ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


জাবিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আন্দোলন অব্যাহত

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত দুই পক্ষেরই
জাবিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আন্দোলন অব্যাহত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কর্তৃক সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার পরেও ক্যাম্পাসে মিছিল, সমাবেশ ও কনসার্ট করেছেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত বুধবার রাতে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞাকে অযৌক্তিক দাবি করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে প্রবেশে বাধা দেন। পরে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর সাড়ে ১২টায় পুরাতন প্রশাসনিক ভবন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রান্তিক গেট হয়ে ভিসির বাসভবনের রাস্তায় কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন ছিল। পরে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে এসে মিছিলের সমাপ্তি হয়। সেখানে অবস্থিত ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চে’ এসে সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশে বক্তারা হল বন্ধের প্রতিবাদ, ছাত্রলীগের হামলার বিচারসহ দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে পদত্যাগের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রফ্রন্টের সাভাপতি মাহাথির মুহাম্মাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান প্রমুখ। পরে সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে কনসার্টের আয়োজন করেন আন্দোলনকারীরা। কনসার্ট করতে তাদের কেউ বাধা দেয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারী ও উপাচার্যপন্থি শিক্ষকেরা। উপাচার্যপন্থি ও উপাচার্যবিরোধী উভয় পক্ষই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তেরও দাবি করেছেন সবাই।

অন্যদিকে তদন্তের স্বার্থে ভিসির বিরুদ্ধে সব অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, ‘আমরা অভিযোগ লিখতেছি। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রাপ্ত তথ্য-প্রামণসহ অভিযোগ জমা দিব।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উপাচার্যপন্থি সংগঠন ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’-এর আহ্বায়ক পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক এ এ মামুন বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত উপাচার্যের দুর্নীতির বিষয়টি প্রমাণিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তার সঙ্গে আছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তিনি দুর্নীতি করেননি। আমরাও চাই অভিযোগের তদন্ত হোক। উপাচার্যও চান তদন্ত হোক।’

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাকে আমরা ইতিবাচক বলেই মনে করি। তিনি সারাদেশে ঘটে যাওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন। আমাদের আন্দোলনও দুর্নীতির বিরুদ্ধে।’ অন্যদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ আন্দোলন চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধ জাহাঙ্গীরনগর’-এর মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন