ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


মইনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতা

সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী
মইনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতা

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা শেখ হাসিনা বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও জাসদের নেতা মইনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘মইনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, তার সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আর শুনব না।’ তিনি বলেন, ‘চলার পথে অনেক আপনজনকে হারিয়েছি, অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য সময়ের সঙ্গে সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আলোচনা শেষে স্পিকার সংসদে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণের প্রস্তাব দিলে তা গৃহীত হয়। প্রয়াতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন শেষে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য বি এইচ হারুন। রেওয়াজ অনুযায়ী স্পিকার অধিবেশনের অবশিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদ অধিবেশন আগামী সোমবার বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মইনউদ্দীন খান বাদল ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা ও প্রজ্ঞায় তিনি যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’ তিনি বলেন, ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধেও তার বলিষ্ঠ অবদান রয়েছে। তিনি সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। সংসদে তিনি যখন ভাষণ দিতেন, প্রতিটি ভাষণই মনে একটা দাগ কেটে যেত। এলাকার উন্নয়নের জন্য সব সময় তিনি সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে তার এলাকাবাসীর যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি রাজনীতিরও।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘তার লাশ নিয়ে আসার জন্য ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। মরদেহ আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছানোর কথা, হয়তো আগামীকাল (শুক্রবার) সকালের মধ্যে পৌঁছাবে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেন, ‘অত্যন্ত বিনয়ী, বিচক্ষণ ও অনলবর্ষী বক্তা মইনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত, গভীরভাবে শোকাহত।’ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমীর হোসেন আমু বলেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রেখে গেছেন। আরেক প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, পরে জাসদে যোগ দিলেও অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন বাদল। ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ১৪ দল গঠনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে গেছেন প্রয়াত এই নেতা। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদারদের কাছে আতঙ্কের নাম ছিল মইনউদ্দীন খান বাদল। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বাদল আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর জেনারেল জিয়া ও এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রাখেন।’ জাপার ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে পরবর্তী প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘একজন অত্যন্ত সুবক্তা, গুণী, বিচক্ষণ ও মহান মুক্তিযোদ্ধাকে আমরা হারালাম।’

শোক প্রস্তাবের ওপর আরো আলোচনা করেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন