ঢাকা সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


বিশ বছরে হূদরোগীর হার বেড়েছে ২০ গুণ

আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগ নারী মানসিক চাপ, খাদ্যে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর জীবন, আর পরিশ্রম না করায় এ রোগ বাড়ছে
বিশ বছরে হূদরোগীর হার বেড়েছে ২০ গুণ

এদেশে হূদরোগীর সংখ্যা ২০ বছরে ২০ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর হার। আক্রান্তদের মধ্যে নারীর হার বেশি। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় কর্মক্ষম বয়সে অর্থাত্ তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তরুণ প্রজন্মের অলস বসে থাকা, বসে বসে কাজ করা, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন, খাবারে ভেজাল, মানসিক চাপসহ নানা কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের হার খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশন পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনের সভাপতি ও জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান জানান, বাংলাদেশে ৩০ বছর বয়সীরাও হূদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু পাশ্চাত্যে ৬০ বছর বয়সীরা সাধারণত হূদরোগে আক্রান্ত হয়।

তিনি আরো জানান, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগে মারা যায়, যা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর ৩১ শতাংশ। এই মৃত্যুর মধ্যে ৮৫ শতাংশই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে করোনারি হূদরোগের কারণে তিন চতুর্থাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে হূদরোগের কারণে মৃত্যু হয় ১৪.৩১ শতাংশের। সারাবিশ্বে নারী ও পুরুষের মধ্যে বর্তমানে সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ এই হূদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক বলে গবেষণায় দেখা যায়।

জানা গেছে, বাংলাদেশে মৃত্যুর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার পরেই হূদরোগের স্থান। ব্লক হয়ে যাওয়া ধমনী হূদযন্ত্রের একাংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে হার্ট অ্যাটাক হয়। যদি ব্লক হয়ে যাওয়া ধমনীকে দ্রুত পুনরায় চালু করা না যায়, তাহলে সেই ধমনী দ্বারা চালিত হূদযন্ত্রের অংশটি অক্ষম হতে শুরু করে। বুকে ব্যথা, বুকের ভিতরে চাপ অনুভব, বমি বমি ভাব, বুক জ্বালা ইত্যাদি লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। হার্ট অ্যাটাকের আগে বেশ কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন বা সপ্তাহ খানেক ধরে এমনটা অনুভব করে থাকেন আক্রান্ত ব্যক্তি।

গবেষণায় দেখা যায়, মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ জমাট বেঁধে গেলে বা ফেটে পড়লে স্ট্রোক হয়। অন্যদিকে, হূদযন্ত্র অস্বাভাবিক ছন্দে চলতে শুরু করলে এবং হঠাত্ করে অচল হয়ে পড়লে আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এক কথায় বলা যায় যে, হার্ট অ্যাটাক হল সংবহন-এর সমস্যা আর আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলো একটি ইলেক্ট্রিক্যাল সমস্যা।

বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর ১১.৮ শতাংশ স্ট্রোকের কারণে হয়ে থাকে, যে কারণে বিশজুড়ে হূদরোগের পরেই স্ট্রোক হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ। কখনও কখনও হাত থেকে শরীরের বাম দিকে নিচের অংশ পর্যন্ত একটা উপসর্গমূলক ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে যা বিপদের লক্ষণ। বুকে ব্যথা কিংবা চাপ অনুভূতি যদি গলা কিংবা চোয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা হলো হার্ট অ্যাটাকের স্পষ্ট লক্ষণ। এছাড়া যারা নিয়মিত কাজ যেমন সিঁড়ি চড়া, দ্রুত হাঁটাহাঁটি ইত্যাদির পর খুব আকস্মিক ক্লান্ত কিংবা জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন, তাদের অবিলম্বে চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান পরামর্শ দেন, ‘প্রধানত জীবনযাপনের সমস্যা আর মধ্যবয়সের শুরুতেই মানসিক চাপের কারণে হার্ট অ্যাটাকের হার বাড়ছে। উচ্চ ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি আর অস্বাভাবিক মাত্রায় রক্তচাপের কারণে হূদযন্ত্রের বিভিন্ন ব্যাধি ঘটে।

হূদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ উপায়

জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, হূদরোগ থেকে সহজেই নিরাপদ থাকা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা হাঁটা, লবণ বর্জন, খাদ্যাভাসে পরিবর্তন, চর্বি জাতীয় খাবার ও ধূমপান পরিহার, ভাত কম খাওয়া ও সবজি বেশি খেলে সহজেই হূদরোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখলে হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যে পরিবারে হূদরোগী ছিল কিংবা আক্রান্ত হয়েছে সেই ক্ষেত্রে ওই পরিবারের সদস্যদের ৩০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন এই দুই সিনিয়র হূদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন