ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৯ °সে


প্রধানমন্ত্রীর কাছে অশেষ ঋণে বাধা পড়ে গেলাম

জনগণের ভালোবাসায় নতুন জীবন পেয়েছি

দেশে ফিরে ওবায়দুল কাদের
জনগণের ভালোবাসায় নতুন জীবন পেয়েছি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার চিকিত্সার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমার ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরম মমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি একজন মমতাময়ী মা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সত্যিই মাদার অব হিউম্যানিটি। তার কাছে আমার ঋণের বোঝা আরো বেড়ে গেল। তার কাছে আমি অশেষ ঋণে বাধা পড়ে গেলাম। তার খোঁজখবর রাখায় এবং তার সুস্থতা কামনায় কোরান শরিফ পড়ে মোনাজাত করায় বঙ্গবন্ধুর অপর কন্যা শেখ রেহানার কাছেও অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের।’

সিঙ্গাপুরে দুই মাস ১০ দিন চিকিত্সা শেষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় অর্জন জনগণের ভালোবাসা। জনগণের ভালোবাসায় আমি নতুন জীবন পেয়েছি। নতুন উদ্যমে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার দলের সকল নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা হাসপাতালে আমার ওই সময়ে ছুটে এসেছিলেন। ওই সময় আমার মধ্যে আমি ছিলাম না, আমি জানতাম না আমার কী হয়েছে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। জীবনটা আসলেই স্রোতের প্রতিকূলে চলার মতো। এই শিক্ষা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছি। মৃত্যু পথযাত্রী অবস্থায় শুধু শেখ হাসিনা নাম ধরে ডেকেছিলেন এবং সে সময় আমি তার ডাকে সাড়াও দিয়েছিলাম।’

গতকাল বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে ওবায়দুল কাদেরকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই বিমান বন্দরে জড়ো হন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় ফুল দিয়ে ওবায়দুল কাদেরকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমেদ হোসেন, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীনসহ দলের নেতাকর্মীরা। এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে।

গত ৩ মার্চ ভোরে ঢাকার নিজ বাসায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ওবায়দুল কাদেরকে বিএসএমএমইউয়ের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। এরপর ভারতের বিখ্যাত হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠীর পরামর্শে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০ মার্চ ওবায়দুল কাদেরের সফল বাইপাস সার্জারি হয়। পরে সুস্থ হওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল মাউন্ট এলিজাবেথ থেকে ছাড়পত্র পান ওবায়দুল কাদের। তবে ওই হাসপাতালের কাছেই ভাড়া বাসায় থেকে নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের সাক্ষাত্

ওবায়দুল কাদের দীর্ঘ চিকিত্সা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেই গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তিনি গণভবনে প্রবেশ করেন। ওবায়দুল কাদের প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করেন। পরে অসুস্থ হওয়ার আগ থেকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত নিজের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন। চিকিত্সার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের কেঁদে ফেলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, হায়াত দেওয়ার মালিক আল্লাহ। তখন প্রধানমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রী দুই জনই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টায় ওবায়দুল কাদের তার স্ত্রীকে নিয়ে গণভবন ত্যাগ করেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন