ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


ব্রিটেনে পার্লামেন্ট স্থগিত অবৈধ : আদালত

ব্রিটেনে পার্লামেন্ট স্থগিত অবৈধ :  আদালত

ব্রিটেনে পার্লামেন্ট স্থগিতকে অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। গতকাল স্কটল্যান্ডের শীর্ষ বেসামরিক আদালত এই রায় দিয়েছে। রায়ের পরই পার্লামেন্ট ফের চালুর দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিদ্রোহী ও বিরোধীরা এমপিরা। এর আগে সোমবার রাতে আগাম নির্বাচন ইস্যুতে দ্বিতীয়বারের ভোটাভুটিতেও হেরে যান প্রধানমন্ত্রী। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং না যাওয়ার বিষয়ে বরিসের সামনে চারটি বিকল্প খোলা আছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর বিবিসি ও সিএনএনের

বরিসের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

স্কটল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন সেখানকার একদল রাজনীতিক। তারা এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদন করেছিলেন। এর রায়ে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এক রায়ে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী বরিসের পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অবৈধ। এমনকি তার রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে রাজি করানোর বিষয়টিও অবৈধ। কারন তিনি পার্লামেন্টকে অবজ্ঞা করতেই এমন কাজ করেছেন। বিচারকরা বলেন, ব্রেক্সিট ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহিতার জায়গাকে সচল রাখতে চাননি বলেই প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালতের এই রায় প্রধানমন্ত্রী বরিসকে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। সরকার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই রায়ে হয়তো সরকারকে এখনই পার্লামেন্ট সচল করতে হবে না। তবে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডোমিনিক গ্রিভ বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে, রানিকে ভুল বুঝিয়ে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট স্থগিত করেছেন তাহলে তাকে (প্রধানমন্ত্রী) অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।

পার্লামেন্ট চালুর দাবি এমপিদের

সরকারের সিদ্ধান্তে মঙ্গলবার থেকে ৫ সপ্তাহের জন্য স্থগিত পার্লামেন্ট ফের খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী এমপিরা। স্কটল্যান্ডের আদালতের রায়ের পরই তারা এই দাবি জানান। বুধবার বিকেলে বিরোধী এমপিদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে আরো সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে এসএনপির নেতা আয়ান ব্ল্যাকফোর্ড পার্লামেন্ট পুনরায় সচল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রকে চুরমার করতেই পার্লামেন্ট স্থগিত করেছেন।

বরিসের সামনে বিকল্প চার

পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে এ পর্যন্ত ছয়বার বিভিন্ন প্রস্তাবে অনুষ্ঠিত ভোটে হেরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি পার্লামেন্ট স্থগিত করে দিতে পারেন, সাময়িক সময়ের জন্য হলেও তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। তবে বছরের এই সময়টাতে সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সম্মেলন করে থাকে, ফলে পার্লামেন্ট এই সময়ে সাধারণত বন্ধই থাকে। কিন্তু পাঁচ সপ্তাহের মতো দীর্ঘদিন না এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা আশা করাও উচিত নয় যে এত দীর্ঘ সময় ধরে পার্লামেন্ট বন্ধ থাকবে। বিবিসির রাজনীতি বিষয়ক সংবাদদাতা রব ওয়াটসন বলছেন, জনসনের হাতে মূলত চারটি বিকল্প উপায় আছে। এর যেকোন একটিকে তার বেছে নিতে হবে। প্রথমত : ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ইইউ ত্যাগ করা, দ্বিতীয়ত : ইইউ’র সঙ্গে নতুন চুক্তি, তৃতীয়ত : প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ ও সাধারণ নির্বাচন দেওয়া এবং চতুর্থত : সোমবার রাজকীয় সম্মতি পাওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবরের মধ্যে এমপিরা চুক্তিসমেত অথবা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে সম্মতি না দিলে, প্রধানমন্ত্রীকে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্রেক্সিট পেছানোর জন্য সময় চাইতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন