ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬
৩৮ °সে

করোনা ভাইরাস মোকাবিলা

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সহায়তা বিল পাশ

পৌনে ২ লাখ কোটি রুপির বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা ভারতের
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সহায়তা বিল পাশ

নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের দুর্যোগ-সহায়তা বিল অনুমোদন করেছে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে আলোচনার পর বুধবার সিনেটে বিলটি ৯৬-০ ভোটে পাস হয়। এখন বিলটি নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটির জন্য যাবে। সেখানে অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিলটির আইনে পরিণত হবে। বিলটি আইনে পরিণত হলে এটিই হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো আর্থিক প্রণোদনা।

বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ণ বয়স্ক মার্কিনিদের ১২০০ ডলার সরাসরি প্রদান করা হবে—যাদের বাত্সরিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা এর কম। শিশু প্রতি ৫০০ ডলার অতিরিক্ত দেওয়া হবে। এয়ারলাইন্সের মতো প্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৩৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। বিলটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধকালীন সময়ের বিনিয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল। আজ শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, বিলটি কণ্ঠভোটেই পাস হতে পারে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭০ হাজার মার্কিনি।

এদিকে করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি রুপির বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। ভারতের সব চেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত ধাক্কা সামলাতে পারে সেজন্য একটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি রূপির বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ প্রকল্পের আওতায় এতো দিন ৮০ কোটি মানুষ প্রতিমাসে বিনামূল্যে ৫ কেজি চাল অথবা গম পেতেন। আগামী তিন মাস অতিরিক্ত আরো ৫ কেজি চাল অথবা গম দেওয়া হবে তাদের। দেওয়া হবে অতিরিক্ত ১ কেজি ডালও। একই সাথে নগদ অর্থ সাহায্যও দেওয়া হবে।

গতকাল দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, এই কর্মসূচির অধীনে যাদের এখনই সাহায্য দরকার তাদের সহায়তা করা হবে। যে সব সংস্থার কর্মীসংখ্যা ১০০ এর কম এবং সংস্থার ৯০ শতাংশ কর্মীর বেতন ১৫ হাজারের কম, তাদের হয়ে কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ডে ২৪ শতাংশ টাকাই জমা দেবে কেন্দ্রীয়। অর্থাত্ নিয়োগকর্তা এবং কর্মী, দুই পক্ষের হয়েই কেন্দ্র টাকা দেবে। এছাড়া যারা (চিকিত্সক, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী) করোনা আক্রান্তদের চিকিত্সাসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তাদের জন্য মাথাপিছু ৫০ লাখ রুপি স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে স্কিমে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কেউ যাতে অনাহারে না থাকে। গত বুধবার থেকে ভারতে লক ডাউন শুরু হয়, যার ফলে কারখানা, অফিস, দোকান-পাট সব বন্ধ হয়ে গেছে। লাখ লাখ দিন মজুর তাদের জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগের মুখে পড়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৬ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন