ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
৩১ °সে


বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী

গ্যাসের দাম ৭৫ শতাংশ বাড়ানো দরকার, বেড়েছে ৩২.৮ শতাংশ

‘মিডিয়াকে বলব, ধর্ষকদের ছবি বেশি করে দেখান’
গ্যাসের দাম ৭৫ শতাংশ বাড়ানো দরকার, বেড়েছে  ৩২.৮ শতাংশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্য রাখেন —পিআইডি

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে এবং এনিয়ে অনেকের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতি ঘণমিটার গ্যাসে আমাদের খরচ হয় ৬১ টাকা ১২ পয়সা। আর ধরছি মাত্র ৯ টাকা ৮০ পয়সা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মূল্যায়ন করে দেখেছে- বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল। সেখানে আমরা গ্রাহকদের আর্থিক চাপের বিষয়টা বিবেচনা করে মাত্র ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ দাম বাড়িয়েছি। গতকাল বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সাল পর্যন্ত আমি তখন প্রধানমন্ত্রী, আমার ওপর প্রচ্ল চাপ আসলো যে গ্যাস রফতানি করতে হবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ঢাকায় এসে আমার কাছে প্রস্তাব দিলেন। এরপর আমাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গেলেন-সেখানেও প্রস্তাব করলেন যে, গ্যাস বিক্রি করতে হবে ভারতের কাছে। আমেরিকার কয়েকটা কোম্পানি আমাদের এখানে গ্যাস উত্তোলন করতো, এখনো করে। আমি বলেছিলাম- আমাদের কত গ্যাস আছে সেটা আগে জানতে হবে। এটা আমার দেশের সম্পদ। দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যত্ বংশধরদের জন্য অন্তত ৫০ বছরের রিজার্ভ রেখে এর অতিরিক্ত গ্যাস যদি থাকে আমি বিক্রি করতে রাজি আছি, এর আগে না। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলো, তখন জিমি কার্টার এই ব্যাপারে কথা বলতে আসেন। যমুনায় ছিলেন। আমাদের দল থেকে আমি ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান এবং বিএনপির খালেদা জিয়াসহ তাদের সাধারণ সম্পাদককে ডাকা হলো।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি রাজনীতি করি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে, এই রাজনীতি করি না। সে কথা আমি জিমি কার্টারকে স্পষ্টভাবে বলে এসেছিলাম। এরপর চলে আসি। খালেদা জিয়া থেকে যান, সেখানে মুচলেকাও দিয়ে আসেন। যার ফলে ২০০১ সালে ভোট পেয়েও আমরা সরকার গঠন করতে পারিনি। এটাই হলো বাস্তবতা। সেটা নিয়ে আমার আপসোস নেই। আমাদের তো গ্যাস নেই, থাকলে দেব। বলা হলো দেশ গ্যাসে ভাসে, আমি তো দেখি না সেটা। উন্নয়নের জন্য করছি, উন্নয়ন এনার্জি ছাড়া হয় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য আমরা এলএনজি আমদানি করছি। দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে, শিল্পায়নের সাথে-সাথে চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু সেই পরিমাণ গ্যাস আমাদের নেই। আমরা কুপ খনন করছি। গ্যাসের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, সেটুকু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। সেখানেও গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম নিয়ে যে কথাগুলো আসছে- দাম না বাড়িয়েও উন্নয়ন করা যাবে। দাম বাড়ানোর প্রয়োজনটা কেন ছিল? গ্যাসের বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য পেট্রোবাংলা বিভিন্ন কোম্পানিসহ ১০২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। এলএনজি আমদানি খুব ব্যয় সাপেক্ষ।

এডিস মশা অ্যারিসটোক্র্যাট হয়ে গেছে, ওষুধ দিলেও মরে না

ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশাকে ‘অ্যারিসটোক্র্যাট’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপটা একটু বেড়ে গেছে। তবে, ডেঙ্গুর মশা একটু অ্যারিসটোক্র্যাট মশা হয়ে গেছে। এখানেই সমস্যা। ওষুধ দিলেও তারা যায় না। সবাইকে ডেঙঙ্গুর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশা যাতে না হয় সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি যেই যেই কারণে মশা জন্মায়, যেমন পানি জমে থাকা, ফুলের টব, এয়ারকন্ডিশনের পানি- এসব দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মিডিয়াকে বলবো-ধর্ষকদের ছবি বেশি করে দেখান

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কিছু সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গেছে। শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচার বেড়েছে, কথায়-কথায় মানুষ খুন করা, ছোট্ট শিশুদের খুন করা। একটা ঘটনা যখন পত্রিকায় নিউজ হয় তখন যেন আরও বেশি বৃদ্ধি পায়। মিডিয়াকে বলবো-যারা ধর্ষক তাদের চেহারাটা যেন বারবার দেখায়। তাদের যেন লজ্জা হয়। আমাদের আইনটা আরও কঠোর করা দরকার। আরও কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া দরকার। এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ কখনও মেনে নেওয়া যায় না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মেয়েরাই প্রতিবাদ করব কেন? পুরুষ সমপ্রদায়, তাদের জন্য লজ্জার বিষয় যে পুরুষরাই অপরাধটা করে যাচ্ছে। সেজন্য পুরুষ সমপ্রদায়কে আরও বেশি সোচ্চার হতে হবে বলে আমি মনে করি। তবে এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন