ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৯ °সে


ছাতকে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে বন্দুকযুদ্ধ

নিহত ১, ওসিসহ আহত ৪০
ছাতকে আওয়ামী  লীগের দুই পক্ষে  বন্দুকযুদ্ধ

সুনামগঞ্জের ছাতক নৌপথে টোল আদায় নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে ছাতক পৌর শহরের হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়েছে দু’পক্ষের মধ্যে। এসময় ছাতক হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গুলিবিদ্ধ হন ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল, ওসি তদন্ত আমিনুল ইসলাম, এসআই সৈয়দ আব্দুল মান্নান, কনস্টেবল ফাহিম, কনস্টেবল সাকিরসহ ৮ পুলিশ সদস্য।

ওসি মোস্তফা কামালসহ আহত তিনজনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শাহাবউদ্দিন, সেলিম চৌধুরী, কহিন চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, কামাল চৌধুরীসহ আহত ২৫ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ছাতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ শাহাবউদ্দিন চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তার বুকে গুলি লেগেছিলো বলে পুলিশ জানিয়েছে। শাহাবউদ্দিন বাগবাড়ি এলাকার আব্দুস সোবহানের পুত্র। পেশায় সে একজন শ্রমিক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সুরমা নদীতে টোল আদায় নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বাগবাড়ি গ্রামের মৃত আরজ মিয়া চৌধুরীর পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আহমেদ শাখাওয়াত চৌধুরী সেলিম ও সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী পক্ষ এবং তেরা মিয়া চৌধুরীর পুত্র ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক শাহিন চৌধুরী ও মন্ডলীভোগ এলাকার বাসিন্দা পৌর কাউন্সিলর তাপস চৌধুরীসহ ৯ কাউন্সিলর পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। গত দু’দিন ধরে উভয়পক্ষের লোকজন ‘ফেসবুক যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাসে একপক্ষ অপর পক্ষকে চাঁদাবাজ বলে আখ্যায়িত করে আসছিলো। মঙ্গলবার সকালে সুরমা নদীতে শাহিন চৌধুরী পক্ষের দু’টি নৌকায় লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাতকের বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন সাহেল ও বাগবাড়ি এলাকার খোকন মিয়া জড়িত ছিল বলে জানান শাহিন চৌধুরী। এ নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে। সন্ধ্যার পর বাগবাড়ি স্কুল এলাকায় খোকন মিয়াকে ধাওয়া করে শাহিন চৌধুরীর লোকজন। পরে শাহিন চৌধুরী ও তাপস চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে আহমেদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী পক্ষের খোকন মিয়া এবং শাহাবউদ্দিন সাহেলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। রাত ১০টার দিকে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষের লোকজন।

প্রায় দেড়ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি দু’পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৬৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ৫২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছেন ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ২৮ জনকে আটক করেছে। সংঘর্ষ, আটক ও সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করে এএসপি সার্কেল ছাতক জোন বিল্লাল হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আটক ২৮ জনের মধ্যে যারা ঘটনার সাথে জড়িত নয় যাচাই-বাছাই করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। দু’পক্ষের কেউ এখনো থানায় মামলা করেনি। পুলিশ আহতের ঘটনায় পুলিশ এসল্ট মামলা করা হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন