ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
২৮ °সে


পুলিশের ‘ভিলেজ ক্রাইম নোট বুকে’ নেই অপরাধীদের তথ্য

পুলিশের ‘ভিলেজ ক্রাইম  নোট বুকে’ নেই  অপরাধীদের তথ্য

অপরাধীদের অবস্থান গতিবিধিসহ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পারিপার্শ্বিক অবস্থা সংরক্ষণ করার জন্য পুলিশের ‘ভিলেজ ক্রাইম নোট বুক’ (ভিসিএনবি) পদ্ধতি এখন খুব একটা ব্যবহার করা হয় না। ১৮৬১ সালে পুলিশ আইন তৈরির পর থেকে এটি কার্যকর রয়েছে। ভিসিএনবি তদারকি হয় না বলেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে সন্ত্রাসী বা অপরাধীরা—এমনই অভিমত ব্যক্ত করেছেন পুলিশের সাবেক একাধিক কর্মকর্তা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের একজন ওসি (পরির্দশক) বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশের ৯০ শতাংশই ভিসিএনবি কী তা অবগত নয়। যেসব থানার ওসি বিষয়টি অবগত তারাই এটি অনুসরণ করেন। ফলে নয়ন বন্ডের মতো অপরাধীরা আরো ভয়ংকর হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কশিনার (ক্রাইম ও অপারেশন) কৃষ্ণ পদ রায় পুলিশের ভিলেজ ক্রাইম নোট বুক খুব একটা অনুসরণ করা হয় না বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেন, অপরাধীদের ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ভিলেজ ক্রাইম নোট বুক অনুসরণ করতে হবে না—এমন কোনো নির্দেশনাও নেই।

১৮৬১ সালের পুলিশ আইন আধুনিক পুলিশব্যবস্থার মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত এবং এ আইনের অধিকাংশ বিধান এখনো পূর্ণমাত্রায় কার্যকর রয়েছে। আইন অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীর ক্ষমতা, নিয়োগ পদোন্নতি ও বদলি, তদন্ত পদ্ধতি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, গোয়েন্দা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশবাহিনী মোতায়েন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়। ১৮৬১ সালে পুলিশ আইন বাস্তবায়নের পর ১৮৬২ সাল থেকেই থানা পুলিশের ভিলেজ নোট বুক ( ভিসিএনবি) এর কার্যক্রম শুরু হয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক ডিসিডিবি সৈয়দ বজলুর করিম বলেন, অপরাধীদের গতিবিধি, তাদের কর্মকাণ্ড, মহল্লা বা গ্রামের আইনশৃঙ্খলার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে লিপিবন্ধ রেজিস্টারটি আইনের ভাষায় ভিলেজ ক্রাইম নোট বুক। সংক্ষেপে ভিসিএনবি। স্ব স্ব এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধীদের সার্বিক অবস্থা প্রতিনিয়ত ফলো করে ভিসিএনবিতে লিখে রাখবেন। এটি নিয়মিত তদারকি করবেন থানা ওসি এসপিসহ অন্য সিনিয়র কর্মকর্তারা। আর এটি নিয়মিত অনুসরণ করা হলে কোনো মহল্লার অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, তালিকাভুক্ত অপরাধী (যাদের বিরুদ্ধে থানায় একধিক মামলা রয়েছে; কিন্তু তারা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে) অনায়াসে সবকিছু জানা সম্ভব। এমনকি জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা আবারও নতুন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে কি না তা জানা যাবে। আর জামিনপ্রাপ্ত আসামি নতুন করে যে অপরাধে জড়িতে পড়ছে সে বিষয়টিও জিআর পুলিশের (আদালতে দায়িত্ব প্রাপ্ত) মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন। এরফলে জামিনপ্রাপ্ত আসামির জামিন বাতিল হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, অপরাধীদের ডাটাবেজ সরক্ষিত করা হচ্ছে। এটাও নোটবুকের মতোই। তবে নোটবুকের নিয়ম পুরোপুরি অনুসরণ করা গেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা তথ্য আগাম জানা যেত।

মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের একটি থানার ওসি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, বর্তমানে পুলিশের ৯০ ভাগ সদস্য ভিলেজ ক্রাইম নোটবুক সম্পর্কে অবহিত নয়। আর সিনিয়র কর্মকর্তারাও এ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না।

ডাটাবেজ সম্পর্কে তিনি বলেন, অপরাধীদের মধ্যে যারা গ্রেফতার হয়েছে, একাধিক মামলা হয়েছে তাদেরই ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু অপরাধীরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর কী করছে তার কোনো আপগ্রেড থাকে না। অপরাধীদের ডাটাবেজ তৈরির পাশাপাশি ‘ভিলেজ ক্রাইম নোটবুক’ কার্যক্রম থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন