ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


রওশন-কাদের সমঝোতা নিয়ে জাপায় নানা প্রশ্ন

অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে হয়েছে :ফিরোজ রশীদ
রওশন-কাদের  সমঝোতা নিয়ে জাপায় নানা প্রশ্ন

জাতীয় পার্টিতে (জাপা) রওশন এরশাদ ও জিএম কাদেরের মধ্যে সমঝোতার চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে। সংসদের ভেতরে-বাইরে দলের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে কয়েকদিনের টানা-পোড়েনের পর হঠাত্ দুই পক্ষের আপস মীমাংসার নেপথ্য নিয়ে দলের নেতাদের মুখে-মুখে ঘুরছে নানা প্রশ্ন। রওশন ও কাদেরকে ঘিরে গড়ে ওঠা দুটি বলয়ের নেতাদের নিজেদের আলাপনে কান পাতলে এসব প্রশ্ন ভেসে আসে। সমঝোতায় কে হারলেন, কে জিতলেন- সেই বিশ্লেষণও চলছে। তবে সবার আলাপচারিতায় ঘুরেফিরে উঠে আসছে পর্দার অন্তরালের অদৃশ্য খেলার কথা।

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মঙ্গলবার জিএম কাদেরের চিঠি দেওয়া, কাদেরের চিঠিকে ‘ইগনোর’ করতে পরদিন বুধবার স্পিকারকে রওশনের চিঠি, বৃহস্পতিবার রওশনকে জাপার পাল্টা চেয়ারম্যান ঘোষণা; ওইদিনই কাদেরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের যৌথসভা ডাকা এবং দীর্ঘ বৈঠক করে রওশনের পক্ষে সক্রিয় থাকা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও ফখরুল ইমামকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে টালমাটাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় জাপায়। পরদিন শুক্রবার কাদের পার্লামেন্টারি বোর্ডে রংপুর-৩ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার নিয়ে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেন রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াছিরকে।

মঙ্গল থেকে শুক্রবার- এই চারদিনের তুমুল ঝড় থেমে যায় শনিবার মধ্যরাতে। রাত নয়টা থেকে প্রায় পৌনে বারোটা পর্যন্ত রওশন ও কাদেরের পক্ষের পাঁচজন করে ১০ নেতার বৈঠক হয় রাজধানীর বারিধারা ক্লাবে। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন আগের চারদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক নেতা ইত্তেফাককে জানান, বৈঠকের শুরুতেই কাগজ-কলম হাতে নিয়ে রাঙ্গা সবার উদ্দেশে বলেন, ‘নির্দেশনা রয়েছে, রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা, জিএম কাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং সাদ এরশাদ রংপুরে দলীয় প্রার্থী। সবাই স্বাক্ষর করেন, নইলে যারটা যে দেখবেন।’ রাঙ্গার কথার প্রতিবাদ জানান জিএম কাদেরের পক্ষে বৈঠকে যাওয়া জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। রাঙ্গাকে উদ্দেশ্য করে বাবলা বলেন, ‘নো, এক নম্বরে লিখুন-জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যান।’ এসময় রওশনের পক্ষে থাকা দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দলীয় গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে বাবলার বিরোধিতা করেন। আনিসের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন রওশন পক্ষের আরও দুই নেতা মজিবুল হক চুন্নু ও এসএম ফয়সল চিশতি। এভাবে বেশ কিছুসময় বাহাস চলে। পরে রাঙ্গা আবার বলেন, ‘ঠিক আছে জিএম কাদের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কাউন্সিল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এনিয়ে আর কথা বলার সুযোগ নেই।’

বৈঠক শেষে ফয়সল চিশতি ইত্তেফাককে জানান- সাদ রংপুরে দলীয় প্রার্থী হবেন, বৈঠকে এই সমঝোতাও হয়েছে। তবে আবু হোসেন বাবলা জানান, সাদের মনোনয়নের বিষয়ে জিএম কাদের ও রাঙ্গা মিলে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে কথা হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টায় জাপার বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গা বলেন, রওশন বিরোধীদলীয় নেতা ও জিএম কাদের কাউন্সিল পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান- শনিবার রাতে এই সমঝোতা হয়েছে। সাদের বিষয়ে তিনিও বলেন, এ ব্যাপারে তিনি ও কাদের মিলে সিদ্ধান্ত নেবেন। সকালে একথা বলার পর দুপুর আড়াইটার দিকে বনানী অফিস থেকে বের হওয়ার সময় রাঙ্গা ঘোষণা দেন- রংপুরে সাদ এরশাদ আমাদের মনোনীত প্রার্থী। এই ঘোষণায় বনানী কার্যালয়েই তাত্ক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। রংপুরেও জাপার নেতা-কর্মীরা সাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করেন। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাও ঘোষণা দেন, সাদকে রংপুরে প্রতিরোধ করা হবে।

সূত্রের দাবি, গণভবন হয়ে তারপরে বারিধারা ক্লাবে মধ্যরাতের ওই বৈঠকে যান মসিউর রহমান রাঙ্গা। কাদেরপন্থি কয়েক নেতা জানান, সমঝোতার লক্ষ্যে যখন ওই বৈঠক চলছিল তখন উত্তরার বাসায় অবস্থান করা জিএম কাদেরকে উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছিল।

সমঝোতার অংশ হিসেবে রওশনকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা করতে রবিবার নিজে গিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেন জিএম কাদের। একইসঙ্গে তিনি তাকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করার জন্যও চিঠি দেন। রওশনও তাকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে পৃথকভাবে স্পিকারকে চিঠি দেন। বিরোধী উপনেতার বিষয়ে চিঠি না দিলেও, কাদেরের চিঠির প্রতিবাদ করেননি রওশন। সমঝোতা হওয়ায় রওশনকে বিরোধীদলীয় নেতা ও কাদেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে গতকাল সোমবার স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। এব্যাপারে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি ও অদৃশ্য খেলা অনুধাবন করতে পেরে কাদেরের পক্ষে সোচ্চার থাকা নেতারা তেজীভাব পরিহার করে চুপচাপ হয়ে গেছেন। কাদেরের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়া কাজী ফিরোজ রশীদ গতকাল তার কলাবাগান অফিসে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আমি শুধু একটা কথাই বলবো- অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছি। শুক্রবার পার্লামেন্টারি বোর্ডে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার শেষে আমরা এসএম ইয়াছিরকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করি, সবাই মিলে তার মনোনয়নে স্বাক্ষরও করেছিলাম। ইয়াছিরকে বলা হয়েছিল কাজ শুরু করতে। কিন্তু এখন আর কিছু বলার নেই!’

দল মনোনয়ন দিলেও রংপুরে সাদকে প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত ছিলেন সাবেক এমপি ও এইচএম এরশাদের ভাতিজা মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, এসএম ইয়াসির ও মেয়র মোস্তফা এবং তাদের তিনজনের কর্মী-সমর্থকরা। দল মনোনয়ন না দিলেও সাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে লড়ার পূর্ব ঘোষণা দেন আসিফ ও ইয়াছির। এনিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল রংপুরে। এরমধ্যেই গতকাল সাদকে সঙ্গে করে রংপুর যান রাঙ্গা। বেলা পৌনে তিনটার দিকে রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এরশাদ-রওশনের পুত্র সাদ।

শো-ডাউন করে সাদ মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও গতকাল স্থানীয় নেতা-কর্মীরা কেউ আর প্রতিবাদ জানাননি। রহস্যজনক কারণে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সবাই নিরব ছিলেন। বরং দুপুরে রংপুরের সেন্ট্রাল রোডে দলীয় কার্যালয়ে কর্মীসভা করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দেন স্থানীয়ভাবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াছির। এমনকি সাদের পক্ষে কাজ করারও ঘোষণা দেন তিনি। রবিবার রাতে নগরীর আদর্শপাড়ায় নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা ঘোষণা করেন জাপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। ইয়াছিরের মতো রাজ্জাকও ঘোষণা দিয়ে বলেন, তিনি সাদের পক্ষে কাজ করবেন। অবশ্য স্বতন্ত্রভাবে লড়তে আসিফ গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ভাষার বদলে হঠাত্ সাদের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে এসএম ইয়াছির বলেন, ‘এটা না করে কোনো উপায় ছিল না। সব কথা তো আর বলা যায় না।’ উদ্বিগ্ন ও আক্ষেপের কণ্ঠে ইয়াছির বলেন, ‘যদি এটাই হবে তাহলে পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল কেন? কেন আমাকে চূড়ান্ত করে এখন সবাই চুপ হয়ে গেলেন? যিনি (সাদ) দলের কাছে মনোননফরম জমা দেননি এবং সাক্ষাতকারও দেননি দল শেষ পর্যন্ত তাকেই প্রার্থী ঘোষণা করলো!’

জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বে গঠিত আট সদস্যের পার্লামেন্টারি বোর্ডই এসএম ইয়াসিরকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছিল। কিন্তু জিএম কাদেরও গতকাল বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এসময় জিএম কাদের বলেন, ‘আমরা যারা কমিটিতে ছিলাম, তারা বসে আলোচনা করেছি এবং তার বাইরেও কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে আমরা খোলামেলা আলোচনা করেছি। সার্বিক বিবেচনায়, সবকিছু হিসাব করে আমরা তাকে (সাদ) নমিশেন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আশা করি, দল যেহেতু মনোনয়ন দিয়েছে, নেতাকর্মীরা তাকে বিজয় করতেই কাজ করবে। আসনটি জাপার হাতেই থাকবে।

রংপুরে সাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাদের অবস্থানের বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, দলের অনেকের অনেক প্রত্যাশা থাকে। অনেকের অনেক রিঅ্যাকশনও থাকে। কেউ কেউ দল থেকে চলে যেতে চায়, কেউ কেউ দল ছেড়ে চলেও যায়। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমরা আশাবাদী যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের প্রার্থীর পেছনে কাজ করবে এবং তাকে জয়ী করে আনবে।

সাদের জয় নির্বিঘ্ন করতে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও জানান জিএম কাদের। এব্যাপারে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা বলতে পারছি না। হবে না, এটাও বলতে পারছি না। এ বিষয়ে আমরা কথা বলার চেষ্টা করছি, আলাপ-আলোচনা কিছুটা করেছি। আমরা এখনও ঐকমত্যে আসতে পারিনি। আমরা কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি, উনারাও বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত হয়তো আর দুই চারদিন পর প্রত্যাহারের দিনের মধ্যেই আমরা এব্যাপারে নিশ্চিত হব।

শনিবারের সমঝোতার বৈঠকের নেপথ্যে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, জানতে চাইলে জাপা চেয়ারম্যান বলেন- আমাদের দল আমরা চালাই, নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করি। সব প্রতিকূল অবস্থাতেই আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করি। আমাদের কেউ পরিচালিত করছে, এটা ঠিক না।

সমঝোতায় কার লাভ, কার ক্ষতি- দলের নেতাদের মধ্যে এনিয়ে আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জিএম কাদের বলেন, মতবিরোধ যে কোনো বড় উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারত। তাই দ্বন্দ্ব ঠেকাতে আমি একটা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি করেছিলাম। জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। শনিবার রাতের সমঝোতা বৈঠকে কারও পরাজয় হয়নি। দলের সকলের বিজয় হয়েছে। আমরা পরস্পরের ভাই হিসেবে ছিলাম, আমরা এখনও পরস্পরের ভাই আছি, সামনেও থাকব। আমাদের এই উদ্যোগের ফল খুব ভালো হয়েছে, অত্যন্ত শুভ হয়েছে এবং সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। আমরা সামনে যদি এটা ধরে রাখতে পারি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের সামনে আর কোনো প্রতিবন্ধকতাকে প্রতিবন্ধকতা বলে মনে হবে না।

এদিকে, গতকাল রংপুরে সাদের মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সেখানে সংবাদ সম্মেলনে জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, শনিবার রাতের বৈঠকেই আমি দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি এককভাবে চেয়ারম্যানের উপর ছেড়ে দিই, পরে তিনিই সাদকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন। এক প্রশ্নের জবাবে রাঙ্গা বলেন, এই আসনে যারা জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তাদের সবার সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে, সবাই সাদকে সমর্থন জানিয়েছেন। এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ারের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে রাঙ্গা বলেন, এরশাদ সাহেব তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। আসনটি জাপাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এব্যাপারে সংসদে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি। আশা করি প্রধানমন্ত্রী সেটা বিবেচনা করবেন।

অন্যদিকে, রওশনের সঙ্গে সমঝোতা করে রংপুরে সাদকে প্রার্থী করায় এতদিনের সঙ্গীদের হারাতে বসেছেন জিএম কাদের। গত কয়েকদিন ধরে জিএম কাদেরের পাশে দলের সিংহভাগ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেলেও গতকাল তার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখযোগ্য মাত্র দুই নেতা। কাদেরের দুই পাশে ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম ও সোলায়মান আলম শেঠ। এছাড়া রওশন-কাদের সমঝোতা করে নিজেরাই দলের ও সংসদের পদ-পদবি ভাগাভাগি করে নেওয়ার কারণেও সংক্ষুব্ধ উভয় বলয়ের নেতারা। রওশন ও কাদের পন্থী হিসেবে পরিচিতি একাধিক নেতা ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, শেষ পর্যন্ত রওশন ও জিএম কাদের দুইজনেই দলের-সংসদের সকল পদ-পদবি ভাগাভাগি করে নিলেন, রংপুরেও পরিবারের সদস্যকে মনোনয়ন দিলেন। তাহলে অন্য নেতাদের কেন এতদিন পক্ষ-বিপক্ষ বানিয়ে তাদেরকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করানো হলো, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন