ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
২৬ °সে

দুই সিটির ভোটে ব্যবহার হবে ৩৫ হাজার ইভিএম

ইভিএম ব্যবস্থাপনায় থাকবে ৫ হাজার ২৮০ সেনাসদস্য সন্দেহ থাকলে বিএনপিকে পরীক্ষার আহ্বান
দুই সিটির ভোটে ব্যবহার হবে ৩৫ হাজার ইভিএম

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ৩৫ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী অনিয়ম দূর করতে সবকেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। ইভিএম নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ থাকলে তা পরীক্ষা করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিশন। এদিকে, ইভিএমে ভোট ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুই জন করে সশস্ত্র বাহিনীর ৫ হাজার ২৮০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। গতকাল রবিবার নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে তিনি বলেন, ‘ইভিএমে প্রতি কেন্দ্রের টেকনিক্যাল সাপোর্টের জন্য দুজন করে সেনা সদস্য থাকবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাত্ক্ষণিক ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইভিএমে ভোটে অস্বচ্ছতার কিছু নাই। দুই সিটির ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম ছাড়াও ৫০ শতাংশ বেশি ইভিএম প্রস্তুত রাখা হবে। ইভিএমে ভোটের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকবে।’

অন্যদিকে, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেছেন, উত্তর ও দক্ষিণ মিলে ২ হাজার ৬০০ কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৬০০ বা তার বেশি ভোটকক্ষ থাকবে। আমরা মোট ৩৫ হাজার ইভিএম ব্যবহার করব। এজন্য প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের চিহ্নিত করেছি। তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবস্থা করেছি।

নিজ কার্যালয়ে আলাপকালে এনআইডির ডিজি বলেন, ভোটাররা ইভিএমে যাতে ভোট দেওয়ার সম্পূর্ণ ধারণা পেতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করা হবে, সেখানে সহজেই লেখা থাকবে মাত্র দুই বোতামে চাপ দিয়ে ভোট প্রদান করার বিষয়ে এবং কীভাবে ভোট প্রদান করতে হবে। ভোটের আগে ২৫ এবং ২৬ জানুয়ারি প্রত্যেক কেন্দ্রে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিভাবে ভোট প্রদান করতে হবে সে বিষয়ে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে। ২৮ জানুয়ারি ফাইনাল মক ভোটিং করা হবে, সেখানে সশস্ত্রবাহিনী টেকনিক্যাল টিমও মোতায়েন থাকবে। ৩০ তারিখের মতো সেদিন মক ভোটিংয়ে কেন্দ্রগুলো সাজানো হবে।

ইভিএমে রিকাউন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, লক সিস্টেম থাকবে। কেউ আবেদন করলে সেই সুযোগ রয়েছে। বিধি মোতাবেক সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে কেউ পুনরায় কাউন্ট করতে চাইলে কমিশনে আবেদন করতে হবে, পরে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

নিরাপত্তার জন্য বাড়তি ব্যবস্থা থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করলে তাদের জন্য সুবিধা হবে সে অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ হবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র্যাব-বিজিবি অন্যান্য সময়ে যেমন থাকে সেভাবেই থাকবে। ইভিএমের ভোটে কারচুপি হয় বলে বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইভিএমে অনৈতিক কার্যক্রম করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তারপরেও কেউ যদি পরীক্ষা করতে চায় তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাই।

১৯টি পয়েন্টে প্রশিক্ষণ : দুই সিটিতে ইভিএমে ভোটের জন্য ১৯টি পয়েন্ট থেকে প্রশিক্ষণ, ডেমোনেস্ট্রেশন, মক ভোটিং ও ভোটকেন্দ্রে বিতরণের জন্য ইভিএম রাখা হবে। এর মধ্যে উত্তরের ইভিএম থাকবে ৮টি পয়েন্টে, আর দক্ষিণের ১১টি পয়েন্টে। ১৪ জানুয়ারির মধ্যে ইভিএমগুলো বণ্টন করা হবে। তবে গত শনিবার থেকে ইভিএমগুলো রিটার্নিং অফিসারের অধীন সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোট ৩০ জানুয়ারি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন