ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


মায়ের বুকেই চিরনিদ্রায় শায়িত সাদেক হোসেন খোকা

মায়ের বুকেই চিরনিদ্রায় শায়িত সাদেক হোসেন খোকা
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার কফিন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে —ইত্তেফাক

বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা।

গতকাল সন্ধ্যায় জুরাইনে মায়ের কবরেই দাফন করা হয়েছে সাদেক হোসেন খোকাকে। আপনজন আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাঁদিয়ে চিরদিনের জন্য মায়ের বুকেই আশ্রয় হলো খোকার। তার আগে বাদ আসর পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে তার চতুর্থ নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। এর আগে নিউ ইয়র্ক থেকে সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তার লাশ। সেখান থেকে কফিন নেওয়া হয় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সেখানে দেশের মাটিতে খোকার প্রথম জানাজা হয়। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান একাত্তরের এই গেরিলা যোদ্ধাকে।

দুপুরে নয়াপল্টনে নেওয়া হলে প্রিয় নেতাকে শেষ বারের মতো দেখতে হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল নামে সেখানে। দলের ভাইস চেয়ারম্যানের লাশ দলীয় পতাকা ও ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গোপীবাগের বাসভবনে। এরপরে নেওয়া হয় সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে। এরপর ধূপখোলায়,

সব শেষে গোরস্তানে নিয়ে দাফন করা হয়।

সকালে এমিরেটসের ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় এই মুক্তিযোদ্ধার কফিন। বিমানবন্দরে কফিন বুঝে নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। খোকার স্ত্রী ইসমত হোসেন, ছেলে ইশরাক হোসেন ও ইশফাক হোসেন, মেয়ে সারিকা সাদেক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালামসহ স্বজনরাও একই ফ্লাইটে দেশে এসেছেন।

বেলা ১১টায় প্রথম জানাজা হয় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এতে অংশ নেন ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম ফিরোজ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, রাশেদ খান মেনন, মশিউর রহমান রাঙা, ড. মাহবুব উল্লাহ, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল মান্নান, শামসুল হক টুকু, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।

বিএনপির পক্ষে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহা, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হারুন অর রশিদ, উকিল আব্দুস সাত্তার, জাহিদুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান, নাজিম উদ্দিন আলম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রুহুল আলম চৌধুরী, এমরান সালেহ প্রিন্সসহ অনেকে।

বেলা সোয়া ১২টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয় মরদেহ। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সারিবদ্ধভাবে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানে খোকা পুত্র ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে দুজন অভিভাবক আছেন, একজন খালেদা জিয়া, যিনি জেলে আছেন। আরেকজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, আমাদের ভবিষ্যত্ কোথায়? বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ ঠিক করে দিয়ে যান। আমরা যারা নতুন প্রজন্ম, তারা চাই না আর কোনো বিএনপি পরিবার এই প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হোক এবং অন্য কোনো দল যদি ক্ষমতায় আসে, তখন আওয়ামী লীগের কোনো পরিবার প্রতিহিংসার শিকার হোক।

দুপুর ২টায় বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়কে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১২টার দিকেই নয়াপল্টন লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করেছিলেন। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। নয়াপল্টনের পশ্চিম পাশ থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। নেতাকর্মীদের ভিড়ে দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের আশপাশের অলিগলিতেও দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।

নয়াপল্টনে জানাজার পর ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন অবিভক্ত থাকাকালে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই শেষ বারের মতো বেলা পৌনে ৩টায় নেওয়া হয় মরদেহ। বেলা পৌনে ৪টায় গোপীবাগের ধূপখোলা মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় খোকার লাশ। সেখানে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর দাফন করা হয়।

নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বিশেষায়িত হাসপাতাল মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে মারা যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খোকা। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন