আজকের পত্রিকা
ঢাকা বৃহস্পতিবার, মে ১৩, ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ফের শতাধিক মৃত্যু
আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টে বেশি রোগী মারা যাওয়ার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
করোনা ভাইরাসে এক দিনে আবারও শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন শুক্রবারও একই সংখ্যক মানুষ মারা যান। এই নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট ১০ হাজার ২৮৩ জনের মৃত্যু হলো। এদিকে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের পরীক্ষার পরিমাণ কমার সঙ্গে কমছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। সংক্রমণ কম হলেও নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার প্রায় একই রকম রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ১৮৫টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৩ জনের মধ্যে। গত ১২ মার্চের পর এটিই এক দিনে সর্বনিম্ন নমুনা পরীক্ষা। আর গত ২২ মার্চের পর এটিই সর্বনিম্ন শনাক্তের সংখ্যা।
অপরদিকে সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি নেই। খালি নেই সাধারণ বেডও। হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে চিকিত্সার অভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, দেশে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসটি আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট। এটি দ্রুত রোগীর ফুসফুস নষ্ট করে দিচ্ছে। রোগীরা বিলম্বে হাসপাতালে আসছে। এ কারণে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অনেক বেশি করোনা রোগীর মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংক্রমণ যাতে আর না বাড়ে সেই কাজটি করতে হবে। এক্ষেত্রে সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষকে বাধ্য করতে হবে।
দেশে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ১৫ হাজার ২৫২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ৫ হাজার ৯০৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা ৬ লাখ ৮ হাজার ৮১৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১২১টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ৩৪টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ১০২টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাত্ সর্বমোট ২৫৭টি ল্যাবে ১৬ হাজার ১৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
গত এক দিনে যারা মারা যাওয়াদের ৬৯ জন পুরুষ আর নারী ৩২ জন। এদের মধ্যে ৯৯ জন হাসপাতালে এবং দুই জন বাড়িতে মারা গেছেন। যার ৫৮ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, ২৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, আট জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, তিন জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং তিন জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৭ জন ঢাকা বিভাগের। ২৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুই জন রাজশাহী বিভাগের, তিন জন করে খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের, একজন বরিশাল বিভাগের এবং দুই জন সিলেট বিভাগের।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।

