আজকের পত্রিকা
ঢাকা বৃহস্পতিবার, মে ১৩, ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় কবরী
কালের অবসান কি একে বলে! ৭০ বছরের জীবনে ৫৬ বছর তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে শাসন করেছেন। রুপালি পর্দায় অভিনয় করে কবরী যে ভালোবাসা মানুষের মনে ছড়িয়েছেন সেই আসন তার চিরস্থায়ী। মৃত্যু তা কেড়ে নিতে পারবে না কখনোই। কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ সারাহ বেগম কবরীকে গতকাল রাজধানীর বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। মৃত্যু পেরিয়ে অমরত্বের পথে যাত্রা করলেন বাংলা সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবরী। রাতে হাসপাতালটির হিমঘরেই তার মরদেহ রাখা হয়। সকালে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের হিমঘর থেকে মরদেহ নেওয়া হয় মোহাম্মদপুরের আল-মারকাজুলে। সেখানে গোসল সম্পন্নের পর মরদেহ শেষবারের জন্য নেওয়া হয় গুলশান-২ নম্বরের লেক রোডের প্রিয় বাসস্থানে। শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। শোকের আবহে ভারি হয়ে ওঠে সেখানকার বাতাস। এরপর বাদ জোহর কবরস্থান প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গার্ড অব অনার প্রদানের পর বনানী কবরস্থানে কবরীকে সমাহিত করা হয়।
কবরীর জানাজায় অংশ নেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, সাবেক সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী কলাকুশলীরা। এছাড়া কবরীর পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
কবরী প্রসঙ্গে মিশা সওদাগর বলেন, বাংলা সিনেমার একটি স্তম্ভের পতন ঘটল। তাদের হাতেই এ সিনেমার স্বর্ণালি যুগের সৃষ্টি। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তার অভাব কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। চিত্রনায়ক জায়েদ খান বলেন, করোনা একে একে সব ব্যক্তিত্বকে নিয়ে যাচ্ছে। তার মৃত্যুর শোক সহজে ভুলবার নয়।
এদিকে, কবরীর মৃত্যুর পর রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে ফুসফুসে শতভাগ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় মারা গেছেন সারাহ বেগম কবরী। গতকাল শনিবার সকালে অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুর বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের এ পরিচালক। তিনি বলেন, তাকে (কবরী) যখন প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তখন তার ফুসফুসের ৬৪ শতাংশ সংক্রমিত ছিল। আর আমাদের এখানে ভর্তি হওয়ার পর পোর্টেবল এক্স-রে দিয়ে আমরা পরীক্ষা করি। এ সময় তার ফুসফুসের শতভাগ সংক্রমিত ছিল। তার দুই ফুসফুসেই শতভাগ সংক্রমণ ছিল। এই সংক্রমণের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় উনি অক্সিজেন মেইন্টেইন করতে পারছিলেন না।
গত ৫ এপ্রিল কবরীর কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। সেদিন রাতেই তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে নেওয়া হয় কবরীকে।
বিভিন্ন মহলের শোক :কবরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সমাজ কল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, শ্রমপ্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে আরো শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদের এবং সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আহমেদ।
জেপির শোক
সারাহ বেগম কবরীর মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ও দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় জেপির নেতৃদ্বয় বলেন, কবরী কিংবদন্তিতুল্য অভিনেত্রী যিনি অভিনয় দক্ষতার দ্বারা দীর্ঘদিন যাবত্ শীর্ষ নায়িকা হিসেবে বাংলাদেশের সিনেমা ও সাংস্কৃতিক জগতে কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে সিনেমা ও সাংস্কৃতিক জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। নেতৃদ্বয় মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

