ঢাকা শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে

বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন

র্যাগিংয়ের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা তিনটি দাবিই পূরণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব দাবি পূরণে তিন সপ্তাহ সময় নেওয়া হলেও তার আগেই দাবিগুলো পূরণ করা হয়। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করে ছাত্ররাজনীতি ও র্যাগিং নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি শিক্ষার্থীরা।

প্রসংগত :আবরার হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া তিন দফা দাবির মধ্যে দুটি আগেই মেনে নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই দাবিগুলো হচ্ছে উক্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের (চার্জশিটে যাদের নাম আছে) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার এবং অতীতে র্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি প্রদান। সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে র্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত ৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া আবরার ফাহাদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ২৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, আবরার হত্যার পর গত দুই মাস ধরে বুয়েটে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে গত সোমবারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে শাস্তি হিসেবে তাকে বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে জড়িত থাকলে, রাজনৈতিক পদে থাকলে, রাজনীতিতে কোনো শিক্ষার্থীকে উদ্বুদ্ধ বা বাধ্য করলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হবে। এছাড়া অপরাধ সাপেক্ষে শাস্তি, সতর্কতা, জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে র্যাগিংয়ের বিষয়ে কয়েকটি ধাপে শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। র্যাগিংয়ে কোনো শিক্ষার্থীর গুরুতর শারীরিক ক্ষতি, মানসিক ভারসাম্যহীনতার শিকার হলে অভিযুক্তকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। তবে মৌখিক বা শারীরিক লাঞ্ছনা, মানসিক ক্ষতিসংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি হচ্ছে সতর্কতা, জরিমানা, হল থেকে আজীবন বহিষ্কার, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিরত রাখা। এ ধরনের শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে হলে কর্তৃপক্ষের ঠিক করে দেওয়া মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাউনসেলিং করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বুয়েটের শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বুয়েটের অধ্যাদেশ অনুযায়ী শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানকার কোনো শিক্ষক রজনীতিতে জড়িত হয়ে থাকলে তার শিক্ষকতার পদ থাকার কথা নয়।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইতিবাচক ধারা ফুটে উঠেছে। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের তিনটি শর্তই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করেছে প্রশাসন। ফলে আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদী তারা।

নিজেদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থী অন্তরা সরকার তিথি ইত্তেফাককে বলেন, ‘সর্বশেষ প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের কয়েকটি বিষয়ে আমরা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না। আগামীকাল আমরা আবার শিক্ষকদের সঙ্গে বসব। এরপর এ বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন