ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে


বাংলাদেশের আরেকটি ইনিংস পরাজয়

বাংলাদেশের  আরেকটি ইনিংস  পরাজয়

ইন্দোরে দর্শক সমাগম দেখলে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যত্ নিয়ে আইসিসি আশাবাদী হয়ে উঠতে পারে। টানা তিন দিন হোলকার স্টেডিয়ামের গ্যালারি মাতিয়ে রাখলেন দর্শকেরা। কোহলিদের প্রেরণা যুগিয়েছেন প্রতি মুহূর্তে। ২২ গজে ভারতীয়দের আগ্রাসন, গ্যালারি থেকে দর্শকদের ক্রমাগত হর্ষধ্বনি, ব্যাটিংয়ে নিজেদের নতজানু পারফরম্যান্স মিলে ইন্দোরের সময়টা নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ দলের জন্য।

গতকাল সকালে আর ব্যাটিং করেনি ভারত। তখনই ম্যাচের বয়স চতুর্থ দিনে গড়াবে কি না, সংশয় জেগেছিল। বাংলাদেশের সব চেষ্টা, লড়াই, প্রতিরোধের যবনিকাপাত হয়েছে দিনের শেষ সেশনে। ইন্দোরে গতকাল সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারতের কাছে ইনিংস ও ১৩০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৩ রানে অলআউট হয়েছে মুমিনুল হকের দল। বাংলাদেশের ১৫০ রানের পর ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল কোহলির দল।

টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের ৪১তম ইনিংস হার। ভারতের বিরুদ্ধে দশ টেস্টে চতুর্থ ইনিংস হার সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। আগামী ২২ নভেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে।

তৃতীয় দিনের সকালে ভারত কিছুক্ষণ ব্যাট করবে, এমনটাই ধারণা ছিল সবার। প্রথম ইনিংসের স্কোরটা আর বড়ো করার পথে হাঁটেনি স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিনের শুরুতেই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ৩৪৩ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের ব্যাটিং এদিনও শুরু থেকেই ছিল কম্পমান। ১৬ রানের মাথায় ফিরেছেন দুই ওপেনার। কাকতালীয়ভাবে প্রথম ইনিংসের মতোই দ্বিতীয় ইনিংসেও একই স্কোর করেছেন ইমরুল কায়েস (৬) ও সাদমান ইসলাম (৬)।

উমেশ যাদবের বলটা ইমরুল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙেছে। ইশান্তর শর্মার বলটা সাদমানের ডিফেন্স গেট ভেদ করে চলে গেছে। শামির বলে এলবির ফাঁদে পড়েন অধিনায়ক মুমিনুল (৭)। জড়তা কাটাতেই কিনা উইকেটে এসে এদিন বেশ সাবলীল থাকার চেষ্টা করেছেন মিঠুন। কিন্তু ৪ নম্বরে ব্যাটিংয়ের গুরুভার পালনে নিজের অক্ষমতার কথা আবার জানান দিয়েছেন। শামির বাউন্সারে মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন মিঠুন (১৮)। আস্থার প্রতীক হতে পারেনি মাহমুদউল্লাহর ব্যাটও। ১৫ রান করে তিনিও স্লিপে ক্যাচ দেন। ৭২ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে পথ দেখায় মুশফিক-লিটনের জুটি। তারা ৬৩ রান যোগ করেন।

ভারতীয় পেসারদের দুরন্ত বোলিংয়ের সামনে নতজানু হয়েছেন অনেক ব্যাটসম্যান। কিন্তু এমন ম্যাচে লিটন দাস কিনা উইকেট বিলিয়ে এসেছেন। এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বোলার অশ্বিনের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন লিটন। ৩৫ রান করেন তিনি। উইকেটে এসে দ্রুতলয়ে রান তোলার চেষ্টা করেছেন মিরাজ। এবং সেই চেষ্টায় সফলও হয়েছেন কিছুটা। কিন্তু ইনিংস বড়ো করতে পারেননি। মুশফিকের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। চা বিরতির পরপরই উমেশের বলে বোল্ড হন মিরাজ। তিনি ৩৮ রান করেন।

তারপরে আরো কিছুক্ষণ লড়াইটা করে গেছেন ২০তম হাফ সেঞ্চুরি করা মুশফিক। তাইজুল (৬) ফেরার পর ভাঙে মুশফিকের প্রতিরোধ। অশ্বিনকে তুলে মারতে গিয়ে মিড অফে পূজারার হাতে ধরা পড়েন তিনি। মুশফিক ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন। পরে এবাদত অশ্বিনের তৃতীয় শিকার হলে শেষ হয় বাংলাদেশের যন্ত্রণাক্লিষ্ট এক টেস্ট।

ভারতের পক্ষে শামি ৪টি, অশ্বিন ৩টি, উমেশ যাদব ২টি, ইশান্ত শর্মা ১টি করে উইকেট পান। ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মায়াঙ্ক আগারওয়াল ম্যাচ সেরা হন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন