ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
৩০ °সে

যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনে ১০ হাজার শনাক্ত, ইতালিতে মৃত ৭১২

বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়ালো *** আক্রান্ত ৫ লাখ ১৩ হাজার
যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনে ১০ হাজার শনাক্ত, ইতালিতে মৃত ৭১২

বিশ্ব জুড়ে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা গতকাল ২৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ পার হয়েছে। গতকাল সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে (প্রায় ১০ হাজার)। এদের মধ্যে নিউইয়র্কেই পাওয়া গেছে ৪ হাজারের বেশি রোগী। আর নিউজার্সিতে প্রায় ২ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে এদিন মারা গেছে ৯২ জন। আর মৃত্যুর সংখ্যায় প্রথম স্থানে ছিল ইতালি (৭১২ জন)। দেশটিতে এদিন নতুন করে শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৬ হাজার রোগী।

গতকাল জার্মানি এবং স্পেনে প্রায় ৬ হাজার, ইরানে ২ হাজার ৩৮৯, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামসহ কয়েকটি দেশে ১ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর পুরোপুরি লকডাউনে থাকায় নর্থ ইতালিতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এবার এ ভাইরাসের হট স্পট হতে যাচ্ছে সাউথ ইতালি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-এর বর্তমান এবং সাবেক একাধিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারি ইতালিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিস্থিতি আসন্ন : যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে বলে সতর্কতা জারি করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিষয়ক দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, নিউ ইয়র্ক, নিউজার্সি কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ায় যারা লকডাউনের আগে সংক্রমিত হয়েছেন এবং শনাক্তের বাইরে আছেন তাদের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে প্রতি তিন-চার দিন পর এসব রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস এজেন্সির সেক্রেটারি ডা. মার্ক ঘালি বলেছেন, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম হয়তো সাত-আট দিন পর পর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। কিন্তু এখন দেখছি প্রতি তিন-চার দিনে সেটি হয়ে যাচ্ছে!’ যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজারে। মারা গেছে হাজারের বেশি। এর মধ্যে বুধবারই ২২৩ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে, নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলেছেন, সেখানকার হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর চিকিত্সা দেওয়ার সুুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এসব হাসপাতালের সক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাবে। খুব শিগিগরই আরো ৩০ হাজার ভেনটিলেটর প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভর্নরের এ কথায় পরিষ্কার তিনিও নিউ ইয়র্কে ব্যাপক মহামারির আশঙ্কা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, নিউ ইয়র্কের সামনে কয়েকটি ‘কঠিন সপ্তাহ’ আসছে।

অর্ধেক মানুষ বন্দি : এদিকে, মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের কারণে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনোভাবে বিধিনিষেধের বেড়াজালে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। ৪১টি দেশের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ করোনা ভাইরাসের কারণে জারি করা বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছেন। কোথাও কোথাও অফিস করতে হচ্ছে বাড়ি থেকে। কোথাও আবার কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে যানবাহনে। ফলে ছেদ পড়েছে দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায়। যেসব দেশে পুরোপুরি ‘লকডাউন’ করা হয়েছে, অর্থাত্ নাগরিকদের বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে, সেসব দেশের দেড়শ কোটি মানুষ পুরোপুরি বন্দিদশার মধ্যে পড়েছেন।

ট্রাম্পের ক্ষোভ: এদিকে, মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএন সম্প্রতি একটি রিপোর্ট করেছিল যে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আইসোলেশনে আছেন। এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল এক টুইটে বলেন, সিএনএন মিথ্যা খবরের বেসাতি করছে। তারা দুর্নীতিবাজ। এই ভূয়া খবর তারা ঘরে বসে বানিয়েছে। অথচ আমি করোনা ইস্যুতে নিয়মিত মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন