ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


পোশাকশিল্পের আমদানি চালান খালাসে ব্যয় বৃদ্ধি

রপ্তানি হুমকিতে
পোশাকশিল্পের আমদানি চালান খালাসে ব্যয় বৃদ্ধি

সমস্যা সংকুল পোশাকশিল্পের আমদানি চালান খালাসে বিভিন্নমুখী জটিলতায় ব্যয় বৃদ্ধিসহ রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও মান রক্ষা করে প্রতিযোগিতা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে না পারায় দেশের প্রায় অর্ধেক পোশাক কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পোশাকশিল্পের এই ক্রান্তিকালে বন্দর ও কাস্টমস থেকে তার আমদানি পণ্য খালাসে হয়রানি, অতিরিক্ত ব্যয় এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিরাজমান সমস্যা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে পোশাকশিল্পের আমদানি চালান খালাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দিক নির্দেশনা এবং সরকারের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির প্রতি লক্ষ্য রাখার অনুরোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম জানিয়েছেন, সরকারের নীতিমালার অনুসরণপূর্বক দ্রুততার সঙ্গে পণ্য খালাসে কাস্টমস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে দেয়া কতিপয় সমস্যার ব্যাপারে বিজিএমইএর করণীয় বিষয়েও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আমদানিকৃত কাপড়ের রাসায়নিক ও একশভাগ কায়িক পরীক্ষার কারণে দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যাচ্ছে। পোশাকশিল্পের জন্য আনা কাপড় গজ বা মিটার হিসেবে আনা হয়। কিন্তু কাস্টমস কেজি হিসেবে পরিমাপ করে থাকে। এ সকল কারণে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়ে পোর্ট, শিপিং এজেন্ট ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়। বিজিএমইএর প্রস্তাবনায় বলা হয়, পোশাকশিল্পের একশভাগ রপ্তানির জন্য পণ্য আমদানি হওয়ায় জটিলতা পরিহার করে খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বলা হয়। পোশাকশিল্পের আমদানিকৃত চালান এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বিতীয় শুল্কায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে প্রস্তাব করা হয়। বিদেশি ক্রেতা পরিদর্শন সংস্থা একোর্ড ও এলাইয়েন্সের নির্দেশনা অনুযায়ী কালো স্টিল পাইপ আমদানি করতে বললেও এর খালাসের ক্ষেত্রে কেমিক্যাল পরীক্ষাসহ ব্যাপক জটিলতার সৃষ্টি করা হয়। ফলে পোশাক মালিকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

বিজিএমইএ এক্ষেত্রে কেমিক্যাল পরীক্ষা পরিহার করার প্রস্তাব করেছে। আমদানি পণ্যবাহী এফসিএল কন্টেইনারের পণ্য পরীক্ষাসহ ডেলিভারি একই দিন সম্পন্ন করার প্রস্তাব করে। বিনা শুল্কে আনা কাঁচামালসমূহের চাহিদাপত্রসহ সংশ্লিষ্ট দলিলাদি ঠিক থাকলে দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য দ্বিতীয় শুল্কায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করার অনুরোধ করা হয়। আমদানিকৃত পণ্য খালাস পর্যায়ে সন্দেহের কারণে কাস্টমসের এআইআর কর্তৃক আটক করে এবং পরবর্তীতে নথি উপস্থাপনের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় পর সম্পূর্ণ কায়িক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এতে করে সময়ক্ষেপণসহ হয়রানির অভিযোগ করা হয় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে। বিজিএমইএর প্রস্তাবনায় রপ্তানিমুখী পণ্যের জন্য আমদানিকৃত কাপড় দ্রুত খালাসের জন্য জটিলতা পরিহার করার অনুরোধ করা হয়।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এ এম চৌধুরী সেলিম জানান, ২০২১ সালে গার্মেন্টস খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য অর্জনে এ খাতের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালাতে আমদানি পণ্যের খালাসের ক্ষেত্রে সকল বাধা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, কিছু অসাধু লোকের কারণে পুরো সেক্টরকে দায়ী করা যাবে না। এদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণে বিজিএমইএ পিছপা হবে না। তবে তিনি বলেন, বিজিএমইএর ইউডিকে মেনে কাস্টমস তার কার্যক্রম চালাতে হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনের কারণেই ইউডি বিভিন্ন সময় সংশোধন করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম বলেছেন, বিজিএমইএ কর্তৃক বারবার ইউডি পরিবর্তন না করে তা কমিয়ে আনা এবং ইউডি অনলাইনে প্রেরণের জন্য বলা হয়েছে। তাছাড়া কেমিক্যালের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কেমিক্যালের ক্যাটালগ উপস্থাপনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কাস্টমস আইন ও নীতিমালার বাইরে কাজ করবে না। এদিকে কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, কাপড়, কেমিক্যাল এবং এক্সেসরিজ আমদানির ক্ষেত্রে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে অনেক ক্ষেত্রে সত্ ব্যবসায়ীরাও হয়রানির স্বীকার হয়ে থাকেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন