ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
২৯ °সে


ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি অগ্রহণযোগ্য

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি অগ্রহণযোগ্য
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ -পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দূর করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে চায়। তিনি বলেন, সব ধর্মই শান্তির কথা বলে। এটাই বিশ্বাস করি যে ধর্ম যার যার, উত্সব সবার এবং এভাবেই বাংলাদেশে উত্সবগুলো পালন করা হয়। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি গ্রহণযোগ্য নয়।

গতকাল সোমবার সকালে গণভবনে বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে সারাদেশ থেকে আগত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সংঘ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এদেশে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে সমান অধিকার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করবে। কোনো সম্প্রদায়ই নিজেকে কখনও অবহেলিত যেন মনে না করে, সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখি। সকল ধর্মের মানুষ ধর্ম-কর্ম পালনের সমান সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ সমগ্র বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ এখন বিশ্বব্যাপী সমস্যা হয়ে উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে যারা জঙ্গিবাদে জড়িত, তাদের কোনো ধর্ম, দেশ ও সীমানা নেই। তারা কেবল জঙ্গি-এটাই সত্য। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বাংলাদেশকে এসব থেকে মুক্ত রেখে এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে চাই।’

বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করায় তাঁর সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এখনও ২১ ভাগ জনগণ দরিদ্রসীমায় এবং ১১ ভাগ হতদরিদ্র রয়ে গেছে। আমরা চাই, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ হতদরিদ্র মুক্ত হবে। আর বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। সকল ধর্মের মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করতে পারে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। এটাই ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা। অবহেলিত না ভেবে সবাইকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশ স্বাধীন করে যে সংবিধান দিয়ে গেছেন, সেখানে সকলের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা তিনিই নিশ্চিত করে গেছেন। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা চলছি। যার ফলে বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে, ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাবে।’

বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গৌতম বুদ্ধের যে বাণী সেটা মানুষের শান্তির জন্য। আর সকল ধর্মের মর্মবাণীই হচ্ছে শান্তি। আর আমরা সেটাই বিশ্বাস করি।’ তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গণভবনে আগমন প্রসঙ্গে বলেন, আপনাদের আগমনে গণভবনের মাটি ধন্য হয়েছে। তিনি এ সময় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশে সিং, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, দীপংকর তালুকদার এমপি, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৈশ হ্লা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ধুমকেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজুরী মারমা, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি শুদ্ধানন্দ মহাথের, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমত্ ধর্মমিত্র মহাথের, শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমত্ প্রজ্ঞানন্দ মহাথের, বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমত্ সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন