ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


তিন বিচারপতিকে বিচার কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার

দুর্নীতি ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রধান বিচারপতির এ সিদ্ধান্ত : সুপ্রিম কোর্ট  যারা সঠিক পথ অনুসরণ করছেন না তাদের জন্য এটা একটি বার্তা : অ্যাটর্নি জেনারেল
তিন বিচারপতিকে বিচার কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার

দুর্নীতি ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠায় হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে বিচার কাজ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এই সিদ্ধান্ত নেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানো হয়। এতে বলা হয়, হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে তাদের বিচার কাজ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবহিত করার পর ওই তিন বিচারপতি প্রধান বিচারপতির নিকট ছুটি চেয়ে আবেদন করেছেন। ইতোমধ্যে তাদের ছুটির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিচার কাজ থেকে প্রত্যাহার হওয়া হাইকোর্টের তিন বিচারক হলেন, বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক। গতকাল বিজি প্রেস থেকে হাইকোর্ট বিভাগের জন্য প্রকাশিত দৈনন্দিন কার্যতালিকায় এদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিলো না। এই তিন বিচারপতির নাম বাদ দিয়ে মামলার তালিকা ও অন্যান্য বিচারপতিদের এখতিয়ার সম্বলিত দৈনন্দিন কার্যতালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে ওঠে। ওই অভিযোগ উঠার পর আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ একই বেঞ্চে বসে তার সঙ্গে বিচারকাজ পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরে বিচারপতি সিনহা ছুটিতে যেতে বাধ্য হন। ইতোমধ্যে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে একটি মামলাও করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাত:গতকাল বিকালে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার খাস কামরায় গিয়ে সাক্ষাত্ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি আমাকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই উনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও করছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচার বিভাগে যারা সঠিক পথ অনুসরণ করছেন না এই পদক্ষেপটা তাদের জন্য একটা বার্তা। কারণ কোন মন্ত্রী, বিচারপতি বা আমরা সাধারণ মানুষ কেউ আইনের উর্ধ্বে নই। তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, বিচার বিভাগকে কলুষমুক্ত করার জন্য যা যা করার দরকার দৃঢ় হাতে তা তা করা উচিত। বিচারপতি এসকে সিনহা যদি সে সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতেন তাহলে অনেক ভালো হত। এদিকে এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং এটা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির বিষয়।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ কর্তৃক উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের জন্য ৩৯ দফা আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ওই আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, একজন বিচারক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত হওয়া বা কারো কাছ থেকে উপহার, ঋণ বা সুবিধা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকতে পারবেন না। পরিবারের কোন সদস্য আইনজীবী হলে তিনি বিচারকের বাসায় অবস্থান করে পেশাগত কাজ করতে পারবেন না এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিচারকাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন। শুধু বিচার করলেই হবে না, বিচার যে করা হয়েছে সেটাও দৃশ্যমান হতে হবে। কারণ একজন বিচারককে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে যে তিনি জনগণের নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।

কোন প্রক্রিয়ায় তদন্ত ঠিক করবেন প্রধান বিচারপতি

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত হবে প্রধান বিচারপতিই ঠিক করবেন। রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিয়েই তিনি এগুলো করবেন। বিচার বিভাগকে সঠিক পথে রাখার প্রাথমিক দায়িত্ব প্রধান বিচারপতি এবং রাষ্ট্রপতির। বিচার বিভাগের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি। উনি যদি মনে করেন, কোন বিচারপতিকে যেভাবে চলা উচিত, তিনি সেভাবে চলছেন না, তাঁর সম্পর্কে নানা রকম কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এবং জনসাধারণও বলাবলি করছেন, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কি চুপ করে বসে থাকতে পারেন? প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেই হবে। অভিযোগ সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অভিযোগটা অনুসন্ধানের পরেই জানা যাবে। তিন বিচারপতি সম্পর্কে কী অভিযোগ, এ মুহূর্তে জনসম্মুখে প্রকাশ করাটা বিচার বিভাগের জন্য শুভ হবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন