ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


২ জন চাকায় পিষ্ট আর ছয় গাড়ির দফারফা

রাজধানীতে বেপরোয়া বাস চালকের কাণ্ড
২ জন চাকায় পিষ্ট আর ছয় গাড়ির দফারফা

রাজধানীতে আবারো বেপরোয়া বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল দুই ব্যক্তির। এ ঘটনায় আরো অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, দুর্ঘটনার পর চালক ধাক্কা দিয়ে সামনে পড়া অন্য বাস, রিকশা ও প্রাইভেটকারসহ অন্তত ৬টি গাড়িকে দুমড়ে-মুচড়ে সেগুলোর দফারফা করে দিয়েছেন। রাজধানীর মত্স্য ভবন মোড়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ‘স্বাধীন পরিবহন’-এর চালকের হাতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত দুজনের একজন হচ্ছেন সুমন (২৬) ও অপরজন ওহেদুল ইসলাম সেলিম (৪০)। লাশ দু’টি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনায় দায়ী স্বাধীন পরিবহনের চালক নজরুল ইসলামকে আটক করেছে। তিনি দাবি করেছেন, গাড়ির ব্র্রেক ফেল করায় তার বাসটি অন্য গাড়ির ওপর উঠিয়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, গতকাল সকাল সোয়া ৭টার দিকে স্বাধীন পরিবহনের বাসটি গুলিস্তানের দিকে যাচ্ছিল। দ্রুতগতিতে মত্স্য ভবন মোড় ঘোরার সময় সেটি সামনে থাকা পরমাণু শক্তি কমিশনের আরেকটি বাসকে ধাক্কা দেয়। সেই বাসটি সামনে একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্বাধীন পরিবহনের বাসটি অপর একটি রিকশাকে চাপা দিলে চালক ও আরোহী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দুর্ঘটনায় পড়া বাসসহ অপর বাহনগুলো সরিয়ে নেয় এবং গুরুতর আহত চারজনকে উদ্ধার করে (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিত্সক সুমন ও ওহেদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হচ্ছেন মো. শরীফ (২০) ও নুর আলম (৩০)।

আহতদের উদ্ধারকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী মনির হোসেন জানান, তিনি স্বাধীন পরিবহনের বাসের পেছনের দিকের সিটে ছিলেন। মত্স্য ভবন মোড় ঘোরার সময়ে হঠাত্ করে সেটি অন্য একটি বাসকে ধাক্কা দেয়। এরপরও বাসটি থামেনি। একটি প্রাইভেটকার ও রিকশায় ধাক্কা দিয়ে বাসটি ফুটপাতে ধাক্কা খায়। এতে ভেতরে থাকা যাত্রীরা সামান্য আহত হলেও একটি রিকশা থাকায় যাত্রী ও চালক চাকার নিচে একেবারেই পিষ্ট হয়ে যায়। রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জহিরুল ইসলাম বলেন, সকালে ফাঁকা রাস্তা পেয়ে বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

সুমনের বোন জেসমিন সাংবাদিকদের বলেন, তারা শাহজাহানপুরের রেল কলোনিতে থাকেন। সকালে তার ভাই রিকশা চালাতে বের হয়েছিলেন। দুপুরের দিকে তারা টিভিতে খবর দেখে নিশ্চিত হন বাসের চাপায় তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ওহেদুলের ভগ্নিপতি ডা. মজিবর রহমান জানান, সেলিমের বাসা সবুজবাগের ১৫৯ নম্বর মধ্য বাসাবো। তিনি গতকাল ফুল কিনতে সুমনের রিকশাযোগে শাহবাগ যাচ্ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন