ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
৩৩ °সে


৮ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে সংসদ অধিবেশন, নতুন বিরোধী দলীয় নেতা কে?

জাপার পার্লামেন্টারি পার্টির রেজুলেশনসহ চিঠি পেলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে :স্পিকার
৮ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে সংসদ  অধিবেশন, নতুন বিরোধী  দলীয় নেতা কে?

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকাল ৫টায় শুরু হতে যাচ্ছে চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে গতকাল বুধবার এই অধিবেশন ডেকেছেন। এই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ গত ১৪ জুলাই মৃত্যুবরণ করার পর এটাই প্রথম অধিবেশন। ‘বিরোধীদলীয় নেতা’ পদে কে হবেন এরশাদের স্থলাভিষিক্ত? এ নিয়ে জাপায় মতবিরোধ প্রায় প্রকাশ্য। এরশাদপত্নী ও সংসদের বর্তমান বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, নাকি এরশাদের সহোদর ও জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের নতুন বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন—তা নিয়ে জাপায় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের কৌতূহল রয়েছে। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য বলছে, শেষ পর্যন্ত রওশনেরই সংসদে এরশাদের আসনে বসার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আসন্ন অধিবেশনের আগে কিংবা এই অধিবেশন চলাকালেই নতুন বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনে সাংবিধানিক কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিরোধী দল (জাপা) যদি তাদের পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশনসহ আমাকে কোনো চিঠি দেয়, সেক্ষেত্রে স্পিকার হিসেবে আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

নতুন বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে রওশন ও জি এম কাদেরকে কেন্দ্র করে জাপায় বর্তমানে দুটি বলয় সক্রিয়। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের একটি অংশ রওশনকেই বিরোধীদলীয় নেতা করার পক্ষে। তবে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের সিংহভাগ দলের বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেখতে চান। গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে জাপা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের এক যৌথ সভায় অংশ নেওয়া মোট ৩৫ জনের মধ্যে বক্তব্য রাখা ১৭-১৮ জনের প্রত্যেকেই তাদের বক্তব্যে প্রায় অভিন্নভাবে দাবি তুলে বলেছেন, ‘জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান আছেন, থাকবেন; তাকে আমরা চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবেও দেখতে চাই।’

ঐদিন এই দাবি উঠলে যৌথ সভায় সভাপতিত্বকারী জি এম কাদের বলেছিলেন, ‘দল গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হয়, হবে। কে কী হবেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেন পার্টিতে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হতে না পারে। জাপায় হয়তো নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে, তবে কোনো দ্বন্দ্ব বা বিরোধ নেই। পার্টি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’

জানা গেছে, জি এম কাদের যেটিকে বিরোধের বদলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বলছেন, সেটিকেও মেটাতে গত কয়েক দিন ধরে তত্পর ছিলেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রওশনও আগের চেয়ে কিছুটা নমনীয়। যার কারণে মঙ্গলবার জি এম কাদেরকে নিজের গুলশানের বাসায় ডেকে নেন রওশন। এ সময় তারা দুজন অনেকক্ষণ আলাপ করেন। গতকালও রওশনের সঙ্গে জি এম কাদের এবং জাপা মহাসচিব ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার যোগাযোগ হয়েছে। এসব বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের ইত্তেফাককে বলেন, ‘ছোটোখাটো ঝামেলা যেটুকু আছে সেটা ঠিক করতে চেষ্টা করছি, আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে।’

এদিকে রওশনের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে ৬ বা ৭ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনে দলের এমপিদের বৈঠক ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রওশন। সেখানে তিনি নিজে বিরোধীদলীয় নেতা মনোনীত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবেন। সিদ্ধান্ত পক্ষে গেলে সেদিনই স্পিকারকে তিনি চিঠি দেবেন।

তবে এই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার জন্য জাপার প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ কিন্তু পার্লামেন্টারি পার্টির কোনো বৈঠক করেননি। গত ৪ জানুয়ারি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এরশাদ ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন, একাদশ সংসদে তিনি (এরশাদ) বিরোধীদলীয় নেতা এবং জি এম কাদের বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করবেন। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরদিন ৫ জানুয়ারি স্পিকারকে চিঠি দেন এরশাদ। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এরশাদ তার চিঠিতে স্পিকারকে অনুরোধ জানান। পরে এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন স্পিকার। তবে গত ২২ মার্চ জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ, পরদিন ২৩ মার্চ রওশনকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করার জন্য এরশাদ ফের স্পিকারকে চিঠি দেন। স্পিকারও রওশনকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। তবে অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হবে, সাত বা আট কার্যদিবস চলতে পারে। রেওয়াজ অনুযায়ী চলতি সংসদের সদস্য এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে তার ওপর আলোচনা করা হবে। আলোচনা শেষে মরহুম এরশাদের সম্মানে সংসদের ঐদিনের বৈঠক মূলতবি করবেন স্পিকার।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ নভেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার কয়েক দিন আগে থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এরশাদ। দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সা নেন। এরপর গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুর যান, ফিরেন ২৭ ডিসেম্বর। এক দিনও প্রচারণায় যেতে না পারলেও ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি রংপুর-৩ আসন থেকে আবারও এমপি নির্বাচিত হন। গত ৫ জানুয়ারি এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর ২০ জানুয়ারি তিনি আবারও সিঙ্গাপুরে যান, ফেরেন গত ৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি হুইল চেয়ারে গিয়ে তিনি ১৫ মিনিটের জন্য সংসদের অধিবেশনে যোগ দেন। গত ৩০ জানুয়ারি শুরু হওয়া একাদশ সংসদে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঐ এক দিনই সংসদে যান এরশাদ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন