ঢাকা শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬
৩১ °সে


হোটেল-রেস্তোরাঁর মান নির্ধারণ পদ্ধতি চালু

প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর ৫৭ হোটেলের মান নির্ধারণ
হোটেল-রেস্তোরাঁর মান  নির্ধারণ পদ্ধতি চালু

দেশে প্রথমবারের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর মান নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর ৫৭টি হোটেল-রেস্তোরাঁকে গ্রেডিং পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ-প্লাস পেয়েছে ১৮টি এবং এ-গ্রেড পেয়েছে ৩৯টি। রাজধানীর ২০০টি হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে এই হোটেলগুলোকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই গ্রেড নির্ধারণের কাজটি করছে। খাবারের মান, রান্নার পরিবেশ, পণ্যের মান, পরিবেশনা, পরিবেশনকারীর ও অবকাঠামোগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ আরো কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই গ্রেডিং করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘এ-প্লাস’, ‘এ’ ছাড়াও ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিও রয়েছে।

জানা গেছে, এ-প্লাস পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তমমানের এবং এ গ্রেড পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভালোমানের হোটেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব হোটেলের সামনে ‘এ প্লাস’ হলে সবুজ, ‘এ’ হলে নীল, ‘বি’ হলে হলুদ এবং ‘সি’ হলে কমলা রংয়ের স্টিকার লাগানো থাকবে। কমলা রংয়ের স্টিকার দেখলে বুঝতে হবে হোটেলটি অনিরাপদ। এই হোটেলকে এক মাসের মধ্যে মান ভালো করতে হবে। না হলে হোটেলের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। অন্যদিকে হলুদ স্টিকারধারী রেস্তোরাঁকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে তাদের মান ও গ্রেড উন্নত করতে হবে। অন্যথায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই গ্রেডিং পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক এবং বাংলাদেশ রেস্তোরা মালিক সমিতির মহাসচিব এম রেজাউল করিম সরকার রবিন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু হোটেল-রেঁস্তোরা মালিক নয়, খাদ্য উত্পাদনের সকল পর্যায়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে, লোভ সংবরণ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সবসময় নজরদারি করব। কেউ খাদ্যে ভেজাল দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তার ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তিনি আরো বলেন, খাদ্যের মানের সাথে সাথে খাদ্যমূল্যও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। যাকে কাউকে ভোগান্তি পেতে না হয়।

সাঈদ খোকন বলেন, দুধের সাথে টিস্যু পেপার মিশিয়ে দুধ ঘন করা হয়, চানাচুর নাকি ভাজা হয় পোড়া মবিল দিয়ে, এ অবস্থায় হোটেলগুলোকে গ্রেডিং পদ্ধতির আওতায় আনা সময়পোযোগী সিদ্ধান্ত। তিনি হোটেল মালিকদের উদ্দেশে বলেন, খাদ্যে ভেজাল মেশাবেন না। যাদের গ্রেডিং করা হলো তাদের সবসময় মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখা হবে। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমরা অনেক মোবাইল কোর্ট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছি। কিন্তু চূড়ান্তভাবে সমস্যার সমাধান হয়নি। এই গ্রেডিং পদ্ধতি এই সমস্যার সমাধান করবে বলে আশা করছি।

মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, আমাদের অনেক নামিদামি হোটেল বাইরে থেকে অনেক সুন্দর, কিন্তু ভেতরে অস্বাস্থ্যকর অবস্থা। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার।

এম রেজাউল করিম সরকার রবিন বলেন, এই গ্রেডিং পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে আমরা আমাদের রেস্তোরার মান নিয়ে সবসময় সচেতন থাকবো। স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে আমরা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে চাই। যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাবারের মান, বিশুদ্ধতা, পরিবেশ, ডেকোরেশন, মনিটরে রান্নাঘরের পরিবেশ দেখা যাওয়ার ব্যবস্থা ও ওয়েটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ভিত্তিতে রেস্তোরাঁগুলোকে চার ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করা হবে। যেসব হোটেল-রেস্তোরাঁ ৯০ নম্বরের বেশি স্কোর পাবে তারা ‘এ+’, স্কোর ৮০ এর ঊর্ধ্বে হলে ‘এ’, ৫৫ থেকে ৭৯ পর্যন্ত স্কোর হলে ‘বি’ এবং ৪৫ থেকে ৫৫ স্কোর হলে ‘সি’ ক্যাটাগরির অর্ন্তভুক্ত হবে।

যারা রেস্তারাঁয় খাবার খেতে যাবেন- তারা রেস্তোরাঁয় প্রবেশের সময় স্টিকার দেখেই জানতে পারবেন, এই হোটেল খাবারের জন্য কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, রান্নাঘরের অভ্যন্তরের পরিবেশ কেমন ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, গত বছর ২ এপ্রিল রাজধানীর পুরানা পল্টনের কস্তুরী হোটেলে স্টিকার লাগিয়ে এই কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন, রামপুরাসহ কয়েকটি এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। পরবর্তীতে সারাদেশের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনা হবে।

এ প্লাস পেল যারা: এ প্লাস গ্রেড পাওয়া রাজধানীর হোটেলগুলো হলো: পুরানা পল্টনস্থ ফারস্ হোটেল এন্ড রিসোর্টের দুটি শাখা, এশিয়া হোটেল এন্ড রিসোর্ট, কেএফসি, হোটেল কস্তুরি, হ্যান্ডি, নয়াপল্টনের ওয়েসটন রেস্টুরেন্ট, দিলকুশার হোটেল পূর্বানী ইন্টারন্যাশনাল, কাকরাইলের কিন্নরী রেস্টুেরেন্ট, গুলিস্তানের রাজধানী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, রামপুরার আল কাদেরিয়া ক্যাফে এবং বার্গার কিংয়ের বনানী, গুলশান-২, উত্তরা, মিরপুর, জগন্নাথপুর ভাটারা, যমুনা ফিউচার পার্ক ও ধানমন্ডি শাখা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন