এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে রেকর্ড ৮.১৩ শতাংশ :অর্থমন্ত্রী

মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৯০৯ ডলার

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ইত্তেফাক রিপোর্ট

অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, চলতি (২০১৮-১৯)  অর্থ বছর শেষে দেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মাথাপিছু আয় বেড়ে হবে ১ হাজার ৯০৯ ডলার।

গতকাল শেরে বাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এই প্রাক্কলন সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি খুব ভালো ছিল। তাই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। রফতানি, বিনিয়োগ, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবস্থা ভালো ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০২০ সালের পর পরবর্তী চার বছরে প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিটে পৌঁছাবে।

মন্ত্রী জানান, গত অর্থ বছর শেষে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৫৮ ডলার। বিবিএস এর চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থ বছর (২০১৭-১৮) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। টানা কয়েক বছর ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করার পর এ বছর ৮ শতাংশের ঘর ছাড়াবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপির অনুপাতে দেশে বিনিয়োগ বেড়েছে। জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ ৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ হওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছর জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৩১ দশমিক ১৩ শতাংশ। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আশা করছি আগামী বছর থেকে বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে। আমরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

চলতি অর্থ বছরে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। গত অর্থ বছর এটি ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। মূলত শিল্প খাতের হাত ধরে প্রবৃদ্ধির আকার বেড়েছে।

আগামী বাজেটে প্রবৃদ্ধির

লক্ষ্যমাত্রা ৮.৫ শতাংশ

মঙ্গলবার বিকালে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভা’ শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আসছে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি আগামী বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো। বাজেটে কোনো কিছুই কমবে না সব কিছুই বাড়বে। বাজেটে কথা কম থাকবে কিন্তু আকারে কমবে না। সবার সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে বাজেটের আকার নির্ধারণ করবো। মেগা প্রকল্প প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বাজেটে মেগা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বেশি রাখবো; যাতে করে প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করা যায়। আমাদের আরো দুটি কাজ করতে হবে একটি হলো— আমার গ্রাম আমার শহর বাস্তবায়ন করা। অন্যটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।