ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
২৭ °সে


বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব নেই

বঙ্গবন্ধু ছাড়া  বাংলাদেশের অস্তিত্ব নেই

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে। দ্য টাইমস অব লন্ডনের ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই। একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের মানুষ শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কাল রাতে ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধুসহ প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিণী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া।

এই মহান নেতার আত্মত্যাগ ও অর্জনকে ১৯৭৫ সালে হত্যার পর নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর সদম্ভে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল খুনিচক্র। দম্ভভরে আত্মস্বীকৃত খুনি মেজর ফারুক বলেছিল ইচ্ছা করলে বাংলাদেশ সরকার আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। সেদিনের সেই দম্ভ বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় ঘোষণার পর ধূলিসাত্ হয়ে গিয়েছিল। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে অন্তিম সময়ে এসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিল এই কুখ্যাত খুনি ও তার দোসররা।

১৯৭৬ সালের ৩০ মে লন্ডনের ‘দি সানডে টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে সৈয়দ ফারুক রহমান স্বীকার করেছিল—বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রে সে জড়িত ছিল। ‘আই হেল্পড টু কিল মুজিব, ডেয়ার ইউ পুট মি অন ট্রায়াল?’ শিরোনামে প্রকাশিত এ নিবন্ধে সে দম্ভের সঙ্গে বলে ‘শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ইচ্ছা করলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।’...‘আমি শেখ মুজিবকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছি।’

২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মধ্য দিয়ে জাতির ইতিহাসের অন্ধকার যুগের অবসান ঘটে। জাতি হয় কলঙ্কমুক্ত। তবে সাধারণ মানুষের মতো সাধারণ আদালতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন হওয়ার সময় লেগেছে এক যুগের বেশি ১৪ বছরের মতো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে অনুমোদন করে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন