ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
৩০ °সে


সরকারের ১০০ দিন উদ্যমহীন :সিপিডি

প্রবৃদ্ধির হিসাব বাস্তবসম্মত নয়, একটি গোষ্ঠী সরকারকে করায়ত্ত করে নীতি নির্ধারণ করছে
সরকারের ১০০ দিন উদ্যমহীন :সিপিডি

বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিন সম্পর্কে মূল্যায়নে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, এসময়ে সরকার ছিল উত্সাহহীন, উদ্যমহীন, উদ্যোগহীন ও উচ্ছ্বাসহীন। সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, প্রথম ১০০ দিনে বড় ধরনের উত্থানের প্রতিফলন দেখতে পাব। কিন্তু তা না হয়ে শুধু ধারাবাহিক উদ্যোগ ছিল, নতুন কিছু ছিল না। আবার সরকার যে ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে, তা মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেমন কর ছাড়, সুদের হারে সুবিধা প্রভৃতি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনা: বর্তমান সরকারের প্রথম একশ দিন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এতে সিপিডির স্বাধীন পর্যালোচনা তুলে ধরেন সংস্থাটির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান।

সংবাদ সম্মেলনে ড. দেবপ্রিয় বলেন, উন্নয়নের যে ধারণা তার সঙ্গে নীতি প্রণয়নের ধারণার অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের যে ধরনের ভূমিকা সেটা আমরা দেখতে পারছি না। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য যে ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের দরকার ছিল, সেগুলোর কিছু হয়নি। অসঙ্গতিগুলো দূর হয়নি। আমরা সে ধরনের সচেতনতাও দেখিনি, সে ধরনের পদক্ষেপও দেখিনি। ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ে তিনি বলেন, বাস্তবায়নে মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি বিভিন্ন কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সুদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এগুলোর ফলে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে— এটা আমরা মনে করি না। মনে হয় যেন কোথায় সরকারকে একটি প্রোথিত গোষ্ঠী করায়ত্ত করে নীতিনির্ধারণ করছে। তবে এসময়ে সরকারের ভালো উদ্যোগগুলোর মধ্যে আছে, বিদেশি কর্মজীবীদের করের আওতায় আনা, মানি লন্ডারিং বিধিমালা জারি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপনকে করের আওতায় আনা ইত্যাদি।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব করা ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে ঈর্ষণীয় বলছে সিপিডি। তারা এ প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সিপিডির মতে, এ হিসাব বাস্তবসম্মত নয়। অর্থনীতির সূচকগুলোর সঙ্গে এর মিল নেই। জিডিপির হিসাব আরো গভীরে গিয়ে করা উচিত। তা না হলে নীতিনির্ধারণে সমস্যা হবে।

কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরে জিডিপির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিডি বলেছে, এ প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের ভূমিকা দেখিনি। আবার কর আহরণের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি নেই। ব্যক্তি খাতের ঋণ প্রবাহ বেশি হয়নি। মূলধনী পণ্যের আমদানিও বেশি দেখা যায়নি। ব্যাংক খাতেও চাঞ্চল্য নেই। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী এ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মানে হলো, শ্রমিকদের উত্পাদনশীলতা বেড়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলে বলেন, গত কয়েক বছরে কী এমন প্রযুক্তির উন্নয়ন হয়েছে, যাতে শ্রমের উত্পাদনশীলতা এত বাড়ল? আবার উত্পাদনশীলতা বাড়লে শ্রমিকের আয় বৃদ্ধি হওয়ার কথা। কিন্তু সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপে এর প্রতিফলন নেই। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কতটা কর্মসংস্থান হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। প্রবৃদ্ধির সব হিসাব প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

প্রবৃদ্ধি হলেও বৈষম্য বাড়ছে জানিয়ে সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রবৃদ্ধি হচ্ছে অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। কর্মসংস্থান না হলে আয় বাড়বে না, সমতা আসবে না, বৈষম্য বাড়বে। ঋণ খেলাপিদের সুবিধা প্রদানের বিষয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, খেলাপি ঋণ কমার লক্ষ্যে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেওয়া সুবিধার ফলে ঋণ খেলাপিরা ও দুর্বল ব্যাংক উত্সাহিত হবে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তারল্য সংকট দেখা দেবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন