ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬
৩১ °সে

হলি আর্টিজান হামলায় অস্ত্র ও অর্থের যোগানদাতা রিপন গ্রেফতার

কারাগারের জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল
হলি আর্টিজান হামলায় অস্ত্র ও অর্থের  যোগানদাতা রিপন গ্রেফতার

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার সংশ্লিষ্টতায় জেএমবি নেতা মামুনুর রশিদ ওরফে রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শনিবার রাতে গাজীপুরের টঙ্গী বোর্ডবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। র্যাবের ভাষ্য মতে, জেএমবির অন্যতম শুরা সদস্য রিপন হলি আর্টিজান হামলা সংঘটিত করতে ৩৯ লাখ টাকা সরবরাহ করেছিলেন। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার শেখেরমাড়িয়া গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিন ছেলে রিপন হলি আর্টিজান মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৮ নম্বর আসামি।

মামলার অন্য আসামিদের জবানবন্দিতে রিপনের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশিত হলে তাকেও আসামি করা হয়।

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

এদিকে রাজধানীর সবুজবাগ থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় রিপনকে গতকাল বিকালে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কমকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার কফিল উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, কারাগারে থাকা জঙ্গিদের ছিনিয়ে নিতেও নতুন করে পরিকল্পনা করেছিলেন রিপন। হলি আর্টিজান হামলা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর পরপরই এ পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়াতিতে গাইবান্ধায় এক বৈঠকে হলি আর্টিজানে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। আর হামলার আগে এপ্রিল মাসে পার্শ্ববর্তী দেশে (ভারত) চয়ে যান রিপন। সেখান থেকেই হলি আর্টিজান হামলার জন্য ৩৯ লাখ টাকা পাঠান তিনি। শুধু তাই নয়, হলি আর্টিজানে ব্যবহূত তিনটি একে ২২ রাইফেল, পিস্তলসহ বিস্ফোরকগুলো কল্যাণপুরে পাঠান। পরে জঙ্গি মারজানের মাধ্যমে সেগুলো অপর জঙ্গি সারোয়ার জাহানের কাছে পৌঁছান।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, হলি আর্টিজান পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে জঙ্গিরা নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। তখন আত্মগোপনে থেকে রিপন পুনরায় জঙ্গিদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ২০১৮ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

র্যাবের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, বিকাশের দোকান লুট করে ৬ লাখ টাকা, সিগারেটের দোকানে লুট করে ১ লাখ এবং গাইবান্ধা থেকে এক লাখ টাকাসহ মোট ৮ লাখ টাকা জেএমবির আমির সারোয়ার জাহানের কাছে পৌঁছে দেন রিপন। সারোয়ার জাহানের মাধ্যমে জঙ্গি আব্দুল্লাহর সঙ্গেও পরিচয় হয় তার।

নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ছিল। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় এটা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা সংগঠনের সদস্যদের উজ্জীবিত করতে সহায়তা করেছিল। যেহেতু এখন হলি আর্টিজান মামলা চলমান রয়েছে সেহেতু এরই মধ্যে আবারও একটি ঘটনা ঘটিয়ে জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল রিপনের।

র্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান আরো বলেন, রিপন ২০০৯ সালে বগুড়ার নন্দিগ্রাম ছেড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদ্রাসাতুল দারুল হাদিসে ভর্তি হন। সেখান থেকে দাওরা-ই-হাদিস পাস করে বগুড়ার সাইবার টেক নামক একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কোর্স সম্পন্ন করে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ওই সময়ই জেএমবির একাংশের আমির ডা. নজরুলের হাত ধরে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন। শুরুর দিকে তার দায়িত্ব ছিল ইয়ানতের (চাঁদা) টাকা সংগ্রহ করা। পরবর্তী সময়ে পুরো জেএমবির অর্থ ও সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব পান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা

সবুজবাগ থানায় করা মামলায় রিমান্ড চেয়ে আদালতে মামলায় তদন্তকারী কমকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা রিপনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে জানিয়েছে, ২০১৪ সালে ত্রিশালের মতো জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল তারা। ত্রিশালের মতো আরেকটি ঘটনা ঘটিয়ে জঙ্গিদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিল তারা। মূলত হলি আর্টিজান হামলা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের। জেএমবির আমির আব্দুর রহমানের মেয়ের জামাই আওয়ালের ভাগ্নে হওয়ায় সংগঠনে রিপনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। হলি আর্টিজান মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণে পর্যায়ে রয়েছে। মামলাটিতে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।’

মামলার আসামিদের মধ্যে হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি’ নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী ও হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ কারাগারে রয়েছেন। রিপন গ্রেফতার হলেও এখনও পলাতক অপর আসামি শরিফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে (স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ) হামলা চালানো হয়। এতে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর গত বছরের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। চিহ্নিত বাকি ১৩ জন বিভিন্ন অভিযানে নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন