ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬
৩০ °সে


পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন

গড় আয়ু বেড়ে ৭২.৩ বছর

জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৫ লাখ পুরুষের চেয়ে নারীর গড় আয়ু তিন বছর বেশি শিশু মৃত্যুর হার পাঁচ বছরে কমেছে ২২ শতাংশ বিয়ের গড় বয়স কমেছে, বেড়েছে তালাকের হার
গড় আয়ু বেড়ে ৭২.৩ বছর

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বর্তমানে ৭২.৩ বছর। ২০১৪ সালে এই প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ছিল ৭০.৭ বছর। চলতি বছর জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৫৭ হাজার। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা আট কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার এবং নারী আট কোটি ২৭ লাখ। শিশু মৃত্যুর হার গত পাঁচ বছরে শতকরা ২২ ভাগ কমেছে। সামাজিক নানা সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘মনিটরিং দ্যা সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ’ (এমএসভিএসবি) শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে মাতৃ মৃত্যু, শিশু মৃত্যুর হার কমে এসেছে। পরিবারগুলোতে নারীদের প্রাধান্য বেড়েছে। বয়স্ক শিক্ষার হার বেড়েছে। এর পরেও কিছু সূচকে পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিবাহের গড় বয়স কমেছে। তালাকের হার বেড়েছে। স্যানিটেশনের হার শতভাগে উন্নীত হয়নি। মাতৃ মৃত্যুর হার ধীরে কমেছে। শিক্ষার হার বাড়ছে কিন্তু ধীরে। মাইগ্রেশন বা স্থানান্তরের হার বেড়েছে ব্যাপকহারে।

২০১৮ সালে বছরব্যাপী তথ্য সংগ্রহ করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর বিবিএস ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রকাশ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। প্রতিবেদনের সার্বিক দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক একেএম আশরাফুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পরিসংখ্যানের মান আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। এর গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, দেশে এখনো দুই শতাংশ মানুষ উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ করছে। অর্থাত্ বিরাট একটি অংশ টয়লেট সুবিধার বাইরে রয়েছে। হাওর অঞ্চলে এটি দেখা যায়।

সঠিক পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে সুষম উন্নয়নের কথা বলেন। সেইসাথে গ্রামগুলোকে শহরে রূপান্তর করতে চান। এজন্য জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানের তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে মোট জনসংখ্যার ৮৮.৪ ভাগ মুসলিম এবং বাকিরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। এই হার গত তিন বছর ধরে একই রয়েছে। সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার মধ্যে শিক্ষার হার ৭৩.২ ভাগ এটি ২০১৭ সালে ছিল ৭২.৩ ভাগ। দেশে খানার আকার ২০১৪ সালে ছিল ৪.৩ যা ২০১৮ সালে হয়েছে ৪.২। নারী প্রধান খানার আকার ২০১৪ সালে ১২.২ হলেও ২০১৮ সালে বেড়ে হয়েছে ১৪.২। অর্থাত্ নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৪ সালে বিপত্নীক বা তালাকপ্রাপ্ত বা বিচ্ছিন্ন নারীদের হার প্রতি হাজারে ৯.১ ভাগ হলেও ২০১৮ সালে এই হার বেড়ে হয়েছে ১০.৮। পুরুষদের মাঝেও এই হার বেড়েছে। ২০১৪ সালে ১.১ ভাগ থেকে ২০১৮ সালে ১.৫ ভাগ হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ৯৮ ভাগ মানুষ ট্যাপ বা নলকূপের পানি পান করে। আলোর উেস ৯০.১ ভাগ বিদ্যুত্ ব্যবহার করছে। কেরোসিন ব্যবহার করছে পাঁচ ভাগ। স্যানিটেশনের হার ৭৮.১ ভাগ যা ২০১৪ সালে ছিল ৬৩.৫ ভাগ।

খানার আর্থ সামাজিক বৈশিষ্ট্য:বর্তমান প্রতিবেদনটি ২০১৮ সালে মোট ২০১২ নমুনা এলাকা থেকে সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা ২০১৪ সালে ছিল ৪.৩ যা ২০১৮ সালে হয়েছে ৪.২। বাংলাদেশের নারীরা এখনো উচ্চমাত্রায় পুরুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে শতকরা ৮৫.৮ ভাগ পরিবারের খানা প্রধান পুরুষ। বয়স্ক শিক্ষার হার বেড়েছে। দেশে ১৫ বছরের উপরে শিক্ষার হার এখন ৭৩.৯ শতাংশ যা ২০১৪ সালে ছিল ৬১.৪ শতাংশ। বয়স্ক শিক্ষার হার গ্রামের চেয়ে শহরে ২১ শতাংশ বেশি। সাত বছরের উপরে শিক্ষার হার এখন ৭৩.২ শতাংশ।

প্রজনন:বাংলাদেশে স্থূল জন্মহার প্রতি হাজারে ১৮.৩ যা ২০১৪ সালে ছিল ১৮.৯। প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্রাম এলাকায় স্থূল জন্মহার শহর এলাকার চেয়ে বেশি, ২০.১ বনাম ১৬.১। ২০১৮ সালে প্রতি হাজার নারীর সাধারণ প্রজনন হার পাওয়া গেছে ৬৭। সার্বিক ভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে জন্মের হার অনেকটা স্থির।

মরণশীলতা:প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে মরণশীলতা প্রতি হাজার জনসংখ্যায় ৫ জন যা পল্লী এলাকায় ৫.৪ এবং শহর এলাকায় ৪.৪ জন। ২০১৪ সালে এই হার ছিল ৫.২ জন। শিশু মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে (১ বছরের নিচে) এই প্রবণতা লক্ষ করা যায়। শিশু মৃত্যু হার ২০১৪ সালে প্রতি হাজার জীবিত জন্মের ক্ষেত্রে ছিল ৩০ জন। ২০১৮ সালে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ২২ এ। মরণশীলতার অন্যান্য সূচকের ক্ষেত্রে মৃত্যু হার কমার একই রকম প্রবণতা লক্ষণীয়। প্রতি হাজার জীবিত জন্মের ক্ষেত্রে (নবজাতক মৃত্যু) ২০১৪ সালে হার ছিল ২১ যা ২০১৮ সালে ১৬ তে নেমে এসেছে। ২০১৮ সালে শিশু মৃত্যুর হার (১-৪বছর) পাওয়া গেছে ১.৭ প্রতি হাজার শিশুর ক্ষেত্রে যা ২০১৪ সালে ছিল ২। শিশু মৃত্যুর হার গত পাঁচ বছরে শতকরা ২২ ভাগ কমেছে। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২০১৪ সালে ১.৯৩ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১৮ সালে ১.৬৯ হয়েছে।

বিবাহের গড় বয়স:বিবাহের বয়স সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাম্প্রতিককালে বিশেষ করে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রথম বিবাহের গড় বয়স কিছুটা নিম্নমুখী। ২০১৫ সালে পুরুষের গড় বয়স ছিল ২৫.৩ বছর যা ২০১৮ সালে হয়েছে ২৪.৪ বছর। পক্ষান্তরে নারীদের ক্ষেত্রে এই বয়স ২০১৪ সালে ছিল ১৮ বছর যা ২০১৮ সালে একই অবস্থানে রয়েছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার:২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এই পাঁচ বছরে দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ হার বাড়েনি। প্রায় একই রকম রয়েছে এই হার। নমুনা এলাকায় জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার প্রতি হাজারে ৬৩.১ পাওয়া গেছে। শহরাঞ্চলে এই হার ৬৪ শতাংশ এবং গ্রামীণ অঞ্চলে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্রতিবন্ধী:দেশে বর্তমানে প্রতি হাজারে ৯ জন মানুষ কোনো না কোনো ভাবে প্রতিবন্ধী। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে প্রতিবন্ধীর হার বেশি। ২০১৮ সালে পুরুষ প্রতিবন্ধীর হার প্রতি হাজারে ৯.৩ জন এবং নারী প্রতিবন্ধীর হার ৭.৭ জন।

আগমন ও বহির্গমন:২০১৪ থেকে ২০১৮ সময়ে দেশের অভ্যন্তরে ও নিজ এলাকার বাইরে মাইগ্রেশন বা স্থানান্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে প্রতি হাজার জনসংখ্যার জন্য অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাইগ্রেশন হার ৭২.৮ জন পাওয়া গেছে যা ২০১৪ সালে ছিল মাত্র ৪০.২ জন। অন্যদিকে, নিজ এলাকার বাইরে স্থান্তরের হার ২০১৪ সালে ৪৩.১ জন হলেও ২০১৮ সালে হয়েছে ৭২.৪ জন।

এইচআইভি/এইডস:পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৩ সাল থেকে এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের ক্ষেত্রে ১৫-৪৯ বছরের নারীদের জ্ঞান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। ২০১৮ সালের প্রাপ্ত ফলাফল হতে দেখা যায় দেশে মাত্র ৩৪.৬ শতাংশ নারী এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের সকল পদ্ধতি সম্পর্কে জানে। ২০১৪ সালে এই হার ছিল মাত্র ২১ শতাংশ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন