ঢাকা বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬
২৭ °সে

কেমিক্যাল গুদামের মালিক এখনো শনাক্ত হয়নি

কেমিক্যাল গুদামের মালিক এখনো শনাক্ত হয়নি

রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের উত্সস্থল সেই কেমিক্যাল গোডাউনের মালিককে পুলিশ এখনো শনাক্ত করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, গোডাউনটির মালিক জনৈক ইমতিয়াজ আহমেদ। কিন্তু নাম ছাড়া তেমন কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদুল ইসলাম বলেন, আমরা কেমিক্যাল গোডাউনের মালিককে খুঁজছি। যেহেতু এই গোডাউনের কেমিক্যাল থেকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, তাই গোডাউনের মালিকই হবেন প্রধান আসামি। আমরা এ পর্যন্ত ৪০ জন সাক্ষী পেয়েছি। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। ওয়াহেদ ম্যানসনের মালিকের দুই ছেলে উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কেমিক্যাল গোডাউনের মালিকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টায় ৬৪, নন্দকুমার দত্ত রোডের ওয়াহেদ ম্যানসনে কেমিক্যাল গোডাউনের বিস্ফোরণ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৭০ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন। এ ঘটনার দুই দিন পর স্থানীয় বাসিন্দা আসিফ বাদি হয়ে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় একই উদ্দেশে অবহেলাপূর্বক অগ্নিসংযোগের কারণে মৃত্যু ঘটানোসহ ক্ষতিসাধনের অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০৪(ক)/৪৩৬/৪২৭/৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বাদি আসিফের বাবা জুম্মন (৫০) অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন। মামলায় প্রয়াত হাজী ওয়াহেদের দুই ছেলে মো. হাসান ও সোহেল ওরফে শহীদসহ অজ্ঞাত ১২ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘হাজী ওয়াহেদের দুই ছেলে আর্থিকভাবে লাভবান হতে আগুন লেগে মানুষের জানমালের ক্ষতি হবে জেনেও তাদের চারতলা ফ্যামিলি বাড়ির বিভিন্ন তলায় দাহ্য পদার্থ ব্যবসায়ীদের গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেয়। আসামিদের ৬৫/৬৬ নম্বর নন্দকুমার দত্ত রোডের বাড়িটির দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলায় থাকা বডি স্প্রে, পলিথিনের দানা ও কেমিক্যালে আগুন লেগে মোট ৬৭ জন মানুষের প্রাণহানি হয়।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোরাদুল ইসলাম বলেন, মামলায় বাড়ির হোল্ডিং নম্বরটি ভুল দেয়া হয়েছে, এটি ৬৪ হবে, যা আমরা পরে আদালতকে অবহিত করেছি। গোডাউনের মালিক কারা এবং ভবনটির মালিকপক্ষ কিভাবে জড়িত তার তদন্ত চলছে। এখানে কাউকে রেহাই দেওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে, ওয়াহেদ ম্যানসনের দোতালায় বিস্ফোরিত হওয়া কেমিক্যাল গোডাউনে পড়ে থাকা বডিস্প্রের ক্যানে লেখা ছিল ‘পার্ল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’। এই পার্ল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ভারত, দুবাই, তুরস্ক, ফ্রান্স ও জার্মানি থেকে পারফিউম ও বডি স্প্রে আমদানি করে। ঠিকানা রয়েছে, ৬৪ নন্দ কুমার দত্ত রোড়, চকবাজার। এটিই মূলত ওয়াহেদ ম্যানশন। হাতিরপুলে একটি ভবনে পার্ল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের অফিস ছিল। অগ্নিকাণ্ডের পর ওই অফিসের সাইনবোর্ড, অফিসের কাগজপত্র ও মালামাল নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে পার্ল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কাউকে পায়নি। পার্ল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের আমদানি করা প্রসাধনীতে মিলেছে বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত স্টিকার। পুলিশ বিএসটিআইয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সেখানকার আবেদনপত্রে ঠিকানা দেয়া আছে, ৬৬ মৌলভীবাজার, চকবাজার, ঢাকা। কিন্তু এই ঠিকানায় পুলিশ পার্ল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পায়নি। পুলিশ বলছে, ইমতিয়াজ আহমেদ পার্ল ট্রেডের পরিচালক। এর মালিক আবুল কাশেম হতে পারেন। তবে এই কেমিক্যাল গোডাউনের মালিকের নাম পরিচয় নিয়ে পুলিশ এখন গোলকধাঁধায় রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন