখ সকাল দশটার দিকে ভারী পেট পাপিয়া হাঁপাতে হাঁপাতে হাজির। পৌনে আটটার দিকে কয়েকটা গাড়ি এসে পলাশি ব্যারাকে তাদের বাড়ির সামনে দাঁড়ায়। চার জন ঘরে ঢুকে তানভিরকে কাপড় পরে রেডি হতে বলে। ঘিয়ে রঙের ফুলপ্যান্ট আর গাঢ় নীল ফুলশার্ট পরে তানভির বের হয় এবং পুরনো উইলি জিপে ওঠে।

চার জনের একজনকে পাপিয়া চিনতে পেরেছে— মোহাম্মদপুরের ইকবাল গুন্ডা। ইকবাল খান।

তানভির দার যাবার সময় পাপিয়াকে বলেছে, পেটের বাচ্চাটার যত্ন নিও। আমাকে কোনো শালা আটকে রাখতে পারবে না।

আমি শুরু থেকেই হতবাক। তানভির দারের সাথে পাপিয়া আপুর প্রেমটা হলো কখন? যখন উঁকি দিয়ে তার গোসল করা দেখছিল? যখন পাপিয়ার হাতে চটি আর তানভির হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে তখন? নাকি অন্য কোনো সময়?

আমি হেঁটে হেঁটে পলাশি ব্যারাক আসি। পাপিয়ার বাসার পাশের এক মুদি দোকানদারকে জিজ্ঞেস করি, সকালে গাড়িতে কারা এসেছিল?

মুদি বলল, জানে না। তবে তাদের হাতে পিস্তল ছিল, একটা গাড়ির ভেতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে দেখেছে, চোখে চশমা আছে। নাম জানে না। সেই গাড়িটাতেই তানভির সাহেবকে উঠিয়েছে। তানভির সকালে ও রাতে তার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট খায়। বিবিসাহেবের নিষেধ আছে বাসায় সিগারেট খাওয়া যাবে না।

তিন

ষোলই ডিসেম্বর স্বাধীনতার আনন্দে আমাদের সব যন্ত্রণা চাপা পড়ে গেছে। তানভির দার ফেরেনি। সতেরই ডিসেম্বর খুব ভোরে পাপিয়ার ব্যথা ওঠে। ধরাধরি করে আজিমপুর ম্যাটার্নিটিতে নিয়ে আসি। একজন ডাক্তারও ছিল না, দুজন নার্স ছিলেন আর দু’জন আয়া। বিকেল তিনটের দিকে পাপিয়ার একটি ফুটফুটে মেয়ে হয়। সেই মেয়েটির নাম কি হবে তা নিয়ে আমরা সকাল বিকাল বৈঠক করি। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি না।

পরদিন পাপিয়া আমাকে বলল, বাবু, তোর পায়ে পড়ি, তানভির দারকে খুঁজে বের করে দে।

সেদিনই শুনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যাদের ধরে নিয়ে গেছে, রায়ের বাজার একটি পরিত্যক্ত ইটের ভাটায় তাদের সবাইকে গুলি করে হত্যা করে বাঁধের পাশের কাদাভরা ডোবায় ফেলে দিয়েছে। আমার একাত্তর কেটেছে সাপলুডু আর ক্যারম খেলে। আমি একা নই, আরো অনেকেই। তাদের কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট বাগাতে চুল বড় রেখেছে। থ্রি নট থ্রি হাতে নিয়ে ছবি তুলেছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছে, ব্যবসা লাইসেন্স পারমিট নিয়েছে।

সেই আঠার ডিসেম্বর পাপিয়ার মেয়েটার জন্মের পরদিন আমি গাঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াই। আমি রায়ের বাজার রওনা হই। প্রচণ্ড শীত। সোয়েটারের ওপর আমি আব্বুর পুরনো কাশ্মিরি শালটাও চাপিয়ে নিই। দূর থেকে দেখি, বাঁধের ওপর মানুষের মিছিল। আরো কাছে এসে দেখি, সবুজ কচুরিপানার ওপর সাদা ও বেগুনি রঙের ফুলের রাজত্ব। আর একটু কাছাকাছি হতেই চাদর দিয়ে নাক বাঁধতে হলো। গন্ধ, গলিত লাশের গন্ধ। ভীষণ ভয়ঙ্কর এ গন্ধ।

একজন বিদেশি সাংবাদিকও ছিলেন। এটা ওটা জিজ্ঞেস করলেন। ইংরেজি পরীক্ষায় ফেল করলেও তার কথা বুঝতে পেরেছি।

কেন এসেছি জিজ্ঞেস করলে বললাম, বোনের হাজব্যান্ড, মাই ব্রাদার-ইন-ল-কে খুঁজছি।

বিদেশি বললেন, তিনি কি বাঙালি ইন্টেলেকচুয়াল ছিলেন?

আমি বললাম, তিনি বাঙালি তো ছিলেনই না, ইন্টেলেকচুয়ালও না।

তিনি বললেন, তাহলে এখানে নেই, অন্য কোথাও আছে।

বিদেশি আমাকে একটি কার্ড দিলেন, নাম নিকোলাস টোমালিন, বললেন, তোমার ব্রাদার-ইন-ল-কে পেলে আমাকে জানাবে।

আমি পত্রিকায় লিখব, আরো একটি লাশ শনাক্ত হয়েছে।

নিকোলাস সাহেব মাফলার দিয়ে নাক চেপে ধরেন। আমি তানভির দারের খোঁজে এগোতে থাকি।

তিন-চার জন স্বেচ্ছাসেবী কচুরিপানা সরিয়ে লাশ টেনে আনছে। অন্তত চল্লিশটি লাশ দেখার পর একটি গাঢ় রঙের শার্ট চোখে পড়ে, সেদিন কুয়াশা ছিল। কালো না নীল বুঝতে পারছিলাম না। স্বেচ্ছাসেবীদের একজন বলল, রঙটা ঠিক কালো নয় মানুষটা ফর্সা আর লম্বা।

হঠাত্ আমার মাথা ঘুরে গেল। আমি বাঁধের ওপর বসে পড়লাম। লাশের গন্ধ কী যে ভয়ঙ্কর!

না, আমি তানভির দারকে দেখিনি। কিন্তু আমি এখানে এলাম কেন?

একটাই কারণ—পলাশি ব্যারাকের দোকানদার বলেছে, গাড়ির ভেতর ঢাকা ইউনিভার্সিটির একজন টিচারকে দেখেছে। তানভির দারকেও সেই গাড়িতে উঠিয়েছে।

টিচাররা বুদ্ধিজীবী। বুদ্ধিজীবীদের গন্তব্য ঠিক করা হয়েছে রায়ের বাজার। আমার হুঁশ ফেরে, আমি উঠে দাঁড়াই। ফেরার পথে হাঁটতে থাকি। আমার শরীরে আমার আব্বুর কাশ্মিরি চাদরে লাশের গন্ধ।

আমি বাড়ি এসে বলি, নারে আপু, পেলাম না।

আমার বোবা ও বধির বোন ময়না পাপিয়ার ছোট্ট মেয়েটাকে কোলে নিয়ে বসে আছে। আমি গোসল করি, লাশের গন্ধ থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা করি। আব্বুর চাদর পানিতে ভিজিয়ে রাখি।

কচুরিপানা ফুলের সমারোহ যে কত সুন্দর নিকোলাস টোমালিন না বললে আমি কোনোদিন বুঝতেই পারতাম না। কচুরিপানা ফুলের কাছ থেকে টেনে আনা লম্বা ফর্সা মানুষটাই, আমি নিশ্চিত, তানভির দার। গাঢ় নীল ভিজলে কালোই মনে হয়। তার ওপর একজন তো বলেছে রঙটা ঠিক কালো নয়। এটাই পাপিয়ার স্বামী। আমার বমি আসছিল। আমি লাশ টানাটানি করতে চাই না বলে কী রকম একটা মিথ্যে কথা বলে দিলাম, নারে আপু পেলাম না।

চার

পাপিয়া মেয়ের নাম রেখেছে কাকাতুয়া।

আমাদের আত্মীয়দের কেউ কেউ পাপিয়াকে শুনিয়ে বলেছে, মাওড়াদের কোনো বিশ্বাস নেই। হয়তো লাস্ট ফ্লাইটে এই দেশ ছেড়ে চলে গেছে। বিয়ে শাদি করে নতুন করে ঘরসংসার করছে কিনা কে জানে।

পাপিয়া তাদের বলেছে, তবুও ভালো, তাহলে তো বেঁচে আছে।

পঁচাত্তরে একদিন হাউমাউ করে কাঁদতে থাকা পাপিয়া বলল, লক্ষেৗ যেতে কত খরচ পড়বে। আমি মেয়েটাকে নিয়ে ঘুরে আসি। আমি না পারলেও এই মেয়ে তার বাপকে ঠিকই নিয়ে আসবে।

সেদিনই আমি বলি, পাগলের মতো কী যা তা বলছ। যেদিন ধরে নিয়ে যায়, ইকবাল খানরা তো সেদিনই তাকে মেরে ফেলেছে। আমি রায়ের বাজারে লাশ দেখেছি।

পাপিয়া আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কিল-ঘুষি-খামচি দিতে থাকে—তুই আগে বলিসনি কেন?

আমিও বলি, পচা-গলা লাশ দিয়ে তুমি কী করতে?

পাপিয়া বলল, মিথ্যে কথা। তুই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যুক। আমি জানি রায়ের বাজারে যাদের লাশ পাওয়া গেছে, তাঁরা বাঙালি বুদ্ধিজীবী।

পাপিয়ার কথা সত্যি—আনভির দার বাঙালি নয়, বুদ্ধিজীবীও নয়। তাকে মারবে কেন?

কিন্তু তানভির দার লুকিয়ে লুকিয়ে স্নানরত একটি বাঙালি তরুণীকে দেখেছে, তাকে বিয়ে করেছে, নজরুলগীতি শিখেছে: আমি চিরতরে দূরে চলে যাব তবু আমাকে দেবো না ভুলিতে।

পাপিয়া বলল, দেখিস, একদিন না একদিন কাকাতুয়ার আব্বু ফিরে আসবে।

কাকাতুয়ার বয়স যখন ষোল, দু’হাতে আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলল, বাবু মামা, সত্যি করে বলো তো, তুমি কি আমার বাবার ডেডবডি দেখেছিলে?

আমি কঠিন সংকটে পড়ে যাই। যদি বলি হ্যাঁ তাহলে পাপিয়ার স্বামী ও কাকাতুয়ার আব্বুর ফিরে আসার সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটে। আমি বললাম, নারে কাকাতুয়া, আমি দেখিনি।

কাকাতুয়া দৃঢ়কণ্ঠে বলল, বাবু মামা, তুমি একটা মিথ্যুক, মা বলেছে তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যুক। আমি জানি তুমি দেখেছ। আব্বুর গায়ে গাঢ় নীল ফুলশার্ট ছিল। তুমি অবশ্যই নীল শার্টটা দেখেছ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন